ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ করছে নেটিজেন আইটি

সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ ২০:১৭ ঘণ্টা

ডেস্ক রির্পোট, ডেইলি মুন্সীগঞ্জ ডট কমঃ সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের কারণে ডিজিটাল পদ্ধতির কার্যক্রমে মানুষের আস্থা বাড়ছে। তাই দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করতে ডিজিটাল দুনিয়ার বাসিন্দা হতে চাইছে কম বেশি সবাই। এক দশক আগেও সভা-সেমিনারে বিজ্ঞজনরা বলতেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম ডিজিটাল হলে শিক্ষকদের সময় বাঁচবে। তাঁরা ক্লাসে বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের অর্থের অপচয় কম হবে। ওই আলোচনাগুলো ক্রমেই বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে। এরপর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান শুরু হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, ফলাফল তৈরি ও প্রকাশ, উপস্থিতি, বাড়ির কাজ, শিক্ষকদের ক্লাস বণ্টনসহ সব কিছু অনলাইনে পরিচালিত হতে শুরু করে। শুরু হয় মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা। সরকারের ডিজিটাল কার্যক্রমের পাশাপাশি এ কাজে যুক্ত হয় কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও। এমনই একটি প্রতিষ্ঠান ‘নেটিজেন আইটি’। প্রতিষ্ঠানটি তথ্য-প্রযুক্তি ডিজিটাল শিক্ষার বিস্তারে কাজ করছে।

নেটিজেন আইটিতে চারজন উদ্যোক্তা পরিচালক আছেন। তাঁরা হলেন শহিদ হোসাইন, চেয়ারম্যান, আশিকুজ্জামান খান, প্রেসিডেন্ট ও সিসিপি, রায়হান নোবেল, এমডি ও সিইও এবং আব্দুর রহমান মামুন, ডিএমডি ও সিটিও। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেটিজেন আইটির এমডি ও সিইও রায়হান নোবেল জানান, ডিজিটাল শিক্ষায় তাঁদের অগ্রযাত্রার কথা।

৬৪টি জেলায় কমিউনিটি পার্টনারশিপ মডেলে নেটিজেন আইটি এলাকাভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীর মতে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে ডিজিটাল শিক্ষাকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ জাতির মেরুদণ্ডই হলো শিক্ষা। এ ছাড়া তাঁরা তৃণমূল পর্যায়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। তাঁদের আশা নগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো গ্রামেরগুলোও যেন একই মানের সুবিধা পায়। যেমন-ইলেকট্রিসিটি, ইন্টারনেট এ ধরনের সুবিধাসহ তাঁরা ডিজিটাল সেবা দিচ্ছেন।

রায়হান নোবেল জানান, এই বিশাল কর্মযজ্ঞে তাঁদের কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। যেমন-অ্যাপ্লিকেশন, সার্ভারের নিরাপত্তা, মার্কেটিং এবং ডিস্ট্রিবিউশন। তাঁদের প্রচুর পরিশ্রম করে মার্কেট তৈরি করতে হচ্ছে। আইডিয়া, সেবা, পণ্য ইত্যাদি বিক্রি করতে হচ্ছে। তাঁরা প্রাইমারি লেভেল পর্যন্ত এনসিটিবির যে বইগুলো আছে এটার হুবহু অ্যানিমেটেড কার্টুনের মতো করে কনটেন্ট দিচ্ছেন। আর এই কনটেন্টগুলো সরবরাহ করছে বিজয় ডিজিটাল।

২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অগ্রসর হয়। এর আগে দুই বছর তাঁরা গবেষণায় সময় দেন। বর্তমানে কর্মীসংখ্যা ৬৪ জন। তিনি বলেন, আইটি ইন্ডাস্ট্রির ফিজিক্যাল এক্সিসটেন্স আছে এমন কোনো সম্পদ না থাকায় কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ পাওয়া যায় না। ফলে শুরুতে মূলধন নিয়ে চিন্তায় পড়তে হয়। আমাদের উদ্যোক্তা হতে গিয়ে জমিজমা বিক্রি করতে হয়েছে। গত সাড়ে চার বছরের অফিস পরিচালনা, কর্মীদের বেতন-ভাতা দিতে গিয়ে আমাদের প্রায় সাত কোটি টাকার মতো খরচ হয়ে গেছে। আশা করছি, আগামী এক থেকে দুই বছরে আমরা ব্রেক ইভেনে চলে যেতে পারব। সূত্রঃ কালের কন্ঠ

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…