১০০ রোগীকে হত্যা করেছেন এই সিরিয়াল কিলার!

বৃহস্পতিবার, ০১ নভেম্বর ২০১৮ ১৩:৪৭ ঘণ্টা

জার্মানির কুখ্যাত সাবেক সিরিয়াল কিলার নার্স নিলস হোগেল ১০০ রোগীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। অল্ডেনবুর্গ আদালতে মঙ্গলবার হোগেলের বিরুদ্ধে মামলার শুনানির শুরুতেই তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। তত্ত্বাবধানে থাকা ছয় রোগীকে হত্যার অভিযোগে ৪১ বছর বয়সী এ পুরুষ নার্স ইতোমধ্যেই জার্মানিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

এর মধ্যেই ১০০ জনকে হত্যার কথা স্বীকার করে হোগেল বলেছেন, ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি অল্ডেনবুর্গ শহরের হাসপাতালে ৩৬ জন এবং কাছের ডেলমেনহোর্স্ট শহরের হাসপাতালে ৬৪ রোগীকে হত্যা করেছেন। সর্বনিম্ন ৩৪ থেকে সর্বোচ্চ ৯৬ বছর বয়স পর্যন্ত রোগীদের খুন করেন হোগেল।

হত্যার শিকার রোগীদের স্বজনরা মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের বিচারক ১০০ রোগী হত্যায় তিনি জড়িত কি না জানতে চাইলে হোগেল বলেন, ‘হ্যাঁ’। এ স্বীকারোক্তি দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়ংকর ধারাবাহিক খুনিতে পরিণত হলেন হোগেল। আগামী বছরের মে পর্যন্ত এ মামলার শুনানি চলতে পারে। জার্মানির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল।

তদন্ত কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, হোগেল হয়তো আরো অনেককে হত্যা করেছেন। একটি ভিকটিম সাপোর্ট গ্রুপের প্রধান বলেন, আশা করি প্রতিটি হত্যার জন্যই সে দোষী সাব্যস্ত হবেন।

হোগেল হাসপাতালের যে ইউনিটে কাজ করতেন সেখানে তার শিকারদের দেহে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগ করতেন। এতে হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে বা শরীরে রক্তচাপ কমে রোগী মারা যেত। ঊর্ধ্বতনদের কাছে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে কিংবা একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে হোগেল এ কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন কৌঁসুলিরা।

২০০৫ সালে ডেলমেনহোর্স্টে এক রোগীকে চিকিৎসক দেননি এমন একটি ইনজেকশন প্রয়োগ করতে গিয়ে হোগেল প্রথম ধরা পড়েন। ২০০৮ সালে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তার সাত বছরের কারাদন্ড হয়। তার অপরাধের বিস্তৃত জানতে ২০১৪ সালে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নতুনভাবে তার বিচার শুরু হয়।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…