যেসব দেশের মানুষ বেশি পরিশ্রম করে

মঙ্গলবার, ০৮ মে ২০১৮ ২২:২৩ ঘণ্টা

জন্মহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রতি সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৬৮ থেকে কমিয়ে ৫২ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। গত মার্চে দেশটির জাতীয় সংসদ ওই আইন পাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, কর্মঘণ্টা কমলেও মজুরি সমন্বয় করা হবে।

বিশ্বের অর্থনীতি নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থা ওরগানাইজেশন ফর ইকোনোমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডিভলোপমেন্ট (ওইসিডি) বলছে, উন্নত দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মঘণ্টা সবচেয়ে বেশি।

নতুন এই আইন আগামী জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তবে পর্যবেক্ষণের জন্য প্রথমত এটা শুধু বড় কোম্পানিগুলোতে চালু করা হবে।

ব্যবসায়ীরা বিরোধিতা করলেও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার বলছে, এই আইন মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্র তৈরি ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করবে।

দেশটির সরকার আরো মনে করে, কোরিয়ায় শিশু জন্মহার যেভাবে কমেছে তা প্রতিহত করতেও এই আইন কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

ওইসিডি’র ২০১৬ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবছর দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ গড়ে ২ হাজার ৬৯ ঘণ্টা কাজ করে। যা বিশ্বের দীর্ঘ কর্মঘণ্টাগুলোর একটি।

গবেষণাটি ৩৮ দেশের উপর করা হয়েছিল। যার মধ্যে শুধু মেক্সিকোতে বছরে ২ হাজার ২২৫ ঘণ্টা এবং কোস্টারিকাতে ২ হাজার ২১২ ঘণ্টা শ্রমিকদের কাজ করানো হয়।

শুধু দক্ষিণ কোরিয়াতেই শ্রমঘণ্টা বেশি এমন নয়। জাপানেও এই সমস্যা রয়েছে। সেখানে কাজের চাপে অনেক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। যা জাপানি ভাষায় বলা হয় ‘কারোসি’। কাজের চাপে যদি কোনো শ্রমিক হার্ট অ্যাটার্ক কিংবা স্টোকজনিত কারণে মারা যায় তাহলে সেটা ‘কারোসি’ আইনে মামলা হয়।

ওইসিডি বলছে, জাপানে প্রতিবছর গড়ে ১ হাজার ৭১৩ ঘণ্টা কাজ করে মানুষ। তবে ওভারটাইম কত ঘণ্টা তা নিরূপন করা সম্ভব হয়নি।

২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে জাপান সরকার শুধু ‘কারোসি’ মামলাই রেকর্ড করেছে ১ হাজার ৪৫৬টি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে- এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে। 

আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের (আইএলও) মতে, এশিয়ার অধিকাংশ দেশেই শ্রমিকদের বেশি খাটানো হয়। প্রায় ৩২ শতাংশ দেশেই আন্তর্জাতিক শ্রম আইন মানে না। ২৯ শতাংশ দেশ সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় শ্রমিকদের খাটায়। শুধুমাত্র ৪ শতাংশ দেশ আন্তর্জাতিক আইন মান্য করে শ্রমিকদের ৪৮ ঘণ্টা কাজ করায়।

এদিকে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ৩৪ শতাংশ মানুষকে আন্তর্জাতিক আইনে কাজ করানো হয় না।

মধ্যপ্রাচ্যে আইনিভাবেই দীর্ঘ কর্মঘণ্টা চালু। ১০টি দেশের মধ্যে ৮ দেশেই সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় শ্রমিক খাটানোর নিয়ম রয়েছে।

ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই সর্বনিম্ন কর্মঘণ্টা চালু। শুধু বেলজিয়াম ও তুরস্কে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা কাজ করে শ্রমিকরা।

কিন্তু, অফ্রিকার তিন ভাগের এক ভাগ শ্রমিক সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করে। শুধু তানজানিয়ায় এই সংখ্যা ৪০ শতাংশ।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…