মার্কিন ধনকুবেরেরা থাকেন কোথায়?

সোমবার, ১৭ জুলাই ২০১৭ ১৬:৪৫ ঘণ্টা

বিল গেটস, জেফ বেজোস, ওয়ারেন বাফেট, মার্ক জাকারবার্গ, মাইকেল ব্লুমবার্গ, ল্যারি এলিসন

ক্যালিফোর্নিয়ায় এলিসনের ‘মালিবু এস্টেট’

ম্যানহাটনের টাউনহাউস অ্যাপার্টমেন্ট

ক্যালিফোর্নিয়ায় পালো আলটো হোম

নেব্রাস্কার ওমাহায় বাফেটের সাদামাটা বাড়ি

ওয়াশিংটন লেকের পাশে জেফ বেজোসের মেডিনা প্রোপার্টি

ওয়াশিংটন লেকের পাশে জানাডু টু ম্যানসনআমেরিকার শীর্ষ ধনী বিল গেটস। ফোর্বস-এর কল্যাণে এ কথা সবারই জানা। গত বছরের অক্টোবরে ম্যাগাজিনটিতে প্রকাশিত আমেরিকার শীর্ষ ৪০০ ধনীর তালিকায় ৮১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন বিল গেটস। এ তালিকায় আরও রয়েছেন জেফ বেজোস, ওয়ারেন বাফেট, মার্ক জাকারবার্গ, ল্যারি অ্যালিসন, মাইকেল ব্লুমবার্গের মতো ধনকুবেররা। বিপুল সম্পদের অধিকারী এসব ধনাঢ্য ব্যক্তি থাকেন কোথায়, হয়তো আপনার শহরে, আবার হতে পারে আপনার বাড়ির পাশেই। তাঁদের বাড়ি কি প্রাসাদোপম? এটাই ধারণা করা স্বাভাবিক। অধিকাংশের ক্ষেত্রেই এই অনুমান কাজ করলেও ব্যতিক্রমও রয়েছে। এত কথার বদলে বরং জেনে নেওয়া যাক আমেরিকার শীর্ষ ছয় ধনীর আবাসস্থল সম্পর্কে।
বিল গেটস
মোট ৮১ বিলিয়ন মূল্যমানের সম্পদের মালিক বিল গেটস থাকেন ওয়াশিংটনের মেডিনায়। আক্ষরিক অর্থেই এক প্রাসাদোপম ম্যানশনে বাস করেন ৬০ বছর বয়সী এ ধনকুবের। ওয়াশিংটন লেকের পাশে ৬৬ হাজার বর্গফুটজুড়ে বিস্তৃত জানাডু টু নামের এ ম্যানশন নির্মাণে সময় লেগেছে সাত বছর, যেখানে ব্যয় হয়েছে ৬৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। ১৯৮৮ সালে ২ মিলিয়ন ডলারে কেনা জমিতে বিল গেটস এ ম্যানশন নির্মাণ করেন, যেখানে জড়ো করা হয়েছে সব ধরনের উন্নত প্রযুক্তি। ম্যানশনটির বর্তমান বাজারমূল্য ১৭০ মিলিয়ন ডলার।
জেফ বেজোস
মোট ৬৭ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী জেফ বেজোসের বাড়িও ওয়াশিংটনের মেডিনায়। ই-কমার্স সাইট অ্যামাজনের এই প্রধান নির্বাহী থাকেন নিজ প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তরের অদূরেই। ৫ দশমিক ৩৫ একরের বিশাল এলাকার মধ্যে তাঁর আবাসস্থল, যেখানে শুধু বাড়িটিই রয়েছে ২৯ হাজার বর্গফুটজুড়ে। মূল বাড়ির পাশাপাশি রয়েছে তত্ত্বাবধায়কদের জন্য আলাদা ঘর। ওয়াশিংটন লেকে রয়েছে আরও সাড়ে চার হাজার বর্গফুট পরিসরের ভাসমান ঘর। এখানেই শেষ নয়। ৫২ বছর বয়সী এ ই-কমার্স মোগলের খামারবাড়ি রয়েছে পশ্চিম টেক্সাসে, যার আকার ১ লাখ ৬৫ হাজার একর। গত বছর ভূমির মালিকানার দিক থেকে শীর্ষস্থানীয় মার্কিনদের তালিকায় ২৬ নম্বরে থাকা বেজোসের তিনটি পরস্পর সংযুক্ত অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ম্যানহাটনের সেঞ্চুরি টাওয়ারে। আর বেভারলি হিলে রয়েছে ১২ হাজার বর্গফুটজুড়ে আরেক বাড়ি, যেখানে তাঁর প্রতিবেশী হলিউড তারকা টম ক্রুজ।
ওয়ারেন বাফেট
তৃতীয় শীর্ষ ধনী ওয়ারেন বাফেট আগের দুজনের থেকে অনেকটাই আলাদা। বিশ্বের সবচেয়ে তুখোড় বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচিত ৮৬ বছর বয়সী বাফেট অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন করেন। আবাসন খাতে নিজের বিনিয়োগ থাকলেও তুলনামূলক সাধারণ একটি বাড়িতেই তিনি থাকেন। নেব্রাস্কার ওমাহায় ১৯৫৮ সালে এই বাড়িটি তিনি কিনেছিলেন মাত্র সাড়ে ৩১ হাজার ডলারে। এখনো এখানেই থাকেন তিনি। অথচ ‘ওরাকল অব ওমাহা’ খ্যাত বাফেটের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ৬ হাজার ৫০০ বর্গফুট এলাকার ওপর ১৯২১ সালে নির্মিত বাড়িটি অবশ্য সংস্কারের মধ্য দিয়ে আধুনিক করে নিয়েছেন বাফেট।
মার্ক জাকারবার্গ
শীর্ষ ধনীদের মধ্যে সবচেয়ে তরুণ মার্ক জাকারবার্গের মোট সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৫৫ বিলিয়ন ডলার। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ৩২ বছর বয়স্ক জাকারবার্গ থাকেন ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলটোয়। ২০১১ সালে পালো আলটোয় ৫ হাজার বর্গফুটের ওপর এ বাড়ি জাকারবার্গ কেনেন ৭ মিলিয়ন ডলারে। পরের কয়েক বছরে বাড়িটির নিরাপত্তার স্বার্থে এর আশপাশের আরও চারটি বাড়ি তিনি ৪৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কিনে নেন। এগুলো নতুন করে গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া সান ফ্রান্সিসকোয় ডলোরস পার্কের কাছে রয়েছে তাঁর আরেকটি ছোট বাড়ি।
মাইকেল ব্লুমবার্গ
তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা মাইকেল ব্লুমবার্গের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪৫ বিলিয়ন ডলার। ব্লুমবার্গ এলপির প্রধান নির্বাহী ও নিউইয়র্ক সিটির সাবেক এই মেয়রের সম্পদ ছড়িয়ে রয়েছে সারা বিশ্বে। তবে ৭৪ বছর বয়সী এ ধনকুবের সবচেয়ে বেশি সময় কাটান তাঁর ম্যানহাটনের বাড়িতে। এমনকি তিন মেয়াদে মেয়র থাকাকালেও তিনি এ বাড়িতেই ছিলেন। পাঁচতলা এ বাড়িকে একটি মেগা ম্যানশনে রূপান্তরের ইচ্ছা তাঁর অনেক দিনের। এ কারণে ১৯৮৯ সাল থেকেই তিনি এর আশপাশের বিভিন্ন ইউনিট কেনা শুরু করেন। ইতিমধ্যে তিনি তাঁর বাড়ির আশপাশের ছয়টি ভবনের পাঁচটিই কিনে নিয়েছেন। এ বাড়ির বাইরেও নিউইয়র্কের হ্যাম্পটন, বারমুডা, কলোরাডো, ফ্লোরিডা ও লন্ডনে বিস্তর ভূসম্পত্তি রয়েছে ব্লুমবার্গের।
ল্যারি এলিসন
শৌখিন ব্যক্তি হিসেবে ওরাকলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ল্যারি এলিসনের সুখ্যাতি রয়েছে। ৪৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক এলিসন থাকেন ক্যালিফোর্নিয়ার উডসাইডে। একে একটি রাজ্যই বলা যায়, যার মূল্য আনুমানিক ১১ কোটি ডলার। ষোড়শ শতকের জাপানি স্থাপত্যের আদলে তৈরি তাঁর বাড়িটি ঘিরে রেখেছে ২ দশমিক ৩ একর বিস্তৃত এক মানবসৃষ্ট লেক। রোড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে একটি ম্যানশন রয়েছে ৭২ বছর বয়সী এলিসনের। জাপানের কিয়োটোয় রয়েছে একটি বাগানবাড়ি। এ ছাড়া হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের ষষ্ঠ বৃহত্তম দ্বীপ লানাইয়ের ৯৮ শতাংশেরও মালিক তিনি, যা ২০১২ সালে ৫০ কোটি ডলারের বিনিময়ে কিনেছিলেন এলিসন।

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…