হেফাজতে ইসলাম নির্বাচনে কাউকে সমর্থন দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবেনা বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমেদ শফী। 

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একটি ধর্মীয় সংগঠনের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে এ কথা বলেন আল্লামা শফী। তার হয়ে লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করেন হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নুরু উদ্দিন।

এতে হেফাজত আমির বলেন, আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। প্রচলিত রাজনীতির সঙ্গে আমার কোনও সংশ্লিষ্টতাও নেই। তাই আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করবেন না। হেফাজতে ইসলাম একটি ধর্মভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন। নির্বাচনে হেফাজত কাউকে সমর্থন দেয়নি। দেবেও না। তবে নির্বাচনে যাতে নাস্তিকরা জয়যুক্ত হতে না পারে সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন, কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিদান হিসেবে সরকারকে ধন্যবাদ জানানো মানে কওমীদের বিক্রি করে দেয়া নয়। সরকারকে ধন্যবাদ দেয়ার অর্থ এই নয় যে, নীতি ও আদর্শচ্যুত হয়ে গেছি। কওমী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। কওমী সনদ স্বীকৃতি বিল সংসদে পাশ হওয়ার পর একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। তারা বলছে, আমি আওয়ামী লীগ হয়ে গেছি। যারা এ অপপ্রচার করছে তারা মিথ্যাবাদী।

হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবিতে আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি ও হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা আন্দোলন এক নয়। ১৩ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ আনিসুল ইমলাম মাহমুদ বলেন, ‘রাজনৈতিক কোন উদ্দেশ্য নিয়ে সরকার কওমীদের স্বীকৃতি দেয়নি। মুলত কওমী সমাজের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে।

অভিন্ন দাবি ও লক্ষ্য অর্জনে ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট। এর আগে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে ঘোষিত দফা ও লক্ষ্য এবং বিএনপির সমাবেশে ঘোষিত দলীয় দফা ও লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে মিল রেখে এসব দফা ও লক্ষ্য নির্বাচন করা হয়েছে বলে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন।

ঘোষিত ৭ দফা হচ্ছে:

১. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদাসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।

২. গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

৩. বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

৪. কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের অভিযোগে ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালো আইন বাতিল করতে হবে।

৫. নির্বাচনের ১০ দিন পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।

৬. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোটকেন্দ্র, পোলিং বুথ, ভোট গণনা স্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশের ওপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ না করা। নির্বাচনকালীন গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর যেকোনও ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে।

৭. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও কোনও ধরনের নতুন মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

ঘোষিত ১১টি লক্ষ্য:

১. মহান মুক্তি সংগ্রামের চেতনাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান স্বেচ্ছাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসান করে সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক, শোসনমুক্ত ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা। এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক নির্বাহীক্ষমতার অবসান কল্পে সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়নসহ প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ ও ন্যায়পাল নিয়োগ করা।

২.৭০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের যুগোপযোগী সংশোধন করা। জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাসহ সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানসমূহের গুরুত্বপূর্ণ পদে  নির্দলীয়, নিরপেক্ষ,সৎ-যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দানের জন্য সাংবিধানিক কমিশন ও সাংবিধানিক কোর্ট গঠন করা।

৩. বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের নীতমালা প্রণয়ন ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা।

৪.  ‍দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা। দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন।

৫.দেশে বিনিয়োগ ‍বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি, বেকারত্বের অবসান ও শিক্ষিত যুবসমাজের সৃজনশীলতাসহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়োগ দানের ক্ষেত্রে মেধাকে যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কোটা সংস্কার করা।

৬. সকল নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তার বিধান করা। কৃষক, শ্রমিক ও দরিদ্র জনগণের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।

৭.জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কালো থাবা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন করা।

৮. রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, জনগণের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বন্টন, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণ ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। নিম্ন আয়ের মানবিক জীবন মান নিশ্চিত করা এবং দ্রব্যমূলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন-মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা।

৯. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল এবং কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। কোনও জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়া।

১০. ‘সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব-কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’-এই নীতির আলোকে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করা এবং প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে পারস্পরিক সৎ-প্রতিবেশী বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিবে ব্যবসা বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

১১. বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে ফেরত ও পুনর্বাসনের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার এবং দেশের সার্বোভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় নিরপত্তা সুরক্ষার লক্ষে প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমর-সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা। 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ডিভিশন বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।  খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন তার আইনজীবী বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে উপর্যুক্ত আদেশ দেন। অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম জিয়াকে ৫ বছরের সাজা…
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। সোমবার দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে তিনি এ মামলা করেছেন। নাজমুল হুদার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শামীম আহসান মামলার তথ্য জানিয়েছেন।
Page 1 of 40
We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…