প্রশ্নপত্রের ফাঁসের ঘটনায় আটককৃতদের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৮:৩২ ঘণ্টা
Author :  

নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেইলি মুন্সীগঞ্জ ডট কমঃ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বুধবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের ইদ্রাকপুর ১নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সদর উপজেলা পরীক্ষা পরিচালনা এবং সমন্বয় কমিটির সদস্য মো. সাহাবউদ্দিন বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় আইসিটি আইনে মামলা করে।

প্রশ্নপত্রের ফাঁসের ঘটনায় আটককৃত ৯ জনকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পুলিশ তাদের আদালতে পাঠায়। মুন্সীগঞ্জ ১নং আমলী আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী বৃহস্পতিবার আসামিদের রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আদালত বৃহস্পতিবার প্রশ্নপত্রের ফাঁসের ঘটনায় আটককৃতদের ২দিন রিমান্ড মঞ্জুর করে।

আটককৃতরা হলেন- কাজিম (২২), রফিকুল (২১), রতন মিয়া (২৪), আব্দুর রহিম (২১), কামরুল হাসান (২২), মোস্তাফিজুর রহমান (২০), মো. রিয়াজ (২০), শাখাওয়াত হোসেন (২২) ও জাকির হোসেন (২৫)। আটককৃতদের বাড়ি নেত্রকোনা, পটুয়াখালী, জামালপুর ও রংপুর জেলায়। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত শহরের দক্ষিণ ইসলামপুর, উত্তর ইসলাম ও খালইস্ট এলাকার বিভিন্ন মেস থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। আটককৃতরা মুন্সীগঞ্জ সরকারি হরগঙ্গা কলেজের বিভিন্ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

অন্যদিকে, বুধবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সদরের দেওভোগ এলাকা থেকে দুইজনকে আটকের খবর পাওয়া যায়।

পুলিশ সূত্রে জানাযায়,  জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানার নির্দেশে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ শহরের বিভিন্ন মেসে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোনে রাখা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযান চলমান আছে। প্রশ্নপত্রের ফাঁসের ঘটনাটি গুরুতের সাথে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাযায়, প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তারকৃতদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যবেক্ষণ করে প্রশ্নপত্রের নমুনা এবং বিতরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এইসব প্রশ্নপত্র অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। আটককৃতরা বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়ান বলে তারা শিক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্ন তুলে দেন। এই ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন বালা বলেন, নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করে নতুন সময়সূচি দিয়ে পরীক্ষার দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। স্থগিত সকল পরীক্ষাগুলো ১৭ ডিসেম্বর হতে পারে।

উল্লেক্ষ যে, গতমঙ্গলবার দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ১১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষা স্থগিত করেদেন জেলা প্রশাসন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের অভিযানে সরকারী হরগংগা কলেজের অনার্স পড়ুয়া ৯ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় বছিরুন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক খন্ডকালীন শিক্ষিকা ফারিয়া হোসেনকে বুধবার দুপুরে আটক করা হয়। ১২ তারিখ সকাল ১০টা থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম থেকে চতুর্থ শ্রেনীর পরীক্ষা নেবার কথা থাকলেও। ১১ তারিখ রাতে তাঁর কাছে প্রশ্ন ফাঁসের প্রমান আসে, এর পর ১২ তারিখে ২য় শ্রেনী থেকে চতুর্থ শ্রেনীর বাংলা পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এই ঘটনায় ১২ তারিখ রাতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ম্যাস থেকে অনার্সে পড়ুয়া নয়জন শিক্ষার্থীকে আটক করে তাদের কাছে সকল পরীক্ষার প্রশ্ন পাবার কারণে সকল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…