বোলারদের পাশে মাশরাফি

মঙ্গলবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৭ ২১:১২ ঘণ্টা

পচেফস্ট্রুম টেস্টে বাজেভাবে হেরে যাওয়ায় বোলারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বাংলদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। অধিনায়কের এই সমালোচনার কারণে মন খারাপই হওয়ার কথা বোলারদের। বোলারদের এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। 

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথাগত উইকেট দেখা যায়নি পচেফস্ট্রুম। টেস্ট শুরুর আগের দিন মুশফিক নিজেও জানিয়েছিলেন উইকেট অনেক শুকনো। সব জেনেও কেন টস জিতে ফিল্ডিং নিলেন? ম্যাচ শেষে এ প্রশ্নের লম্বা উত্তর দেন মুশফিক। তাতে বোলারদের ওপর অধিনায়কের অনাস্থাই ফুটে উঠল, ‘সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় এমন উইকেট হবে অনুমান করা কঠিন। যতই ফ্ল্যাট উইকেট হোক, যদি সুবিধা নিতে চান, সেটা প্রথম দুই ঘণ্টায় নিতে হবে। বলতে পারেন না টস জিতে ব্যাটিং নিয়েই ৫০০ রান করতে পারতাম। ঠিকভাবে খেলতে পারলে তৃতীয় দিনে অনেক ভালো রান করতে পারতাম (প্রথম ইনিংসে)। হ্যাঁ, বলতে পারতাম, ফ্ল্যাট উইকেটে ব্যাটিং (শুরুতেই) করতে পারতাম। তবে ফ্ল্যাট উইকেটে আমাদের বোলাররা বোলিং করতে পারবে, এটা কখনওই বিশ্বাস করি না।’

তবে টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকের সঙ্গে একমত নন  মাশরাফি। মিরপুরে আজ একটি মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠানের এক অনুষ্ঠানে মোস্তাফিজ-তাসকিনদের পক্ষেই সাফাইন গান। বলেন, ‘আমাদের টেস্ট ক্রিকেটে বোলিং নিয়ে সব সময়ই দুশ্চিন্তা ছিল। টেস্টে দীর্ঘ সময় বোলিং করতে হয়, পাশাপাশি ব্রেক থ্রু এনে দিতে হয়। অস্ট্রেলিয়া বলেন কিংবা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় বলেন, সেখানে স্পিনাররাই মূল ভূমিকা পালন করেছে। টেস্ট ক্রিকেটে রাতারাতি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। টেস্ট বোলারদের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরাও আপনাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে। তবে এই অবস্থা থেকে রাতারাতি উৎরানো সম্ভব নয়। তারপরেও এরা একেবারেই অনভিজ্ঞ, এরা যদি আরও বেশি খেলার সুযোগ পায়, অভিজ্ঞ হলে আমার বিশ্বাস ভালো করবে।’

পচেফস্ট্রুম টেস্টে বাজেভাবে হারায় চরদিক থেকে সমালোচনা হচ্ছে। কিন্তু পরাজয়ের হতাশা ছাপিয়ে এই টেস্টের ইতিবাচক দিকও খুঁজে পাচ্ছেন মাশরাফি, ‘চারটা দিন যে ছেলেরা লড়াই করেছে, সেটা কিন্তু আমরা কেউ বলছি না। কিছু ভুল না করলে শেষ ইনিংসে (ব্যাটিং লাইনআপ) এমনভাবে ভেঙে পড়ত না। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন কেমন, সেটিও বুঝতে হবে। অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশে এসে তিন দিনে হেরে গেছে। শুধু যদি জয় আর হারটাই দেখি। তাদের (দলকে) কিসের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, এটা যদি বুঝতে না পারি, তাহলে আমার মনে হয় ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করা ঠিক নয়। এটা ঠিক, চতুর্থ ইনিংসে যেটা হয়েছে, কেউই আশা করিনি। এমন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু হয়ে গেছে। ক্রিকেটে এমন দিন আসে। এমন ইনিংস কিন্তু ১০ বছর পরে দেখা গেল (১০০-এর নিচে বাংলাদেশ অলআউট)। যারা খেলেছে, তাদের যদি প্রশ্ন করেন, তারা আমাদের চেয়ে আরও বেশি হতাশ।’

সমালোচনার চেয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করলেই এখন তা খেলোয়ারদের জন্য মঙ্গল হবে বলে মন্তব্য করেন ম্যাশ। তাই সমালোচনার চেয়ে ইতিবাচক মন মানসিকতা দেখানোর দিকেই গুরুত্ব দেন তিনি। 

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…