আগামী নির্বাচন অনিশ্চিত: গয়েশ্বর

সোমবার, ০২ অক্টোবর ২০১৭ ১৮:২২ ঘণ্টা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচন অনিশ্চিত। কারণ আন্তর্জাতিক শক্তিকে শেখ হাসিনা এখন পর্যন্ত আশ্বস্ত করতে পারেন নাই যে, তিনি ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে গিয়ে মাঠ থেকে ফিরতে পারবেন।’

রবিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সাগর রুনি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘অবাধ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মিশনের গুরুত্ব’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপির সুইডেন শাখা। 

আলোচনা সভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অনিশ্চিত। কারণ এমন কোনও দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক শক্তিকে শেখ হাসিনা এখন পর্যন্ত আশ্বস্ত করতে পারেন নাই যে, তিনি ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে গিয়ে মাঠ থেকে ফিরতে পারবেন। সুতরাং আমরা ক্ষমতায় যাই বা না যাই এই সরকারের আয়ু বেশি দিন নাই। এখন সরকার যাবে। এই যাওয়ার পেছনে আপনাদের (বিএনপি) অবদান আছে কী না, তা যদি জনগণের মাঝে দৃশ্যমান না করেন তাহলে ফলাফল আপনাদের গোলায় নাও আসতে পারে।’

নির্বাচনকালীন সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সহায়ক সরকার নিয়ে গবেষণার দরকার হয়? এরশাদ পদত্যাগ করার সময় কি ৫ মিনিট সময় লেগেছিল? ৫ মিনিটও লাগেনি। বিচারপতি সাহাবুদ্দিন ভাইস প্রেসিডেন্ট, পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট এরপর নির্বাচন। সুতরাং একটি দলীয় সরকার না থাকলে কীভাবে নির্বাচন হয় তা জনগণও জানে, শিক্ষিত লোকও জানে, অশিক্ষিত লোকও জানে। এই নিয়ে গবেষণা করা বা প্রস্তাব দেয়ার দরকার নেই বলে আমি মনে করি। যখন দরকার হবে দেশের অনেকেই বলবে জীবনের শেষ মুহূর্তে একটা ভালো কাজ করে যেতে চাই। আমাকে দায়িত্ব দেন। এই নিয়ে গবেষণা করা অহেতুক।’

রিজভী বলেন, ‘বিএনপি মাঠ থেকেই সৃষ্টি। বিশেষ করে দলের নেত্রী খালেদা জিয়া মাঠ থেকেই সৃষ্টি। তাই দলের নেতৃত্বের ঘাটতি নাই। আমরা যদি ক্লান্ত হয়ে যাই, বেশি পথ চলতে না পারি সেটা আমাদের অপরাধ। এজন্য আমি বলবো আন্দোলন ও সংগ্রামের বিকল্প নাই। আমাদের একটাই কাজ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘৫ জানুয়ারির মতো একটা নির্বাচন করার শক্তি নাই সরকার ও শেখ হাসিনার। এক কথায় বলা যায়, আগামী নির্বাচন অনিশ্চিত। গণমাধ্যম ও আমাদের কিছু লোক অতিউৎসাহী-দাঁড়ালেই পাস। কিন্তু নমিনেশন পাওয়ার পর মাঠে নামার সামর্থ্য থাকে না। এই নিয়ে একটি নির্বচনী আমেজ ও নির্বাচনী খেলা তৈরির মধ্যে দিয়ে আমাদেরকে অন্ধকারে রাখার একটা চেষ্টা।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতির দরকার হয় না। আন্দোলনের শিরোপা যার মাথায় উঠবে নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করবেন। ৯১ সালের নির্বাচনে ঢাল নাই তলোয়ার নাই, প্রার্থী নাই, টাকা নাই। সেই আন্দোলনের শিরোপা দেশনেত্রীর মাথায় উঠেছিলো। ফলে সরকার গঠন করতে খালেদা জিয়াকে বেগ পেতে হয়নি। কারণ বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দল সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। নির্বাচনের জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি লাগে না। এখনও আমাদের একেক জায়গায় যোগ্য একাধিক প্রার্থী আছে। তবে সরকার যাবে, গেলে আপনার ভূমিকা নাই। তাহলে জনগণ আপনাকে মালা দেবে কেন? সেই কথাটা ভাবেন।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘অনেক জ্ঞানী-গুণীরা বলেন নির্বাচনের জন্য বিএনপির প্রস্তুতি দরকার। তাদেরকে বলি আমরা মাঠের লোক, আমরা ভালো জানি। অনেক জ্ঞানী-গুনী লোক থাকতে পারেন অনেক বিষয়ে। আন্দোলন সংগ্রামে আমাদের চেয়ে বেশি জ্ঞানী-গুনী লোক আছে তাদের ভাড়া করে আনতে হবে বলে এটা আমি কখনও মনে করি না। কারণ আমরা মাঠের রাজা, রাস্তার রাজা। রাজত্ব রক্ষা করার শিক্ষা আমাদের আছে। জ্ঞানী-গুনী কলম চালায় যারা তারা বলতে পারেন, লিখতে পারেন, সমালোচনা করতে পারেন। এই দিয়ে তো সরকার পরিবর্তন হবে না। সরকার পরিবর্তন করতে যে কথা জানা দরকার তা মঞ্চে উপস্থিত সবাই জানে না। সেকারণে মাঠে অনুপস্থিত থাকলে এসব জ্ঞানী-গুনী লোকদের কদর বাড়ে, প্রাসাদে কদর বাড়ে। আর এদের যখন কদর বাড়ে তখন দলের অবস্থা দুরবস্থা হয়, আন্দোলন, সংগ্রাম কিছুই থাকে না। নেতাকর্মীদেরও মাঠে থাকার উৎসাহ থাকে না।’ 

বিএনপি নেতা বলেন, ‘একেকবার একেক নিয়মে সরকার পরিবর্তন হয়। অপ্রত্যাশিতভাবে সরকার পরিবর্তন হলে জনগণ সস্তুষ্ঠ হয় না। এ পরিবর্তন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী হওয়া উচিত। সবারই চিন্তা করতে হবে কীভাবে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায়। যে নির্বাচনে জনগণ যাকে চাইবে সেই বিজয়ী হবে, সরকার গঠন করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার অতিমাত্রায় দুর্বল। দুর্বল বলেই তাদের হাক ডাক বেশি। সবলরা কথা বলে কম। দুর্বলরা চিৎকার ও হুমকি দেয়। এই সরকারের মতো দুর্বল সরকার পৃথিবীতে আর নেই।’

সাবেক এই যুবনেতা বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিতেই হবে। এই মানবিক কারণ যদি কারও নোবেলের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় তা অত্যন্ত দুঃখজনক। হাজার হাজার মানুষের কান্না আর নিষ্ঠুর আচরণকে সম্বল করে নোবেল পেতে পাগল হয়ে গেছেন। শান্তির জন্য যদি কেউ নোবেল পায় সে হবে শন্তু লারমা। কারণ তিনি এক সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেমন কাজ করেছেন, আপনিও (হাসিনা)নোবেল পেতে পারেন সন্ত্রাস, খুন ও গুমের জন্য। নোবেল পেতে পারেন সবচেয়ে মিথ্যাবাদী হিসেবে। এ বিষয়ে বিশ্বে আপনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। নোবেলের জন্য আপনি লবিস্ট নিয়োগ করেন, ঘোরাঘুরি করেন। অথচ গণতন্ত্রের বিষয় আপনার মাথায় আসে না।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা মিজান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…