নতুন ভ্যাট আইনেই প্রস্তাব চায় এনবিআর

মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ১১:০১ ঘণ্টা

ব্যবসায়ীদের তীব্র আপত্তির মুখে কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া নতুন ভ্যাট আইনের আলোকে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগ। ২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর নতুন ভ্যাট আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হয়। এর আগে দুই দফা পেছানোর পর গত বছরের জুলাই থেকে আইনটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। আইনে কয়েকটি ক্ষেত্রে অব্যাহতি দিয়ে সব পণ্য ও সেবায় ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বসানোর কথা বলা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের তীব্র আপত্তির মুখে সরকার শেষ মুহূূর্তে আইনটি বাস্তবায়ন আরো এক দফা পিছিয়ে দেয়। এবার আগামী বছরের জুলাই থেকে আইনটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

মূসক আইন ও বিধির দ্বিতীয় সচিব মো. তারেক হাসানের স্বাক্ষর করা চিঠিতে নতুন আইনে বাজেট প্রস্তাবনার কথা বলা হয়েছে। যা বিভাগের সব কমিশনারেটে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নতুন ভ্যাট আইনের যেসব ধারায় ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানিয়েছেন তা নিয়ে এনবিআরকে সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আগামী বাজেটে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসন কল্পে প্রতি অর্থবছর বাজেটে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় এনবিআরের মূল্য সংযোজন কর অনুবিভাগ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ হাতে দেওয়া হয়েছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা ২০১৬ এবং দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট অ্যাক্ট ১৯৪৪ অধীনে প্রতিষ্ঠানের সুচিন্তিত মতামত, প্রস্তাব ও সুপারিশ ছক অনুযায়ী পাঠাতে হবে। আগামী ৭ মার্চের মধ্যে পাঠাতে হবে।

সূত্র জানায়,সম্প্রতি এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন। ওই বৈঠকে ভ্যাট আইনের যেসব ধারায় ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানিয়েছেন তা নিয়ে এনবিআরকে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসে সমাধান করতে নির্দেশনা দেন।

এদিকে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, নতুন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইন আগামী ২০১৯ সালের জুলাই থেকে বাস্তবায়ন করা হবে। আইনে কিছুটা সংস্কার আনা হচ্ছে। সব পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করার বিষয়টি একটু অসুবিধা হয়ে যায়, কয়েকটি স্তর হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে রাজস্ব আদায়ের প্রধান খাত হলো ভ্যাট বা মূসক (মূল্য সংযোজন কর)। নতুন আইন বাস্তবায়ন, সেবা প্রদান ও মূসক আদায় হবে অনলাইনে। ফলে, সনাতনী মূসক আইনে হয়রানির অভিযোগবিহীন করদাতারা পাবেন নতুন ২০টি সুবিধা। সুবিধাগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্যগুলো হলো নতুন আইনে পণ্যেও মূল্য ঘোষণার ঝামেলা নেই। বিদ্যমান আইনে ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল পণ্যের মূল্য ঘোষণা, যা নতুন আইনে থাকছে না। ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বা সেবা যে মূল্যে বিক্রি করবেন, সে মূল্যেই মূসক পরিশোধ করবেন। এ মূল্যের মধ্যেই মূসক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নতুন আইনে চলতি হিসাব রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে না। চলতি হিসাবের জটিলতা নেই। ফলে ব্যবসায়ীদের অগ্রিম কর পরিশোধ করতে হবে না। রেয়াত গ্রহণ পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ করা হয়েছে। নতুন আইনে উপকরণ কর রেয়াতের পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে। রেয়াত পাওয়া যাবে আগের তুলনায় অনেক বেশি। আমদানিতে বিল অফ এন্ট্রি, সরবরাহ ক্ষেত্রে চালানপত্র, উৎসে কর কর্তনের ক্ষেত্রে সমন্বিত চালানপত্র এবং উৎসে করসংক্রান্ত সনদ দাখিল করলে রেয়াত পাওয়া যাবে। রিটার্ন দাখিলে মূসক অফিসে যেতে হবে না। যে কোনো সময় অনলাইনে দাখিল করা যাবে। দাখিল করা রিটার্নে ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। নতুন আইনে ব্যাংকে না গিয়ে অনলাইনে মূসক পরিশোধের ব্যবস্থা থাকছে। ট্রেজারি চালান ছাড়াও ব্যাংক ও অনলাইনের মাধ্যমে মূসক প্রদান করা যাবে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিস্তিতে মূসক পরিশোধ করার সুযোগ থাকছে। মূসক পরিশোধের পেমেন্ট কপি করদাতা ও বিভাগীয় দফতর সংরক্ষণ করবে। রিফান্ড পদ্ধতি অনলাইনে করা হয়েছে। অনলাইনে রিফান্ড পাওয়া যাবে। রিফান্ড গ্রহণের ক্ষেত্রে ছয় মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। কমিশনারেট ও বিভাগীয় অফিসে ‘ট্যাক্স পেয়ার সার্ভিস সেন্টার’ থাকবে। সেখানে ছোট ছোট গ্রুপ করে কমিশনাররা করদাতাদের অভিযোগ শুনে সমাধান দেবেন।

জানা যায়, বর্তমান মূল্য সংযোজন কর আইনে ২১ সেবা খাতে সঙ্কুচিত ভিত্তি মূল্যের ভিত্তিতে ভ্যাট আদায়ে ৯টি স্তর রয়েছে। কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সহজীকরণের লক্ষ্যে ৯টি স্তর কমিয়ে পাঁচটি করা হয়েছে। এই হার গুলো হচ্ছে ২, ৪, ৫, ৫, ৭ এবং ১০ শতাংশ।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…