কিডনির পাথরে করণীয়

মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১৫:৫০ ঘণ্টা

কিডনি দেহের রক্ত পরিশোধনের অঙ্গ। আমরা যে খাবার খেয়ে থাকি তার পুষ্টি সরাসরি আমাদের দেহে পৌঁছায় না। খাবার গ্রহণের পর তার একটি অংশ কিডনি থেকে রক্তে যায়। রক্তের মাধ্যমে পুরো দেহে পুষ্টি সঞ্চালিত হয়। এছাড়াও শরীরে জমে থাকা অনেক রকম বর্জ্যও কিডনিতে পরিশোধিত হয়। কিডনির নানা সমস্যার মধ্যে বড় সমস্যা হচ্ছে পাথর হওয়া। যদি কোনো কারণে কিডনিতে খনিজ পদার্থ আটকে যায় বা যে কোনো ব্যাকটেরিয়ার কারণে কিডনি দেহের বর্জ্য ঠিকমতো পরিশোধিত করতে না পারে তখন তা কিডনির ভেতরে জমা হতে থাকে। একেই আমরা কিডনির পাথর হিসেবে জানি।

কী কারণে কিডনি সঠিক কাজ করতে পারে না তা জানেন কি?

লেবুজাতীয় খাবার কম খাওয়া : লেবু, কমলা, মালটা এ রকমের সাইট্রাস ফল কম খাওয়ার কারণে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারণ এ ফলমূলে থাকে সাইট্রেট, যা কিডনিতে পাথর হওয়া রোধে সহায়তা করে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এ ধরনের ফল অবশ্যই রাখবেন। যদি তেমন কিছু নাও পান তাহলে পানিতে লেবু চিপে পান করতে পারেন। তবে অবশ্যই তা পরিমিত পর্যায়ে পান করবেন।

পালংশাক বা অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া : পালং শাকে বেশি মাত্রায় অক্সালেট থাকে। অক্সালেট দেহের ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে যায় এবং মূত্রনালির মাধ্যমে বের হয়ে যায়। এতে করে দেহে অক্সালেটের মাত্রা বেড়ে যায়, যা কিডনিতে পাথর হিসেবে জমা হতে থাকে।

ক্যালসিয়ামের অভাব : দেহে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে তা কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। খাবারে পরিমিত ক্যালসিয়াম না থাকা এবং ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ না হওয়ার কারণে কিডনিতে পাথর জমার আশঙ্কা প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

অতিরিক্ত পরিমাণে লবণ খাওয়া : অনেকেই খাবারে অনেক লবণ খান, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কারণ লবণের সোডিয়াম খুব সহজে কিডনি দূর করতে পারে না এবং তা কিডনিতে জমা হতে থাকে। এছাড়াও অতিরিক্ত সোডিয়ামসমৃদ্ধ খাবারের কারণেও কিডনিতে পাথর জমার আশঙ্কা বাড়ে।

মাইগ্রেনের সমস্যা ও ব্যথানাশক ওষুধ সেবন : যারা মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন তারা মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পেতে ওষুধ সেবন করেন। এ ওষুধের সবচেয়ে বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিডনিতে পাথর জমার আশঙ্কা। কারণ এ ধরনের ওষুধ মূত্রনালির পিএইচের মাত্রা বৃদ্ধি করে থাকে, যা কিডনিতে পাথর জমতে সহায়তা করে। অতিরিক্ত সোডা অর্থাৎ কোমল পানীয় পান করা : অতিরিক্ত পরিমাণে কোমল পানীয় পানের কারণেও কিডনিতে পাথর জমে। এ ধরনের কোমল পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস থাকে, যা মূত্রকে অ্যাসিডিক করে তোলে। এছাড়াও এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। এ অস্বাস্থ্যকর চিনিও কিডনিতে পাথর জমার জন্য দায়ী।

পরিমিত পানি পান না করা : কিডনির কাজ হচ্ছে দেহের বর্জ্য ছেঁকে দেহকে টক্সিনমুক্ত করা। এ কাজটি কিডনি করে পানির সহায়তায়। যদি আপনি পানি পরিমিত পান না করেন তাহলে কিডনি সঠিকভাবে দেহের বর্জ্য দূর করতে না পারলে কিডনিতে পাথর হিসেবে জমা হতে থাকে। সুতরাং পরিমিত পানি পান করুন।

এসব কারণে কিডনিতে পাথর জমার আশঙ্কা অনেক বেশি, সুতরাং সাবধান থাকা জরুরি। এছাড়াও যাদের পরিবারের ইতিহাসে কিডনির সমস্যা রয়েছে তারা আরো সতর্ক থাকুন। কারণ তাদের কিডনির সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় বেশি থাকে।

লেখক : কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…