‘পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়েই শ্রীলঙ্কায় হাথুরুসিংহে’

বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৮:৫৭ ঘণ্টা

অনেক জল ঘোলা করেছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে; চুক্তি সম্পূর্ণ করার আগেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়েছেন। এ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকেও (বিসিবি) ভালোই বিপাকে পড়তে হয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কার দায়িত্ব নিয়েও নিজের কাজের স্বাধীনতা ঠিকই আদায় করে নিচ্ছেন হাথুরু। প্রধান কোচ হিসেবে তাঁর কাজের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)।

কোচদের কাজে হস্তক্ষেপ করার ইতিহাস রয়েছে লঙ্কান ক্রিকেটে। তবে সেই ধারা বদলে সামনের দিকে এগোনোর লক্ষ্য এসএলসির প্রেসিডেন্ট থিলাঙ্গা সুমাথিপালার। ক্রিকইনফোকে তিনি জানিয়েছেন, ‘বিশ্বের সেরা কোচদের একজনকে এনে তাঁকে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা না দেওয়ার কোনো মানে নেই। আমি কোচ নই, আর বোর্ডের কেউই কোচের কাজ সম্পর্কে হাথুরুসিংহের চেয়ে বেশি ধারণা রাখেন না। আমাদের তাঁকে স্বাধীনতা দিতে হবে। তবে আমরা এটাই আশা করব, সময়ে সময়ে তিনি আমাদের প্রশ্নের জবাব দেবেন।’ অর্থাৎ, কাজের স্বাধীনতা দিলেও জবাবদিহি ঠিকই করতে হবে হাথুরুসিংহেকে।

গ্রাহাম ফোর্ড সরে যাওয়ার পর এসএলসির হাথুরুর দিকে নজর দেওয়ার বড় কারণ তাঁর কাজের পদ্ধতি। বিশ্লেষণ ও তথ্য-উপাত্তে ভর করেই সিদ্ধান্ত নেন তিনি, সুমাথিপালার চোখে যা লঙ্কান ক্রিকেটের জন্য খুবই প্রয়োজন। তবে এর সঙ্গে তাঁর শ্রীলঙ্কান জাতীয়তাও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিদেশি কোচের সঙ্গে চান্ডিমাল-পেরেরাদের ভাষাগত দূরত্বটা অবশেষে দূর হয়ে যাচ্ছে। ২০০০ সাল থেকে যতজন কোচ শ্রীলঙ্কার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেবল মারভান আতাপাত্তু ছাড়া আর সবাই ছিলেন বিদেশি। ২০১১ থেকে বারবার কোচদের কাজে হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পেরেই চাকরি ছেড়েছেন ফোর্ড।

বাংলাদেশের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করার সময়ও নজিরবিহীন স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করেছেন হাথুরুসিংহে। ১৯৯৪ সালে আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মহিন্দর অমরনাথকে যদি এ দেশের ক্রিকেটে প্রথম পূর্ণ সময়ের কোচ হিসেবে ধরা হয়, তবে নিঃসন্দেহে হাথুরুই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বাধীনতা ভোগ করা কোচ। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশকে আইসিসি ট্রফি জেতানো কোচ গর্ডন গ্রিনিজ কিংবা ডেভ হোয়াটমোর—কেউই হাথুরুর মতো কর্তৃত্ব করে যেতে পারেননি। তাঁকে তো নির্বাচক প্যানেলেও জায়গা দিয়েছিল বিসিবি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দৃষ্টিকটুভাবে বিসিবির দায়িত্ব ছেড়েছেন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচ। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের মাঝপথেই তিনি চাকরি ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন। অনেক গড়িমসি করে সফরের ব্যর্থতার তদন্ত রিপোর্টটা তিনি জমা দিয়েছেন। সেই প্রতিবেদনে তিনি সিনিয়র খেলোয়াড়দের দায়ী করেছেন। পূর্ণ স্বাধীনতা পাওয়া কোচের সঙ্গে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সম্পর্কটা শেষ পর্যন্ত ভালো থাকেনি—এটাই এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটের বাস্তবতা। হাথুরুর লঙ্কা-মিশনটা কেমন হয়, দেখার বিষয় এখন সেটিই।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…