মিয়ানমারের ঋণ স্থগিত করেছে বিশ্বব্যাংক

সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৭ ১৪:৩৪ ঘণ্টা

মিয়ানমারের রাখাইনেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনির বর্বরতার কারণে মিয়ানমার সরকারকে অর্থ সহায়তা স্থগিত করেছে  আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা সংস্থা- বিশ্বব্যাংক। 

২ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দেয়ার কথা ছিল বিশ্বব্যাংকের। কিন্তু, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি বিশ্লেষণের পর ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের এক বিবৃতিতে অর্থ সহায়তা স্থগিতের কথা জানান। 

সংস্থাটি বলে, ‘আমরা সম্প্রতি অনুমোদিত উন্নয়ন নীতির শর্তাদি মূল্যায়ন করেছি এবং ঋণের কার্যকারিতা অর্জনের জন্য আরও অগ্রগতি প্রয়োজন বলে আমরা আশা করছি।’

ঋণ স্থগিতের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অ-বৈষম্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং সকলের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগের মৌলিক নীতির জন্য একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে, আমরা রোহিঙ্গাদের সহিংসতা, ধ্বংস ও জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

রোহিঙ্গা সংকটের পশ্চাদপদতা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ সড়ক এবং সকল জাতিগত গোষ্ঠী ও ধর্মের অন্তর্ভুক্তি, বিশেষ করে রাখাইন রাজ্য।

দীর্ঘ দিনের বৈষম্য, হত্যা ও নির্যাতনকে কেন্দ্র করে গত ২৫ আগস্ট মুসলিম রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংঘাত শুরু হয়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হন। এরপর নিড়িহ রোহিঙ্গাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন শুরু করে সামরিক জান্তা। সহিংসতার হাত থেকে বাঁচতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। শরণার্থীর স্রোত এখনও অব্যাহত আছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিপীড়ন চলে আসছে কয়েক দশক ধরে। গত ২৫ অাগস্টে পর এখন পর্যন্ত ৫ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…