সৎ মা গলা টিপে হত্যা করে সামিরকে: সিরাজদীখানে শিশুর মৃত্যু

রবিবার, ১৮ জুন ২০১৭ ১৪:৪৫ ঘণ্টা Author :  

ডেস্ক রির্পোট, ডেইলি মুন্সীগঞ্জ ডট কমঃ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার পশ্চিম রাজদিয়া গ্রামে আট বছরের শিশু সামির হোসেনের মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। সৎমা সুমাইয়া আক্তার শিশুটিকে গলা টিপে হত্যার পর বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে রাখে। ঘটনার সাত দিন পর শনিবার সুমাইয়াকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে।

গত ১১ জুন বাড়ির পাশের ডোবা থেকে সামিরের লাশ উদ্ধার করা হয়। সামির রাজদিয়া গ্রামের সেনাসদস্য আরিফ হোসেন হীরার ছেলে। সুমাইয়া আরিফের দ্বিতীয় স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুরে সুমাইয়া আক্তারকে বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নেওয়ার পর হত্যার ঘটনার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে। বিকেলে থানা হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, ঘটনার সাত দিনের মাথায় শিশু সামির হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ সফলতা দেখিয়েছে। আজ রোববার সুমাইয়াকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

সিরাজদীখান থানার এসআই হানিফ সরকার জানান, গত ১১ জুন সকালে সুমাইয়া প্রথমে সামিরকে মারধর করে। এতে সে কান্নাকাটি করতে থাকলে তার গলা টিপে ধরে সুমাইয়া। এতে শ্বাসরোধে ঘটনাস্থলেই সামির মারা যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সুমাইয়া বাড়ির পাশের ডোবায় সামিরের মরদেহ ফেলে দেয়; যাতে সবার মনে হয়, সামির পানিতে ডুবে মারা গেছে। এসআই হানিফ আরও জানান, সামিরের সাত-আট মাস বয়সে তার মায়ের সঙ্গে বাবার বিচ্ছেদ হয়। সামির তার বাবা আরিফের কাছে ছিল। এর পর আরিফ সুমাইয়াকে বিয়ে করেন। বর্তমানে সুমাইয়া অন্তঃসত্ত্বা।

সিরাজদীখান থানার ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান জানান, ডোবা থেকে সামিরের লাশ উদ্ধারের সময় শরীরের নিচের অংশ পানিতে আর ওপরের অংশ পাড়ে ছিল। চোখ ও গালের নিচে হালকা আঁচড়ের দাগ ছিল। ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হলে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পাশাপাশি তদন্ত অব্যাহত রাখা হয়।

সমকাল

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…