কর দিলেই মিলবে ট্যাক্স কার্ড: অর্থমন্ত্রী

রবিবার, ১৮ মার্চ ২০১৮ ১৫:২৮ ঘণ্টা

নাগরিকরা যে কোন পরিমাণ কর দিলেই ট্যাক্স কার্ড পাবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। রবিবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি এক টাকাও ট্যাক্স দেন, তার জন্যও ট্যাক্স কার্ড করা হবে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীকে আগামী বাজেটে করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন সংসদ সদস্যরা। এছাড়াও কর ব্যবস্থার সংস্কার করে ব্যক্তিগত আয়ের করসীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা, ব্যক্তিগত আয়ের সর্বোচ্চ শ্রেণির জন্য করের পরিমাণ কমানো, সকল নাগরিকের জন্য ট্যাক্স কার্ডের প্রচলন করা, ভ্যাট ও করের আওতা বাড়ানোসহ বেশ কিছু সুপারিশও করেন তারা।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতের দূরবস্থা, শিক্ষার গুণগত মান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি ও চিকিৎসক সঙ্কট নিয়েও আলোচনা হয়।

ট্যাক্সের রেট কমিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, এতে সবাই ট্যাক্স দিতে উৎসাহিত হবে। ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কর মওকুফের আবেদনও জানান তিনি।

পরিবেশবান্ধব গ্রীন ফ্যাক্টরি উপকারিতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের ট্যাক্স ছাড় দেয়া প্রয়োজন। যাতে অন্যরা পরিবেশ উপযোগী গ্রীন ফ্যাক্টরি করতে পারে। এসময় তিনি বিদ্যুৎ  ও পানির অপচয় রোধ করার জন্য সব জায়গায় সেন্সর প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দেন।

বন ও পরিবেশ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাছান মাহমুদ বলেন, কর জাল গত নয় বছরে বাড়লেও মাথাপিছু আয়ের তুলনায় করের আদায় কম। করের আদায় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে সবার জন্য বিনামুল্যে ট্যাক্স ফাইল করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, ব্যক্তিগত ট্যাক্স উপরের দিকে অনেক বেশি। ফলে অনেকেই ট্যাক্স ফাঁকি দেন। এটা কিছুটা কমানো হলে অনেকেই ট্যাক্স দিতে উৎসাহিত হবেন। আবার অনেক ব্যবসায়ী জনগণের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করলেও সরকারি কোষাগারে জমা দেয় না। ভ্যাট আদায় বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মীর শওকত আলী বাদশা উপকূলীয় মাছ চাষ উন্নয়নে আরও বেশি বরাদ্দের দাবি জানান। এছাড়া বাণিজ্যিকভাবে হরিণ চাষের অনুমতি দিতে সরকারে প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শওকত আলী বলেন, বাণিজ্যিকভাবে হরিণ চাষ করলে মাংসের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সুন্দরবনে চোরাই হরিণ শিকারের সংখ্যাও কমে আসবে।

সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি বলেন, কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা গ্রামে থাকেন না। উচ্চশিক্ষার অজুহাত এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) পরিচয়ে চিকিৎসকরা কর্মস্থলে থাকেন না। ঢাকায় চলে আসেন। এটা চরম বাস্তবতা। দেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা হাসপাতালগুলোর মধ্যে আমার উপজেলা কাপাসিয়ার অবস্থান আট নম্বরে। এতো ভালো অবস্থানের পরেও আমার উপজেলায় চিকিৎসক ধরে রাখতে পারি না। চিকিৎসক সঙ্কট দূর করার জন্য সরকারকে গভীরভাবে বিষয়টি দেখতে হবে।

অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রাক বাজেট এ আলোচনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতিরা ছাড়াও সংসদ সদস্য আ ফ ম রুহুল হক, মকবুল আহমেদ, মেজর জেনারেল সুবিদ আলী ভূঁইয়া, জাহিদ আহসান রাসেল, রেবেকা মোমেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…