গজারিয়ায় প্রতিবন্ধি যুবতী ধর্ষণ: ধর্ষক গাজার মামলায় কারাবাস!

রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ ১৪:৫৪ ঘণ্টা

ডেস্ক রির্পোট, ডেইলি মুন্সীগঞ্জ ডট কমঃ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের রগুরচর পূর্বপাড়া ৭নং ওয়ার্ডে প্রতিবন্ধী ও ইয়াতীম যুবতী ধর্ষণের শিকার। গত ২৭ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ৯টায় প্রতিবন্ধী মেয়েটির নিজ ঘরে ধর্ষনের শিকার হয়। ধর্ষক পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দুই স্ত্রী ও দুই সন্তানের জনক ইউনুছ আলী (৪০)। শুক্রবার ১৭ নভেম্বর ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় লোকজন জানান, এ ধরনের একটি প্রতিবন্ধী ইয়াতীম মেয়েকে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করলো আর এটার বিচার হলো না। স্থানীয় যুবসমাজ ইউনুছ আলীকে ধরে ২৮ অক্টোবর শনিবার দুপুর ২টার সময় পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পুলিশ ধর্ষক ইউনুছ আলীকে ধর্ষণের মামলা না দিয়ে গাঁজার মামলা দিয়ে কোর্টে চালান দেয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউনুছ আলীর দুই স্ত্রী, একজন ঢাকায়। সেই ঘরে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। স্ত্রী সন্তান নিয়ে রঘুরচর গ্রামের নিজ বাড়ীতে বসবাস করে। ধর্ষিতা পারুলের (১৮) মা আর দুই বোন আছে। বাবা আনোয়ার হোসেন অনেক আগেই মারা গেছেন। মা সুপার বোর্ড কারখানায় চাকুরী করেন।

ঘটনার দিন ধর্ষিতার মা প্রতিদিনের মতো সকালে নাস্তা করে বাড়ি থেকে প্রতিবন্ধী মেয়েকে ঘরে রেখে কর্মস্থলে যান। ঐ দিন ইউনুছ আলী সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঘরে প্রতিবন্ধী পারুলকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রঘুরচর পূর্বপাড়ার যুবসমাজ ইউনুছ আলীর বিচারের দিন ধার্য করে স্থানীয় মাদবর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে বসার কথা থাকলেও ইউনুছ আলী পালিয়ে যেতে পারে এই ভয়ে স্থানীয় একটি ক্লাবের সদস্যগণ ধর্ষক ইউনুছকে ধরে পুলিশ খবর দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।

এ ব্যাপারে হোসেনদী ইউপির ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোক্তার হোসেনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন,আমি ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে এলাকা বাসিসহ ধর্ষক ইউনুছকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করি। কিন্তু পরে গজারিয়া থানার এস আই তুষার ধর্ষক ইউনুছকে গাঁজার মামলার আসামী করে কোর্টে প্রেরন করে।

গজারিয়া তদন্ত কেন্দ্রের এ এস আই তুষার এর সাথে ফোন আলাপকালে তিনি বলেন ধর্ষনের ঘটনা সত্য, ধর্ষক ইউনুচ কে থানায় সোপর্দ করেছে এলাকার জনতা। পরে থানা থেকে তাকে কোন মামলায় কোর্টে প্রেরন করা হয়েছে তা আমি জানিনা কারন আমি র‌্যাব হেড কোয়াটারে বদলী হয়ে চলে এসেছি।

এ ব্যাপারে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, এলাকার লোকজন ইউনুছ কে থানায় সোপর্দ করেছিল কিন্তু কোন বাদী না পাওয়ায় তাকে মাদক মামলার আসামী করে মুন্সীগঞ্জ কোর্টে প্রেরন করেছি।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…