বাংলাদেশ থেকে শিখুক কেনিয়ার ফুটবল!

সোমবার, ১২ জুন ২০১৭ ২০:৩১ ঘণ্টা

কেনিয়ার দ্য স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার রবিবাসরীয় সংখ্যার সম্পাদক ক্লে মুগান্দা। গত শনিবার আফ্রিকান কাপ অব নেশনস ফুটবলের বাছাইপর্বে সিয়েরা লিওনের কাছে হেরে টানা অপরাজিত থাকার রেকর্ডে ছেদ পড়েছে কেনিয়ার। মুগান্দার সমালোচনা এই হার নিয়ে নয়। খেলায় হার-জিত থাকতেই পারে, তবে মুগান্দা বিরক্ত কেনিয়ার ফুটবল ফেডারেশনের অতি প্রচারণায়। কেনিয়ান ফুটবল ফেডারেশন নাকি ১১ ম্যাচ অপরাজিত থাকার ব্যাপারটি নিয়ে কথাবার্তা এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে, যেন মনে হবে বিশ্বকাপে খেলাটা তাদের জন্য সময়ের ব্যাপার। এ নিয়ে লেখা কলামে মুগান্দা কেনিয়ান ফুটবল ফেডারেশনকে শিক্ষা নিতে বলছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কাছ থেকে!

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে এ প্রসঙ্গে কেন আসছে? মুগান্দা গত ২০ বছর খুব কাছ থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতিটা দেখেছেন। নব্বইয়ের দশকের শেষ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত কেনিয়ার কাছে ৭ ম্যাচের ৬টিতেই হারার সেই ‘স্মৃতি’ তিনি তাঁর লেখায় উল্লেখ করে বলেছেন, ১৫ বছর আগেও বাংলাদেশ আন্ডারডগ ছিল বললেও ভুল বলা হতো। সেই বাংলাদেশই এখন বিশ্বের শীর্ষ ক্রিকেট দলগুলোর সঙ্গে খেলছে ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। যোগ্য দল হিসেবে আইসিসির ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থেকেই যে বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, সেটি বলতে ভোলেননি মুগান্দা।
মুগান্দা লিখেছেন, ‘কেনিয়ানরা যখন বাংলাদেশকে ক্রিকেটের কুলীন তালিকায় দেখে, তখন তারা বিস্মিত হয় দারুণভাবেই। কীভাবে এটা সম্ভব হলো! ১৫ বছরের কম সময় আগে কেনিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল বলে-কয়ে বাংলাদেশকে হারিয়েছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ ছিল ছেলেখেলার বস্তু। ২০০১ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ হেরেছিল টানা ২৩ ম্যাচে। এটা একটা রেকর্ড।’
মুগান্দার স্মৃতিতে কেনিয়ার ক্রিকেটপ্রেমীদের সেই আক্ষেপ এখনো জ্বলজ্বলে। কেনিয়ানরা একসময় মনে করত, তাদের বঞ্চিত করে বাংলাদেশকে টেস্ট মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
১৯৯৭ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সময়ের বর্ণনা দিয়ে মুগান্দা লিখেছেন, ওই সময় কেনিয়া যখন টেস্ট মর্যাদার আশা করছে, তখন বাংলাদেশ নিজেদের স্বল্প সম্পদকে কাজে লাগিয়েছে দেশের ক্রিকেটকে গড়ে তোলার কাজে। আজ কী দারুণভাবেই না তারা দেশের মানুষ ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি কেনিয়ান ফুটবল ফেডারেশনকে ঠিক এই জায়গায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিকল্পনা করেছে নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। কেবল কাল কী হবে, এটা নিয়েই তারা পড়ে ছিল না। যেটা কেনিয়াতে হচ্ছে। বাংলাদেশ একের পর এক ম্যাচ জিতেছে। কিন্তু সেই জয় নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত মাতামাতি না করে পরের ম্যাচটি নিয়ে ভেবেছে। পরের ম্যাচটিকেও জয় পাওয়া আগের ম্যাচটির মতো খেলতে চেয়েছে। সমালোচনাকে তারা গ্রহণ করেছে গঠনমূলক দৃষ্টিতেই।’
২০০৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা কেনিয়ার ক্রিকেট দল নিয়ে হয়তো তাঁর আর কোনো আশা নেই। কেনিয়ার ক্রিকেট হারিয়ে গেছে কোন নিরুদ্দেশে! এ কারণেই হয়তো মুগান্দা বাংলাদেশের ক্রিকেট থেকে শিখতে বলছেন দেশটির ফুটবলকে।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…