কাল থেকে শুরু হচ্ছে মুন্সীগঞ্জে ইজতেমা

বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ১২:০৯ ঘণ্টা
Author :  

জসীম উদ্দীন দেওয়ান, ডেইলি মুন্সীগঞ্জ ডট কমঃ মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী ও ইছামতি নদীর পাড়ে প্রায় ছয় লাখ বর্গফুট এলাকার পাঁচটি ময়দান জুড়ে কাল থেকে শুরু হচ্ছে তাবলীগ জামাতের তিন দিনের আঞ্চলিক এজতেমা। বৃহস্পতিবার ফজর নামাজের পর থেকে শুরু হয়ে শনিবার ১২ টার দিকে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এজতেমার এই আসর। লক্ষাধিক মুসল্লিদের জন্য আয়োজিত এই এজতেমাকে ঘিরে সকল সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মিরকাদিম পৌরসভার পাঁচটি বিশাল আকারের মাঠে লাখো মুসল্লিদের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে এজতেমা ময়দান। আল্লাহ ও রাসুলকে রাজি- খুশি করাতে সেচ্ছায় এসেই স্থানীয় তাবলীগ জামাতের সাথীরা গোটা সপ্তাহ জুড়ে দিন রাতের পুরোদমে সময় দিয়ে প্রস্তুত করেছেন এই ময়দান গুলো। পাঁচটি মাঠকে চারটি ভাগে ভাগ করে ছয়টি উপজেলার মুসল্লীদের জন্য সুনিদিষ্ট ভাবে ভাগ করে দিয়ে প্রতিটি ময়দানের জন্য আলাদা জিম্মাদার নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে বলে জানান, এজতেমার মাঠ পরিচালক ও প্রধান জিম্মাদার ফজলুল হক।
তিনি আরো জানান,ইসলামী কায়দায় সমাজ গড়তে এই আয়োজনে তারা পুরোপুরি সফল হবে বলে মনে করেন সে এবং এই এজতেমা শেষে এই ময়দান থেকেই তাবলীগের তিনশ টিম পাঠাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ফজলুল হক আরো জানান, প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পরিবারের কর্তা ব্যাক্তিরা সুখে শান্তিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে জীবন যাপন করবে এটাই তাঁদের মূল উদ্দ্যেশ্য।

এদিকে এজতেমা নিরাপদ ও সফল করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনকে দেখা যাচ্ছে এজতেমা এলাকায় এসে ময়দান ঘুরে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে। সব শেষ মঙ্গলবার দুপুরে এজতেমার আয়োজক এবং পুলিশ প্রশাসনের লোকদের নিয়ে ময়দান এলাকার আশে পাশে ঘুরে বেড়ান মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন। তিনি সে সময় রাস্তার পাশে অর্থাৎ ফুটপাতে থাকা সকল দোকান সড়িয়ে নেবার জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে এজতেমায় যারা মেহমান হিসেবে আসবেন, তাদেরকে জানানদেন এই বলে যে, মিরকাদিমের মানুষ সব সময় অতিথীপরায়ন, সকলের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেখার দায়িত্ব আমাদের। আমাদের সকলকে নিয়ে এই এজতেমা সফল করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম বলেন, এজতেমার ময়দানগুলো জুড়ে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার চার শতাধিক সদস্য, ৮টি সিসি ক্যামেরা, একটি ওয়াচ টাওয়ার থাকবে। এছাড়া এখানে থাকবে ৩ টি মেডিক্যাল ক্যাম্প, ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট থাকার পাশাপাশি রয়েছে ৩৫০ টি প্রসাবখানা, ৫১২টি টয়লেট।সাবমার্চ ৮ট মোটরের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, নদীর তীর ছাড়াও গোসল করার জন্য ১৪ টি বাত হাউজের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে, রয়েছে ওযুর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। ৮০ টি মাইক ব্যবহার কর মূল বয়ানের মঞ্চ থেকে প্রতিটি মাঠে শব্দ সম্প্রচার চলবে একযুগে। পাঁচটি মাঠের প্যান্ডেলকে আলোকিত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে দুই হাজার লাইট।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…