কীসের ভয়ে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে না, প্রশ্ন আব্বাসের

রবিবার, ০১ অক্টোবর ২০১৭ ১৯:৪০ ঘণ্টা

‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে কীসের ভয়ে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে না’ এমন প্রশ্ন রেখে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার ব্যর্থ। তাদের যে ভূমিকার নেয়ার কথা সেটা নিতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে ওবায়দুল কাদের (আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক) রাশিয়া ও চীনের দ্বিচারী ভূমিকায় মর্মাহত হচ্ছেন। অথচ ভারত যে দ্বিচারী ভূমিকা নিয়েছে তাতে তিনি মর্মাহত হননি। কারণ তারা ভারতকে এতো দিলেন, কম দেননি। ট্রানজিট, নৌ রুট, এটা-সেটা...। শুধু তাই নয় ভারত আরও কী কী চাইবে সেই অপেক্ষায় আছেন।’

রবিবার (০১ অক্টোবর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজ তলায় এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মিয়ানমারে যখন জাতি নিধন শুরু হয় তখন ভারত বললো আমরা মিয়ানমারের পাশে আছি। এখন ভারত বলেছে রোহিঙ্গাদের সমস্যায় আমরা বাংলাদেশের পাশে আছি। ভারতের এমন অবস্থান খুবই মারাত্মক। এটার জন্য বাংলাদেশ সরকারের উচিত ছিল প্রতিবাদ করা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের কারো পাশে থাকার দরকার নেই, আমাদের মিয়ানমার ইস্যুতে পাশে চাই।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত, চীন, রাশিয়ার সমর্থন পাওয়া যাবে না। যাদের সমর্থন পাওয়া যাবে, তারা হলো বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ। তাদের উপর ভরসা করেই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবো। আজ না হয় কাল।’

বিএনপির এই নেতা  বলেন, ‘১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে মিয়ানমারের ৩০ হাজার সৈন্যের বিরুদ্ধে আমাদের আড়াই হাজার সৈন্য রোহিঙ্গাদের ৩ কিলোমিটারের সীমানার ভিতরে ডুকিয়ে দিয়ে ছিল। পরবর্তীতে মিয়ানমার সরকার আমাদের সরকারের হাত পায়ে ধরে আপোষ করতে বাধ্য হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আজকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্য বাংলাদেশ সরকারে সেই অবস্থান নিতে পারছেন না। পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জী যে ভাষায় কথা বলেন, আমাদের সরকার কেন সেই ভাষায় কথা বলতে পারছে না। কিসের ভয়? বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ রোহিঙ্গাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, সেখানে কিসের ভয়?’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের শরণার্থীদের জন্য ২২ ট্রাক ত্রাণ নিয়ে গেয়েছিলাম সেটা নিয়ে সরকার কি করছে তা সকলেরই জানা আছে। আমরা এখন অন্যভাবে ত্রাণ দিচ্ছে। টিউবওয়েল ও স্যানিটারির কথা আওয়ামী লীগ ভাবেন নাই। আমরা শুরু করেছি। অতঃপর তারা আমাদের অনুকরণ করছে। ওই এলাকার ছাত্র ভাইয়ের দুইটি টিউবওয়েল বসিয়েছিল, পানি বের হচ্ছিল। শুধু বাকি ছিল প্লাটফর্ম করা। আল্লাহর রহমতে ওই দুই টিউবওয়েল ওবায়দুল কাদের ওপেন করে দিয়েছেন। কিন্তু তিনি বলেন নাই যে এটা বিএনপি করছে, এটা আমি ওপেন করে দিয়ে গেলাম। তাহলে আমরা খুশি হতাম।’ ওবায়দুল কাদের এটা আওয়ামী লীগের আওয়তায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন মির্জা আব্বাস।

স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত আ.স.ম হান্নান শাহর প্রথম মৃত্যুবাষির্কী উপলক্ষে এর আয়োজন করেন বিএনপি। এতে বক্তব্য দেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক সায়েদুল ইসলাম বাবুল, হান্নান শাহর ছোট ছেলে রিয়াজুল হান্নান প্রমুখ। 

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশার, শামসুল ইসলাম তোফা, সাইফুল ইসলাম পটু, আমিনুল ইসলাম, মাওলানা এমএম মালেক, নেসারুল হক প্রমুখ। এছাড়া বিএনপির অঙ্গসংগঠনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-আবদুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, রাজিব আহসান প্রমুখ।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…