কক্সবাজার–চট্টগ্রামের দূরত্ব ঘোচে জহুর আহমদেই

বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৮ ১৯:৫৬ ঘণ্টা

নাহ, এ তো সেই মুমিনুল হক নন। সেঞ্চুরি করার পরও উদ্‌যাপনে যিনি নিরাবেগ-নির্লিপ্ত থাকেন, রানের বন্যা বইয়ে দেওয়ার পরও যাঁর মুখে উচ্ছ্বাসের ঢেউ অনুপস্থিত থাকে, আজ সেঞ্চুরির পর সেই মুমিনুল ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ালেন, বুনো উল্লাসে মেতে উঠলেন। এ তো অন্য মুমিনুল!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরির জন্য তিনি হাঁসফাঁস করছেন অনেক দিন ধরে। ২০১৪ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন। সাড়ে তিন বছর পর আরেকটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন সেই চট্টগ্রামেই। টেস্টে যে পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন, চারটিই এ মাঠে (অন্যটি মিরপুরে)। জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম যে তাঁর ভীষণ পয়মন্ত, সেটি পরিসংখ্যানই জানিয়ে দিচ্ছে।

মুমিনুলকে অবশ্য ‘লোকাল হিরো’ বলার উপায় নেই। চট্টগ্রাম থেকে তাঁর শহর কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। খুব বেশি নয়, আবার একেবারে কাছেও নয়। দূরত্ব যাই হোক, মুমিনুল সেটি ঘুচিয়ে দিয়েছেন ২২ গজে। জহুর আহমদে তাঁর ব্যাট যেভাবে দ্যুতি ছড়ায়—মাঠটা যেন তাঁর বাড়ির উঠোন। পাঁচ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে যে ১৩টি মাঠে খেলেছেন সবচেয়ে ধারাবাহিক তিনি চট্টগ্রামেই। ৭ টেস্টে ৪ সেঞ্চুরিতে এই মাঠে করেছেন ৭২০ রান। এখানে তাঁর ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তরের হার ১০০ শতাংশ! তার মানে জহুর আহমদে ফিফটি করলে মুমিনুল সেটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেবেনই! এ ভেন্যুতে তাঁর গড়টাও অবিশ্বাস্য—৯০! দুর্দান্ত ধারাবাহিকতায় মুমিনুল জহুর আহমদকে নিজের বাড়ির উঠানই বানিয়ে ফেলেছেন!

জহুর আহমদে খেললেই ২২ গজে মুমিনুল যেন ভীষণ সপ্রভিত। তাঁর ডাক নাম সৌরভ। ব্যাট হাতেও সৌরভ ছড়ান মন কাড়া সব ড্রাইভে। টাইমিংয়ের নিপুণ প্রদর্শনীতে স্লাইস, পুল কিংবা লফটেড শটে ফুটে ওঠে তাঁর শৌর্য। আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও মুমিনুল যেমন স্বমহিমায়। সেঞ্চুরিটা করলেনও কী আক্রমণাত্মক মেজাজে! ৯৩ থেকে ৯৭, ৯৭ থেকে ১০১—টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। 

কদিন আগে বিসিএলে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন। ক্যারিয়ার-সর্বোচ্চ ২৫৮ করেছেন। তাতে কি আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রানতৃষ্ণা মেটে! সেঞ্চুরির ক্ষুধাটা হচ্ছিল তীব্র থেকে তীব্রতর। সেটি মিটেছে, তা-ও আবার ‘প্রিয়’ মাঠে। যে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে আত্মবিশ্বাস নাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরই দলের বিপক্ষে—মুমিনুলের বুনো উদ্‌যাপনের অনেক কারণই পেতে পারেন। কিন্তু মুমিনুল বোধ হয় সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন নিজেকে ফিরে পেয়ে, নিজের মনমতো খেলতে পেরে!

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…