পাকিস্তানের আরেক প্রধানমন্ত্রীর পতন

মঙ্গলবার, ০২ জানুয়ারী ২০১৮ ১৮:৪৭ ঘণ্টা

ক্রিকেট বিশ্বে পাকিস্তানকে বলা হয় ‘আনপ্রেডিক্টেবল টিম’। যারা খাদের কিনারা থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে পারে, আবার নিশ্চিত জয়ের অবস্থান থেকে হেরেও যেতে পারে। এ দলটির অধিনায়কের পদও নাকি ‘মিউজিক্যাল চেয়ারের’ মতো।

দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পদও কি এমন? ৭০ বছর বয়সী দেশটির জাতীয় পরিষদের ওয়েবসাইটে সাবেক-বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নামের তালিকায় ২৮টি নাম যেন সেটাই সমর্থন করে। যেখানে সর্বশেষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম যুক্ত হয়েছে নওয়াজ শরিফের।

গত বছরের ২৮ জুলাই পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেন নওয়াজ। দেশটির তিনবারের নির্বাচিত এই প্রধানমন্ত্রী নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের উৎস আদালতকে জানাতে ব্যর্থ হন। পানামা পেপারসে ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা যায়, নওয়াজ পরিবার বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করে কর্তৃপক্ষ। আদালতের রায়ের দিনই পদত্যাগ করেন নওয়াজ। যদিও তাঁর দল মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এখনো ক্ষমতায় আছে।

তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে প্রতিবারই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ক্ষমতা ছাড়তে হয় নওয়াজকে। প্রথমবার তিনি ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তার পরেরবার ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত। এবার ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। প্রথমবার ও শেষবার তিনি ক্ষমতা হারান দুর্নীতির অভিযোগে। দ্বিতীয়বার ১৯৯৯ সালে রক্তপাতহীন সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন নওয়াজ।

নওয়াজ শরিফ । এএফপির ফাইল ছবি

নওয়াজ শরিফ ।

এএফপির ফাইল ছবিপাকিস্তানের বেসামরিক সরকারের প্রধানমন্ত্রীরা কেউই মেয়াদ পূরণ করতে পারেননি। এর মধ্যে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান চারজন। আর ক্ষমতায় থাকতেই খুন হন দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান। সামরিক আদালতের রায়ে প্রাণদণ্ড হয় জুলফিকার আলী ভুট্টোর।

দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত দায়িত্ব নেন ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট; মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডিতে খুন হন। তার পরদিনই খাজা নাজিমুদ্দিন প্রধানমন্ত্রিত্ব পান। দুই বছর না যেতেই ১৯৫৩ সালের ১৭ এপ্রিল তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করেন তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গুলাম মোহাম্মদ। ওই দিন দেশটির তৃতীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ আলী। দুই বছরের কিছু বেশি সময় পর ১৯৫৫ সালের ১২ আগস্ট গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা তাঁকে বরখাস্ত করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন চৌধুরী মোহাম্মদ আলী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ইব্রাহিম ইসমাইল, ফিরোজ খান নূন, নুর-উল-আমিন, জুলফিকার আলী ভুট্টো, মোহাম্মদ খান, বেনজির ভুট্টো, গুলাম মুস্তফা খান, নওয়াজ শরিফ, বালাখ শের মাজারি, মইন কুরেশি, মালিক মেরাজ খালিদ, জাফরুল্লাহ খান জামালি, চৌধুরী সুজাত হোসেন, শওকত আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া সুমরো, ইউসুফ রাজা গিলানি, রাজা পারভেজ আশরাফ, মির হাসার খান খোসো ও শহিদ খাকান আব্বাসী। এর মধ্যে বেনজির দুবার ও নওয়াজ তিনবার এই দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ পাঁচ বছর মেয়াদের। তাহলে ৭০ বছরে ২৮ জনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করাটা তো ‘মিউজিক্যাল চেয়ারের’ মতোই!

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…