ছোট্ট শিশুর গোসল

মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৭ ২২:২৩ ঘণ্টা

 তানভীর হাসান,ডেইলি মুন্সীগঞ্জ ডট কমঃ ঋতু পরিবর্তনের সময়টাতে শিশুরা সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। মা-বাবার বাড়তি চিন্তা এ কারণেই। যেমন ধরা যাক নবজাতক থেকে শুরু করে ৪-৫ বছর পর্যন্ত শিশুর গোসল করার সময়টা। গোসল করানোর প্রস্তুতি থেকে কাপড় পরানো পর্যন্ত খেয়াল করতে হবে বেশ কিছু বিষয়। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের মতো নয়। সহ্যশক্তিতেও বলীয়ান নয় সে। এ কারণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য গোসলের গুরুত্ব প্রশ্নাতীত। তবে সুস্থতার জন্য কখনো আবার গোসল না করাটাই হতে পারে স্বাস্থ্যকর বিষয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, ‘নবজাতকের সহজেই ঠান্ডা লেগে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই নবজাতকের গোসলের ক্ষেত্রে সাবধানতা প্রয়োজন।’ তিনি জানালেন, জন্মের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোনো শিশুকেই গোসল করানো উচিত নয়। পূর্ণ গর্ভকাল পেরোনো শিশুকে এই সময়ের পর গোসল করানো যায়। তবে যেসব শিশু পূর্ণ গর্ভকাল পার হওয়ার আগেই জন্ম নিয়েছে, তাদের কখন গোসল করানো যাবে, এটি চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।

আরেকটু বেশি বয়সের শিশুদের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোহেলা আখতার জানালেন, হালকা ঠান্ডা আবহাওয়ায় শিশুদের রোজ গোসল করানো যেতে পারে। তবে খুব বেশি ঠান্ডা পড়লে এক দিন পরপর গোসল করানো ভালো।

নবজাতকের গোসল

নবজাতকের জন্য প্রয়োজন কুসুম গরম পানি। খুব বেশি সময় ধরে নবজাতককে পানিতে রাখা ঠিক নয়। দুপুরের দিকে অর্থাৎ যখন রোদ বেশ ভালোভাবে থাকে, সেই সময়টাতে নবজাতককে গোসল করানো ভালো। পূর্ণ গর্ভকাল পেরোনো শিশুদের জন্মের ৩ দিন পর থেকে ১৫ দিন বয়স পর্যন্ত সপ্তাহে এক দিন গোসল করানো যেতে পারে। এরপর থেকে এক দিন পরপর গোসল করানো যায়। তবে যারা পূর্ণ গর্ভকাল পেরোনোর আগেই জন্ম নিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তাদের প্রথম গোসলের পর থেকে প্রতি সপ্তাহে ১-২ বার গোসল করানো উচিত। গোসলের সময় শিশুর উপযোগী সাবান লাগানো যাবে, এতে কোনো বাধা নেই। গোসলের আগে তেল মালিশের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবেসর্ষের তেল ব্যবহার করা উচিত নয়। এটি শিশুর জন্য ক্ষতিকর।

খোলা হাওয়ায় গোসল?

গ্রাম-বাংলায় নবজাতককে উঠানের সোনালি রোদে গোসল করানোর প্রচলন রয়েছে। এতে কোনো ক্ষতি নেই, বরং রোদে গোসল করানো শিশুর জন্য ভালো। শহরের বাড়িতে বারান্দায়ও গোসল করানো যায় নবজাতককে। তবে ঠান্ডা হাওয়া বইলে বাইরে গোসল না করানোই ভালো। এমনকি এ ক্ষেত্রে নবজাতককে গোসল করানোর সময় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ঠান্ডা হাওয়াকে আটকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।

চুল নিয়ে ব্যস্ত?

শিশুকে গোসল করানোর সময় শ্যাম্পু করানো যেতে পারে। চটজলদি শ্যাম্পু ধুয়ে ফেলুন। খেয়াল রাখতে হবে, যেন খুব বেশি সময় ধরে শিশুকে পানির সংস্পর্শে রাখা না হয়। নবজাতকের চুল কাটানোর জন্য ব্যতিব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই। দেড় থেকে দুই মাস বয়সের আগে শিশুর চুল কাটাতে নিষেধ করলেন তোফাজ্জল হোসেন খান। এমনকি আরও একটু বেশি বয়সে চুল কাটালেও কোনো ক্ষতি নেই। কম বয়সী শিশুর চুল কাটাতে গেলে সহজেই তার শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা হারিয়ে ফেলে।

গোসলের পর

গোসলের পরপরই শিশুর মাথা ও শরীর ভালোভাবে মুছে ফেলুন। শিশুকে ভেজা অবস্থায় রাখবেন না। ১৫ দিনের বেশি বয়সী শিশুদের আলতোভাবে শরীর মুছিয়ে দেওয়ার পর শিশুর ত্বকের উপযোগী লোশন লাগিয়ে দিতে পারেন। ১৫ দিন বয়স হওয়ার আগে কোনো ধরনের তেল, লোশন বা পাউডার ব্যবহার করা উচিত নয়।

একটু বড় হলে

একটু বড় শিশুর গোসলের জন্যও কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত মাত্রায় উত্তপ্ত পানি শিশুর জন্য ভালো নয়। গোসলের সময় শিশুর উপযোগী সাবান লাগানো ভালো। সপ্তাহে ১-২ দিন শ্যাম্পু লাগাতে পারেন। তবে যেসব শিশু স্কুলে যায়, তাদের সহজেই মাথা ও চুল ময়লা হয়ে যায়।  গোসলের পর শিশুর ত্বকের উপযোগী লোশন বা জলপাই তেল লাগাতে পারেন।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…