ভারত-পাকিস্তানে ‘স্পাই ম্যালওয়্যার’ হামলা

সোমবার, ২৮ আগস্ট ২০১৭ ২২:২৩ ঘণ্টা

ভারত ও পাকিস্তানে বিশেষ ধরনের ‘স্পাই ম্যালওয়্যার’ (গুপ্তচর ভাইরাস) হামলা চালানো হয়েছিল। আর এ হামলা পরিচালিত হয়েছে কোনো একটি দেশের মদদে। 

সিমেনটেক করপোরেশন নামে ভারতের একটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান তাদের এক গোপন প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে।

ডোকলাম ইস্যুতে ভারত ও চীনের মধ্য সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্য উত্তেজনার মধ্যই এমন খবর প্রকাশ পেল। ভারত ও পাকিস্তানে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে এ হামলা চালানো হয়। তবে ভারত ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ হামলার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

সিমেনটেক বলছে, যে ধরনের ‘স্পাই ম্যালওয়্যার’ ছড়ানো হয়েছে, তা অবশ্যই কোনো না কোনো একটি দেশের মদদে পরিচালিত হয়েছে। এটি ভারত এবং পাকিস্তান, উভয় দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ অভিযানটি সাইবারবিষয়ক বিভিন্ন পক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তবে যারা এসব ভাইরাস তৈরি করে এবং যাদের মাধ্যমে ছড়ানো হয়, তারা উভয়ই একই স্বার্থ নিয়ে কাজ করেছে। এ ধরনের অভিযান কোনো একটি দেশের পক্ষে পরিচালনা করার কথা বলা হলেও দেশটির নাম রয়টার্সের খবরে উল্লেখ করা হয়নি।

সিমেনটেকের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি জনসমক্ষে এ বিষয়ে কিছু বলতে চায় না। তদন্ত ও গবেষণাটি চুক্তিভিত্তিক কাজের অংশ হিসেবে করা হয়েছে। সে কারণে চুক্তিকারী কর্তৃপক্ষ ছাড়া এ বিষয়ে তারা কারও কাছেই কোনো তথ্য দেবে না।

সিমেনটেক খুঁজে পেয়েছে, যারা বা যে দেশ এ হামলা চালিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তার বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত নথিপত্র। এ নথিগুলো ছিল সামরিক বিষয়, কাশ্মীর এবং ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আন্দোলন সম্পর্কিত।

স্পাই ম্যালওয়্যার (গুপ্তচর ভাইরাস) ফাইল আপলোড এবং ডাউনলোড, ফাইল প্রক্রিয়া, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং স্ক্রিনশট নেওয়ার অনুমতি দেয়। সিমেনটেক বলছে, অ্যান্ড্রয়েডচালিত যন্ত্রগুলো এ হামলার শিকার হয়েছে।

ঘন ঘন সাইবার আক্রমণের কারণে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত সাইবার হামলা প্রতিরোধ ও শনাক্তে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে। এই কেন্দ্রটি ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (সিইআরটি-ইন) দ্বারা পরিচালিত।

সিআরটি-ইনের মহাপরিচালক গুলশান রাই সিমেনটেকের প্রতিবেদনের ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, ‘সাইবার হামলার ব্যাপারে সিঙ্গাপুর আমাদের সতর্ক করার পর গত বছরের অক্টোবরে আমরা নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করি। তবে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেননি।’

পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও সাইবার হামলা-সংক্রান্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…