অন্যান্য (2)

অন্যান্য

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ এখন আর না খেয়ে থাকে না। খাদ্যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ন্নতা অর্জন করেছি। আমরা নিজের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরি করছি। বাংলাদেশ এখন অন্য দেশের সহায়তার ওপর নির্ভর করে না।’

শনিবার (২২ জুলাই) বিকালে রাজশাহী মহানগরীর বিনোদপুর বাজারে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি মতিহার থানা আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘ওয়ার্কার্স পার্টি সমতাভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র চেয়ে আসছে। ওয়ার্কার্স পার্টি লুটপাট ও দুর্নীতিতে বিশ্বাসী না। বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণে টাকা বিদেশে পাচার হয় সেই টাকা দিয়ে দেশের বাজেট করা যাবে। এক শ্রেণির লোক বিদেশে টাকা পাচার করে সুখে থাকবে আর দেশের মানুষ চিকিৎসা ও শিক্ষা পাবে না, বেঁচে থাকার অধিকার থাকবে না, তা মেনে নেয়া যায় না।’

ফজলে হোসেন বাদশা আরও বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নিতে আমরা বারবার বলেছিলাম। কিন্তু তারা নির্বাচনে অংশ না নিয়ে দেশে জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি শুরু করে। বাসে ট্রেনে আগুন দিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা শুরু করে। এসব ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ কোন দিন ভুলবে না।’ 

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্কার্স পার্টি মতিহার থানা সম্পাদক রমজান আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ওয়ার্কাস পার্টি রাজশাহী জেলা সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, সম্পাদক মণ্ডলির সদস্য অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু, সাদরুল ইসলাম, অ্যাড. আবু সাইদ, আবদুর রাজ্জাক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা প্রমুখ।

ভোটের সংখ্যানুপাতভিত্তিক জনপ্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি বলেছেন, তিনশ’ আসনে নির্বাচন না করে ‘প্রতীক’ অনুসারে কোন দল কত ভোট পেল, সে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে এ ব্যবস্থা চালু আছে। এতে নির্বাচন হবে সহিংসতামুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য হয় বর্তমান সরকারকে নিরপেক্ষ হতে হবে অথবা নিরপেক্ষ সরকার লাগবে। প্রয়োজনে সরকারি দলকে একটু উদারভাবে ভেবেচিন্তে সংবিধান সংশোধন করা উচিত।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী। একান্ত সাক্ষাৎকারে খোলামেলা অনেক কথাই বলেছেন তিনি। আবার কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়েও গেছেন এই সাবেক রাষ্ট্রপতি। বলেছেন, সরকারের অবস্থা স্পষ্ট না করার আগে ওই সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে না।

দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পর্কে কোনো প্রস্তাব আছে কি? জানতে চাইলে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, আমাদের নির্বাচন প্রায়ই সহিংস হয়। এক দল অন্য দলকে সহ্য করতে পারে না এবং প্রার্থীতে প্রার্থীতে মারামারি-কাটাকাটি একটি সাধারণ ঘটনা। প্রার্থীর যারা প্রতিনিধি বা অনুসারী থাকেন, তারা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন মাঝেমধ্যে, এগুলো বাস্তবতা। সুতরাং এগুলো যদি আমরা সম্পূর্ণভাবে এড়াতে চাই, তাহলে একটা ‘বিশেষ পরামর্শ’ আছে। আর বর্তমান পদ্ধতিতে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে কী করব- সে জন্য আলাদা একটি পরামর্শ আছে।

প্রথম পরামর্শ: আমরা যদি সহিংসতাবর্জিত সুন্দর একটা নির্বাচন পদ্ধতি চাই- যেটা গণতান্ত্রিক, সহিংসতা হবে না, কমে যাবে ঘৃণাও। সেই পদ্ধতি হলো, এখন তিনশ’ আসনের প্রতিটিতে নির্বাচন হয়- তা না করা। এ পদ্ধতির পরিবর্তে ‘প্রতীক’ অনুসারে কোন দল কত ভোট পেল, সেই সংখ্যানুপাতভিত্তিক জনপ্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন করা। একটু বিস্তারিতভাবে বলি, তিনশ’ আসনে প্রতীক নিয়ে নির্বাচন হলো এবং সারাদেশ থেকে প্রতীক অনুযায়ী সব ভোট গণনা করা হলো। এতে কোনো দল পেল শতকরা ৪০ ভাগ ভোট, অতঃপর ৪০ গুণ ৩ সমান ১২০, অর্থাৎ ১২০টি আসন পেল ওই দল। অন্যদিকে, কোনো দল পেল শতকরা ১০ ভাগ ভোট। তার আসনসংখ্যা হবে প্রথম দলটির চার ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ ৩০টি আসন। আর কোনো দল যদি পায় শতকরা ১ দশমিক ৫ ভাগ ভোট, তবে তাদের আসনসংখ্যা হবে তিনটি এবং শতকরা দশমিক ৫ ভাগ ভোট পেলে তাদের আসনসংখ্যা হবে ১। এতে কোনো দল ‘নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ সম্ভবত পাবে না। এ ধরনের ভোট ব্যবস্থা পশ্চিমের বেশ কয়েকটি দেশে চালু আছে। এটা আশ্চর্যের কিছু নয় বা নতুন কিছু নয় এবং আকাশ থেকেও পড়া নয়।

বি. চৌধুরী বলেন, এ পদ্ধতিতে যদি আমরা নির্বাচন করি, তাহলে যা হবে- ১. ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে না, ফলে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও সহিংসতা কমে যাবে; ২. যোগ্যতাসম্পন্ন নিবেদিতপ্রাণ প্রার্থীরাই দলের মনোনয়ন পাবেন, ফলে অধিকতর যোগ্যরাই নির্বাচিত হবেন; ৩. সবাই দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হবেন; ৪. কোয়ালিশন সরকার হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি হবে। এটা কিন্তু খুব ভালো পদ্ধতি, যেমন- যুক্তরাজ্যে কনজারভেটিভ বা লেবার পার্টি একাই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেলে ভিন্ন চিত্র হতো। যা হতো তার চেয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠনের ফল ভালো হয়েছে। এখন সরকারের কোয়ালিশন পার্টনারদের ক্ষমতা বেশি থাকবে, জোরদার হবে তাদের দাবি-দাওয়া। সরকারে সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রকট ও সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনপূর্ব ‘জোট’ পদ্ধতিতে অংশীদারবৃন্দ নেহাত ‘দুর্বল’ পক্ষ হয়ে যায়। এটা গেল সংখ্যানুপাতভিত্তিক জনপ্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন পদ্ধতি।

দ্বিতীয় পরামর্শ: বর্তমান পদ্ধতিতে গণতান্ত্রিক অথচ সহিংসতা এড়ানোর জন্য যা করণীয়- ১. ভোটের প্রচারণার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে। এটা শুধু নির্বাচনের দিন বা যেদিন থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা দেওয়া হবে, তখন থেকে নয়; বরং এখন থেকেই এটা কার্যকর করতে হবে। নির্বাচন-পরবর্তী পক্ষকাল তা বজায় রাখতে হবে; ২. জনসভা, গণসংযোগ বা অন্য যে কোনো শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে প্রার্থীরা ভোটারের কাছে যাবেন এবং এতে কেউ বাধা দিতে পারবে না; ৩. ভোটের দিন ভোটাররা অনায়াসে ও নির্বিঘ্নে যাতে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন- তা নিশ্চিত করতে হবে; ৪. ভোটকেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণরূপে বহিরাগতমুক্ত হতে হবে; ৫. প্রয়োজনে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন মোতায়েন করতে হবে। দরকার হলে ভোটকেন্দ্রেও তাদের মোতায়েন করতে হবে; ৬. যে মুহূর্তে ভোট গ্রহণ শেষ হবে, সঙ্গে সঙ্গে ভোটগণনা শুরু করতে হবে এবং তা অবশ্যই প্রতিনিধিদের সামনেই। আর ভোট গণনা শেষ হওয়ামাত্রই সঙ্গে সঙ্গে ফল প্রকাশ করতে হবে। কোনোরূপ বিলম্ব করা যাবে না; ৭. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

বি. চৌধুরী বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আমার অনেক ভাবনা আছে। কিন্তু সরকারকে পরিষ্কার বলতে হবে- কীভাবে তারা নির্বাচন চায়? অর্থাৎ সরকার কী কী পদক্ষেপ নিতে চায় এবং বিরোধীদলকে কী কী পদক্ষেপ নিতে দেবে, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। এটা জানার পরই আমি বলতে পারব, আমার মন্তব্য কী।

বিএনপির ‘সহায়ক সরকার’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বিষয়টা বেশি কঠিন নয়। ‘সহায়ক সরকার’ শব্দটা ঠিকই আছে, তবে এর রূপরেখা কী- এটা না জানা পর্যন্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আমরা অপেক্ষা করছি, কবে তারা রূপরেখা দেবেন। শুনেছি, খুব শিগগির নাকি তারা দেবেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটা সুন্দর-গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে অসুবিধা আছে। কারণ আমরা চাই, নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করুক, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সরকারকে অনেক উদার হতে হবে। এটা প্রকাশ করতে হবে যে তাদের উদার হওয়ার ইচ্ছা আছে। কিন্তু মাঝেমধ্যে তাদের কোনো কোনো প্রতিনিধির কঠোর বক্তব্যে এটা কিন্তু উল্টো বোঝা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সহায়ক সরকারের দাবি না মানলে বিএনপির কী করা উচিত? নির্বাচনে অংশগ্রহণ, বর্জন বা আন্দোলন- কোনটা করা উচিত জানতে চাইলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাকালীন মহাসচিব বলেন, এটা একটা কঠিন প্রশ্ন। কিন্তু আমি সাধারণভাবে বলব, নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই প্রতিবাদ জানাতে হবে; বর্জন করে নয় বা আন্দোলন করেও নয়। এর প্রমাণ ইতিহাসে আমরা বারবার পেয়েছি। সে জন্যই আমি বলব, বর্জন বা আন্দোলন নয়, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। তবে আন্দোলন হতে পারে- সেটা নির্বাচনমুখী, অর্থাৎ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য।

সবার অংশগ্রহণ বা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে বর্তমান সংবিধানের মধ্যে থেকে নাকি সংবিধান সংশোধন করে ‘সমস্যার’ সমাধান করা উচিত? এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরী বলেন, একটা জিনিস বুঝতে হবে, যদি সত্যি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে একটি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে আমি মনে করি না- তাকে অন্য দলের সাহায্য নিতে হবে। এখন যে সরকার আছে, তাদের কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন আছে। সে হিসেবে সংবিধান সংশোধনের জন্য এর চেয়ে সুবর্ণ সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। কাজেই একটু উদারভাবে ভেবেচিন্তে প্রয়োজন হলে সংবিধান সংশোধন করা উচিত। সংবিধান এমন জিনিস নয় যে ছুঁলে তার অপমান হবে। সুতরাং যদি দেশের ও জনগণের প্রয়োজন হয় এবং নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সহজ হয়ে যায়, তাহলে কেন সংবিধান সংশোধন করা যাবে না- আমি তা বুঝতে পারছি না।

লোটন একরাম
সমকাল

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…