অন্যান্য (8)

অন্যান্য

হেফাজতে ইসলাম নির্বাচনে কাউকে সমর্থন দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবেনা বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমেদ শফী। 

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একটি ধর্মীয় সংগঠনের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে এ কথা বলেন আল্লামা শফী। তার হয়ে লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করেন হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নুরু উদ্দিন।

এতে হেফাজত আমির বলেন, আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। প্রচলিত রাজনীতির সঙ্গে আমার কোনও সংশ্লিষ্টতাও নেই। তাই আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করবেন না। হেফাজতে ইসলাম একটি ধর্মভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন। নির্বাচনে হেফাজত কাউকে সমর্থন দেয়নি। দেবেও না। তবে নির্বাচনে যাতে নাস্তিকরা জয়যুক্ত হতে না পারে সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন, কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিদান হিসেবে সরকারকে ধন্যবাদ জানানো মানে কওমীদের বিক্রি করে দেয়া নয়। সরকারকে ধন্যবাদ দেয়ার অর্থ এই নয় যে, নীতি ও আদর্শচ্যুত হয়ে গেছি। কওমী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। কওমী সনদ স্বীকৃতি বিল সংসদে পাশ হওয়ার পর একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। তারা বলছে, আমি আওয়ামী লীগ হয়ে গেছি। যারা এ অপপ্রচার করছে তারা মিথ্যাবাদী।

হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবিতে আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কওমী মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি ও হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা আন্দোলন এক নয়। ১৩ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ আনিসুল ইমলাম মাহমুদ বলেন, ‘রাজনৈতিক কোন উদ্দেশ্য নিয়ে সরকার কওমীদের স্বীকৃতি দেয়নি। মুলত কওমী সমাজের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে।

অভিন্ন দাবি ও লক্ষ্য অর্জনে ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট। এর আগে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে ঘোষিত দফা ও লক্ষ্য এবং বিএনপির সমাবেশে ঘোষিত দলীয় দফা ও লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে মিল রেখে এসব দফা ও লক্ষ্য নির্বাচন করা হয়েছে বলে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন।

ঘোষিত ৭ দফা হচ্ছে:

১. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদাসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।

২. গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

৩. বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।

৪. কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের অভিযোগে ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালো আইন বাতিল করতে হবে।

৫. নির্বাচনের ১০ দিন পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।

৬. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোটকেন্দ্র, পোলিং বুথ, ভোট গণনা স্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশের ওপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ না করা। নির্বাচনকালীন গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর যেকোনও ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে।

৭. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও কোনও ধরনের নতুন মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

ঘোষিত ১১টি লক্ষ্য:

১. মহান মুক্তি সংগ্রামের চেতনাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান স্বেচ্ছাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসান করে সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক, শোসনমুক্ত ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা। এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক নির্বাহীক্ষমতার অবসান কল্পে সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়নসহ প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ ও ন্যায়পাল নিয়োগ করা।

২.৭০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের যুগোপযোগী সংশোধন করা। জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাসহ সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানসমূহের গুরুত্বপূর্ণ পদে  নির্দলীয়, নিরপেক্ষ,সৎ-যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দানের জন্য সাংবিধানিক কমিশন ও সাংবিধানিক কোর্ট গঠন করা।

৩. বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের নীতমালা প্রণয়ন ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা।

৪.  ‍দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা। দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন।

৫.দেশে বিনিয়োগ ‍বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি, বেকারত্বের অবসান ও শিক্ষিত যুবসমাজের সৃজনশীলতাসহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়োগ দানের ক্ষেত্রে মেধাকে যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কোটা সংস্কার করা।

৬. সকল নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তার বিধান করা। কৃষক, শ্রমিক ও দরিদ্র জনগণের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।

৭.জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কালো থাবা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন করা।

৮. রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, জনগণের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বন্টন, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণ ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। নিম্ন আয়ের মানবিক জীবন মান নিশ্চিত করা এবং দ্রব্যমূলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন-মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা।

৯. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল এবং কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। কোনও জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়া।

১০. ‘সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব-কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’-এই নীতির আলোকে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করা এবং প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে পারস্পরিক সৎ-প্রতিবেশী বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিবে ব্যবসা বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

১১. বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে ফেরত ও পুনর্বাসনের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার এবং দেশের সার্বোভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় নিরপত্তা সুরক্ষার লক্ষে প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমর-সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা। 

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও দলীয় নির্যাতনকারীদের নামিয়ে সরকার মস্ত বড় ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি বলেন, অবিলম্বে এটা বন্ধ করতে হবে।
 
রবিবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বারিধারার নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বি. চৌধুরী বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবি দেশপ্রেম থেকে উৎসারিত ও গণমুখী। ছাত্ররা নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন করছে, তাতে একথা স্পষ্ট হয়েছে যে, পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষাকারী বাহিনীগুলোসহ সরকারের বিভিন্ন গাড়ির অনেক ড্রাইভারের লাইসেন্স ও গাড়ির কাগজপত্র নেই। সরকারি বিভিন্ন বিভাগের অদক্ষতা ও দুর্নীতি রয়েছে এবং তাদের আন্তরিকতার অভাবও প্রমাণিত হয়েছে। আমরা আশা করবো, সরকার এ থেকে শিক্ষা নেবেন। অবিলম্বে অদক্ষতা ও দুর্নীতি দূর করার ব্যবস্থা করবেন।’
 
জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে নিরাপদ সড়কের জন্য প্রচলিত আইন সংশোধন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালকের সংখ্যা ৯ লাখ এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা ৫ লাখ। শহরের বাইরে ও ভেতরে বাস ও ট্রাকের গতিবেগ অনিয়ন্ত্রিত। ট্রাফিক পুলিশসহ সরকারের অন্য দফতরের লোকজন দুর্নীতি করে অদক্ষদের লাইসেন্স দিচ্ছে।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, এই সমস্যার সমাধান করতে হলে সড়ক পরিবহন খাতে প্রচলিত আইনগুলোর সংস্কার করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির মামলায় তাদের আলাদা একটা শ্রেণি হিসেবে গণ্য করতে হবে।

অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না নৌপরিবহণ মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, এই লোকটির কারণেই সড়ক পরিবহণ ক্ষেত্রে সব সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাকে রক্ষা করার জন্য সরকার নানা বাহানা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, জেএসডির সাধারন সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী, বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রউফ মান্নান, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, আবদুল হান্নান, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল্লা কায়সার, মমিনুল ইসলাম, জেএসডির কেন্দ্রীয় নেতা গোফরানুল হক প্রমুখ।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা। 

তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোট হচ্ছে। কারো কোনো সমস্যা হচ্ছে না। সবাই অবাধে ভোট দিতে পারছে। এত সুন্দর ভোট আমি মনে হয় এর আগে দেখিনি’।

সোমবার (৩০ জুলাই) নগরীর জুলফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

রাজশাহী সদর আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘এত সুন্দর ভোট নিয়ে যদি কেউ প্রশ্ন তোলে তবে তারা দেশের গণতন্ত্রকে নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। এত সুন্দর নির্বাচনকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।’

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এ ব্যাপারে অবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)।

সোমবার (২৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার সরকারের গণহত্যা, অত্যাচার-নির্যাতন ও বাড়িঘর থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উচ্ছেদ করে দেশ থেকে বিতাড়িত করা বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ সব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং শান্তিকামী বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।  

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর গুলিতে শত শত মুসলমান নিহত ও বহু লোক আহত হওয়ার নির্মম ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতারা বলেছেন, মুসলমানরা যখন বাঁচার জন্য ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে তখন তাদের সন্ত্রাসী বা জঙ্গি আখ্যায়িত করতে দ্বিধা করা হয় না। কোথায় জাতিসংঘ? কোথায় মানবাধিকার সংস্থা? রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা কি তাদের বিবেককে তাড়িত করে না?

তারা আরও বলেন, কোথায় আজ বিশ্ব মুসলমানদের সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ওআইসি। নীরব কেন আজ মানবাধিকার সংস্থা? নিশ্চুপ কেন জাতিসংঘ? গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এভাবে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

দলটির নেতারা বলেন, গত তিন যুগ আগে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিতাড়িত করে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য করেছিল। তাদের আজ পর্যন্ত মিয়ানমার সরকার দেশে ফিরিয়ে নেয়নি। সম্প্রতি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হামলায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এ মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানকার সহিংস পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে যারা বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছে তাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার যেন নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে।

সিলেট: সদর উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ও জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল আহমদকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
 
সোমবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর জিন্দাবাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

নাশকতা, প্রতারণা, দ্রুত বিচার, বিস্ফোরক মামলাসহ ৯টি মামলার পরোয়ানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন জামায়াত নেতা জালাল।
 
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতার জালাল সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার শিবের বাজারের রায়েরগাঁও গ্রামের মৃত মুসলিম আলীর ছেলে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ এখন আর না খেয়ে থাকে না। খাদ্যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ন্নতা অর্জন করেছি। আমরা নিজের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরি করছি। বাংলাদেশ এখন অন্য দেশের সহায়তার ওপর নির্ভর করে না।’

শনিবার (২২ জুলাই) বিকালে রাজশাহী মহানগরীর বিনোদপুর বাজারে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি মতিহার থানা আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘ওয়ার্কার্স পার্টি সমতাভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র চেয়ে আসছে। ওয়ার্কার্স পার্টি লুটপাট ও দুর্নীতিতে বিশ্বাসী না। বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণে টাকা বিদেশে পাচার হয় সেই টাকা দিয়ে দেশের বাজেট করা যাবে। এক শ্রেণির লোক বিদেশে টাকা পাচার করে সুখে থাকবে আর দেশের মানুষ চিকিৎসা ও শিক্ষা পাবে না, বেঁচে থাকার অধিকার থাকবে না, তা মেনে নেয়া যায় না।’

ফজলে হোসেন বাদশা আরও বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নিতে আমরা বারবার বলেছিলাম। কিন্তু তারা নির্বাচনে অংশ না নিয়ে দেশে জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি শুরু করে। বাসে ট্রেনে আগুন দিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা শুরু করে। এসব ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ কোন দিন ভুলবে না।’ 

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্কার্স পার্টি মতিহার থানা সম্পাদক রমজান আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ওয়ার্কাস পার্টি রাজশাহী জেলা সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, সম্পাদক মণ্ডলির সদস্য অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু, সাদরুল ইসলাম, অ্যাড. আবু সাইদ, আবদুর রাজ্জাক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা প্রমুখ।

ভোটের সংখ্যানুপাতভিত্তিক জনপ্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি বলেছেন, তিনশ’ আসনে নির্বাচন না করে ‘প্রতীক’ অনুসারে কোন দল কত ভোট পেল, সে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে এ ব্যবস্থা চালু আছে। এতে নির্বাচন হবে সহিংসতামুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য হয় বর্তমান সরকারকে নিরপেক্ষ হতে হবে অথবা নিরপেক্ষ সরকার লাগবে। প্রয়োজনে সরকারি দলকে একটু উদারভাবে ভেবেচিন্তে সংবিধান সংশোধন করা উচিত।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যে এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী। একান্ত সাক্ষাৎকারে খোলামেলা অনেক কথাই বলেছেন তিনি। আবার কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়েও গেছেন এই সাবেক রাষ্ট্রপতি। বলেছেন, সরকারের অবস্থা স্পষ্ট না করার আগে ওই সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে না।

দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পর্কে কোনো প্রস্তাব আছে কি? জানতে চাইলে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, আমাদের নির্বাচন প্রায়ই সহিংস হয়। এক দল অন্য দলকে সহ্য করতে পারে না এবং প্রার্থীতে প্রার্থীতে মারামারি-কাটাকাটি একটি সাধারণ ঘটনা। প্রার্থীর যারা প্রতিনিধি বা অনুসারী থাকেন, তারা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন মাঝেমধ্যে, এগুলো বাস্তবতা। সুতরাং এগুলো যদি আমরা সম্পূর্ণভাবে এড়াতে চাই, তাহলে একটা ‘বিশেষ পরামর্শ’ আছে। আর বর্তমান পদ্ধতিতে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে কী করব- সে জন্য আলাদা একটি পরামর্শ আছে।

প্রথম পরামর্শ: আমরা যদি সহিংসতাবর্জিত সুন্দর একটা নির্বাচন পদ্ধতি চাই- যেটা গণতান্ত্রিক, সহিংসতা হবে না, কমে যাবে ঘৃণাও। সেই পদ্ধতি হলো, এখন তিনশ’ আসনের প্রতিটিতে নির্বাচন হয়- তা না করা। এ পদ্ধতির পরিবর্তে ‘প্রতীক’ অনুসারে কোন দল কত ভোট পেল, সেই সংখ্যানুপাতভিত্তিক জনপ্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন করা। একটু বিস্তারিতভাবে বলি, তিনশ’ আসনে প্রতীক নিয়ে নির্বাচন হলো এবং সারাদেশ থেকে প্রতীক অনুযায়ী সব ভোট গণনা করা হলো। এতে কোনো দল পেল শতকরা ৪০ ভাগ ভোট, অতঃপর ৪০ গুণ ৩ সমান ১২০, অর্থাৎ ১২০টি আসন পেল ওই দল। অন্যদিকে, কোনো দল পেল শতকরা ১০ ভাগ ভোট। তার আসনসংখ্যা হবে প্রথম দলটির চার ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ ৩০টি আসন। আর কোনো দল যদি পায় শতকরা ১ দশমিক ৫ ভাগ ভোট, তবে তাদের আসনসংখ্যা হবে তিনটি এবং শতকরা দশমিক ৫ ভাগ ভোট পেলে তাদের আসনসংখ্যা হবে ১। এতে কোনো দল ‘নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ সম্ভবত পাবে না। এ ধরনের ভোট ব্যবস্থা পশ্চিমের বেশ কয়েকটি দেশে চালু আছে। এটা আশ্চর্যের কিছু নয় বা নতুন কিছু নয় এবং আকাশ থেকেও পড়া নয়।

বি. চৌধুরী বলেন, এ পদ্ধতিতে যদি আমরা নির্বাচন করি, তাহলে যা হবে- ১. ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে না, ফলে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও সহিংসতা কমে যাবে; ২. যোগ্যতাসম্পন্ন নিবেদিতপ্রাণ প্রার্থীরাই দলের মনোনয়ন পাবেন, ফলে অধিকতর যোগ্যরাই নির্বাচিত হবেন; ৩. সবাই দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হবেন; ৪. কোয়ালিশন সরকার হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি হবে। এটা কিন্তু খুব ভালো পদ্ধতি, যেমন- যুক্তরাজ্যে কনজারভেটিভ বা লেবার পার্টি একাই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেলে ভিন্ন চিত্র হতো। যা হতো তার চেয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠনের ফল ভালো হয়েছে। এখন সরকারের কোয়ালিশন পার্টনারদের ক্ষমতা বেশি থাকবে, জোরদার হবে তাদের দাবি-দাওয়া। সরকারে সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রকট ও সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনপূর্ব ‘জোট’ পদ্ধতিতে অংশীদারবৃন্দ নেহাত ‘দুর্বল’ পক্ষ হয়ে যায়। এটা গেল সংখ্যানুপাতভিত্তিক জনপ্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন পদ্ধতি।

দ্বিতীয় পরামর্শ: বর্তমান পদ্ধতিতে গণতান্ত্রিক অথচ সহিংসতা এড়ানোর জন্য যা করণীয়- ১. ভোটের প্রচারণার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে। এটা শুধু নির্বাচনের দিন বা যেদিন থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা দেওয়া হবে, তখন থেকে নয়; বরং এখন থেকেই এটা কার্যকর করতে হবে। নির্বাচন-পরবর্তী পক্ষকাল তা বজায় রাখতে হবে; ২. জনসভা, গণসংযোগ বা অন্য যে কোনো শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে প্রার্থীরা ভোটারের কাছে যাবেন এবং এতে কেউ বাধা দিতে পারবে না; ৩. ভোটের দিন ভোটাররা অনায়াসে ও নির্বিঘ্নে যাতে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন- তা নিশ্চিত করতে হবে; ৪. ভোটকেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণরূপে বহিরাগতমুক্ত হতে হবে; ৫. প্রয়োজনে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন মোতায়েন করতে হবে। দরকার হলে ভোটকেন্দ্রেও তাদের মোতায়েন করতে হবে; ৬. যে মুহূর্তে ভোট গ্রহণ শেষ হবে, সঙ্গে সঙ্গে ভোটগণনা শুরু করতে হবে এবং তা অবশ্যই প্রতিনিধিদের সামনেই। আর ভোট গণনা শেষ হওয়ামাত্রই সঙ্গে সঙ্গে ফল প্রকাশ করতে হবে। কোনোরূপ বিলম্ব করা যাবে না; ৭. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

বি. চৌধুরী বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আমার অনেক ভাবনা আছে। কিন্তু সরকারকে পরিষ্কার বলতে হবে- কীভাবে তারা নির্বাচন চায়? অর্থাৎ সরকার কী কী পদক্ষেপ নিতে চায় এবং বিরোধীদলকে কী কী পদক্ষেপ নিতে দেবে, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। এটা জানার পরই আমি বলতে পারব, আমার মন্তব্য কী।

বিএনপির ‘সহায়ক সরকার’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বিষয়টা বেশি কঠিন নয়। ‘সহায়ক সরকার’ শব্দটা ঠিকই আছে, তবে এর রূপরেখা কী- এটা না জানা পর্যন্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আমরা অপেক্ষা করছি, কবে তারা রূপরেখা দেবেন। শুনেছি, খুব শিগগির নাকি তারা দেবেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটা সুন্দর-গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে অসুবিধা আছে। কারণ আমরা চাই, নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করুক, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সরকারকে অনেক উদার হতে হবে। এটা প্রকাশ করতে হবে যে তাদের উদার হওয়ার ইচ্ছা আছে। কিন্তু মাঝেমধ্যে তাদের কোনো কোনো প্রতিনিধির কঠোর বক্তব্যে এটা কিন্তু উল্টো বোঝা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সহায়ক সরকারের দাবি না মানলে বিএনপির কী করা উচিত? নির্বাচনে অংশগ্রহণ, বর্জন বা আন্দোলন- কোনটা করা উচিত জানতে চাইলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাকালীন মহাসচিব বলেন, এটা একটা কঠিন প্রশ্ন। কিন্তু আমি সাধারণভাবে বলব, নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমেই প্রতিবাদ জানাতে হবে; বর্জন করে নয় বা আন্দোলন করেও নয়। এর প্রমাণ ইতিহাসে আমরা বারবার পেয়েছি। সে জন্যই আমি বলব, বর্জন বা আন্দোলন নয়, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। তবে আন্দোলন হতে পারে- সেটা নির্বাচনমুখী, অর্থাৎ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য।

সবার অংশগ্রহণ বা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে বর্তমান সংবিধানের মধ্যে থেকে নাকি সংবিধান সংশোধন করে ‘সমস্যার’ সমাধান করা উচিত? এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরী বলেন, একটা জিনিস বুঝতে হবে, যদি সত্যি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে একটি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে আমি মনে করি না- তাকে অন্য দলের সাহায্য নিতে হবে। এখন যে সরকার আছে, তাদের কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন আছে। সে হিসেবে সংবিধান সংশোধনের জন্য এর চেয়ে সুবর্ণ সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। কাজেই একটু উদারভাবে ভেবেচিন্তে প্রয়োজন হলে সংবিধান সংশোধন করা উচিত। সংবিধান এমন জিনিস নয় যে ছুঁলে তার অপমান হবে। সুতরাং যদি দেশের ও জনগণের প্রয়োজন হয় এবং নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সহজ হয়ে যায়, তাহলে কেন সংবিধান সংশোধন করা যাবে না- আমি তা বুঝতে পারছি না।

লোটন একরাম
সমকাল

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…