মেডিটেশন করুন, চিন্তা ও চাপমুক্ত থাকুন

সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ ১১:১৩ ঘণ্টা

মেডিটেশন কতটা উপকারী? এর ক্ষতিকর কোনও দিক আছে কি? নিয়মিত মেডিটেশন করা উচিৎ কি? আমরা যারা স্বাস্থ্য সচেতন তাদের মনে এমন প্রশ্ন উঁকি দিতেই পারে। তবে একটা বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা যায়- মনে শান্তি আনার উদ্দেশ্যে, ধৈর্য্য, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মেডিটেশন একমাত্র উপায়। 

আমরা অনেকেই পড়াশোনা শেষ করেই হুটহাট করে চাকরিজীবনে প্রবেশ করি। দীর্ঘদিনের শিক্ষাজীবনের সঙ্গে অভ্যস্ততা কাটিয়ে হঠাৎ অফিস কিংবা কর্মস্থলে নিজেকে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে। অনেক সময় তা কঠিন হয়ে উঠে।

তবে এসব চাপজনিত টেনশন-বিষণ্ণতা ও চাপ থেকেও মনকে প্রশান্ত রাখার জন্য মেডিটেশনের কোনও জুড়ি নেই।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, রোজ মেডিটেশন সব ধরনের মানুষের জন্য, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য দারুন কিছু সুফল বয়ে নিয়ে আসে। শুধু তাই নয়, নানা ধরনের মানসিক চাপ মোকাবেলা করতে এবং শিক্ষার্থী জীবনটাকে আরো আনন্দপূর্ণ করে তোলে নিয়মিত মেডিটেশন চর্চা। শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন গবেষণা থেকে বেশ চমকপ্রদ ফলাফল পাওয়া গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ছাত্রজীবনে প্রায় সবাই বেশ চিন্তাগ্রস্ত থাকে। একজন শিক্ষার্থী যেসব চাপ, দুশ্চিন্তা এবং বিষণ্ণতায় ভোগে—তা দূর করার জন্য মেডিটেশন হলো সবচেয়ে ভালো সমধান। 

গবেষকরা বলছেন, এটেনশন ডেফিসিট হাইপার-এক্টিভিটি ডিস-অর্ডার হচ্ছে এক ধরনের মানসিক সমস্যা, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ দেখা যায়। এক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এত বেশি মাত্রায় সিরিয়াসনেস কাজ করে যে, কোনো একটা বিশেষ কাজে তারা মন দিতে পারে না। ফলাফল হলো শুধুই অস্থিরতা।

যাদের এ ধরনের সমস্যা আছে, তাদের জন্য মস্তিস্কের কর্মক্ষমতা এবং মনোযোগ বাড়াতে মেডিটেশন খুবই ভালো একটি প্রক্রিয়া। 

এ বিষয়ে বিস্তর গবেষণা চালিয়েছে চার্লস ড্রিউ ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই।  সেখানে দেখা গেছে, যেসব শিক্ষার্থীরা মেডিটেশন করেছে তাদের মধ্যে বিষণ্নতার উপসর্গগুলো অনেক কমে গেছে। কন্ট্রোল গ্রুপের তুলনায় ৪৮% কম।

অতএব সব ধরনের চিন্তা ও চাপমুক্ত থাকতে নিয়মিত নিয়ম মেনে মেডিটেশন করা উচিৎ। যা আপনাকে দিতে পারে আনন্দ আর শান্তিপূর্ণ জীবন। 

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…