Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

অবহেলিত জনপদ মেঘনা তীরের ‘মুন্সীগঞ্জের বকচর গ্রাম’

এম এম রহমান
আপডেট সময় : Monday, November 9, 2020
মেঘনা তীরের বকচর গ্রাম, পায়ে হাটা ছাড়া বিকল্প নেই

5

স্বাধীনতা যুদ্ধের বহুবছর আগে থেকেই অবহেলিত আধারা ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরবর্তী বকচর, সিকদারকান্দি, এবং চরআব্দুল্লাহ গ্রাম। এসব গ্রামগুলোতে আজও হয়নি যোগাযোগ ব্যবস্থার কোন উন্নয়ন। জরুরি প্রয়োজনে জেলা সদরে আসা যাওয়া করতে প্রতিদিন হাটতে হয় প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ। নদী পথে চরআব্দুল্লার মানুষ রজতরেখা নদী পাড়ি দিয়ে চিতলিয়া বাজারে আসে নিয়মিত। পার্শবর্তী বকচর গ্রামের লোকজনও ট্রলার দিয়ে রজতরেখা এবং সৈয়দপুরের ছোট নদীটি ট্রলারযোগে পাড়ি দিয়ে চিতলিয়া বাজারে আসে। সেখান থেকে সড়ক পথে মুন্সীগঞ্জ শহরে যাতায়াত করেন। সড়ক পথে এসব অবহেলিত গ্রামগুলোর মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে চরকেওয়ার এবং আধারা ইউনিয়ন মধ্যবর্তী স্থানে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বর্ষার চর ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। সেখান থেকে জাজিরা, সৈয়দপুর গ্রামের মিনাবাজার হয়ে সিকদারকান্দি গ্রাম।

সিকদারকান্দি গ্রামের পূর্বপাশে নির্মাণ করা হয়েছে আরেকটি কোটি টাকার ব্রিজ। ব্রিজটির আধা কিলোমিটার পূর্বে বায়রা বকচর গ্রামের শুরু। সেখানেও প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে আরেকটি ছোট ব্রিজ। জাজিরা থেকে বকচর গ্রাম পর্যন্ত কোটি কোটি টাকার একাধিক ব্রিজ নির্মান করা হলেও তৈরী হয়নি সড়ক। প্রায় ৫/৭ বছর আগে মিনাবাজার থেকে চরআব্দুল্লাহর নুরুল হকের বাড়ী পর্যন্ত ৬ ফিট প্রস্থ কাঁচা সড়ক নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না করার কারনে মানুষ ঠিকমত সড়কটি দিয়ে হাঁটতেও পারছেনা। স্থানীয়রা চাঁদা তুলে বা ব্যক্তি উদ্যোগে রাস্তাটি মেরামত করে প্রতিবছর।

স্থানীয় সুত্র জানায়, মেঘনা তীরের এসব অবহেলিত গ্রামীন জনপদে আজও গড়ে উঠেনি যানচলাচলের উপযোগী কোন সড়ক। মুন্সিগঞ্জ সদর থানার আধারা ইউনিয়নের মেঘনা তীরের বকচর, চর আব্দুল্লাহ ও সিকদার কান্দিসহ মেঘনা পাড়ের মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এই কাচা রাস্তাটি। প্রায় ৫ বছর আগে কাঁচা রাস্তাটি নির্মাণ করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোন সংস্কার করা হয়নি। এই রাস্তাটি গ্রামগুলোর অভ্যন্তরিন যোগাযোগে খুবই গুরুত্বপূর্ন। জেলা শহরে যাওয়ার দুই ওয়ার্ডের জনগনের একমাত্র স্থল পথ। এই অঞ্চলের পাশেই রয়েছে চরকেওয়ার ইউনিয়ন। শহরে যাওয়ার জন্য সংযোগ সড়কটি চরকেওয়ার ইউনিয়নের বসারচর পর্যন্ত পিচ ঢালাই হলেও
আধারা ইউনিয়নে অংশে রাস্তাটি পিচ ডালাই হয়নি অর্ধ যুগেও। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের দৈনিক যাতায়াতে ভোগান্তির শেষ নেই। সংস্কারের অভাবে সিকদারকান্দি টু চরআব্দুল্লাহ পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ কিলোমিটারের কাঁচা সড়কটি অনেক যায়গায় ভেংগে আছে। গত- ৫ বছরেও সংস্কার কাজ হয়নি। নিরুপায় হয়ে নিজেদের চলাচলের কথা চিন্তা করে গ্রামবাসীরা ব্যক্তি উদ্যোগে সংস্কার করল্যে বৃষ্টি আর বর্ষার তা আবার ভেংগে যায়।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ সারাবছরই ভোগান্তিতে পড়ে। বকচরের পশ্চিম পাশের সৈয়দপুর গ্রামের রাস্তাগুলোর ঢালাইয়ের কাজ হলেও বকচর এর রাস্তাগুলো এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সংস্কারের অভাবে রাস্তাগুলো জমির সাথে মিশে যাচ্ছে। পাঁয়ে হাটা ছাড়া কোন গতি নেই। প্রতিদিন পায়ে হাটার ভোগান্তির কারনে অনেক ছেলে মেয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। নদীপথেও যাতায়াতে দিনের চেয়ে রাতে বেশী ঝুঁকি। তারা আরো বলেন, সব ধরনের আগাম সবজি, আলুসহ কৃষি পন্য উৎপাদনে মেঘনা তীরের কৃষকরা অনেক এগিয়ে। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে অনেকটা পিছিয়ে যাচ্ছে এসব গ্রামের কৃষকরা। স্থল পথে কাঁচাসড়কগুলোগুলোকে যান চলাচলের উপযোগী করলে নৌপথে নয় স্থল পথেই দ্রুত সময়ে শহরে যেতে পারবে এসব গ্রামের মানুষ।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধুমাত্র উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে পিছিয়ে আছে মেঘনা তীরের মানুষ। স্বাধীনতার বহু আগে থেকেই এসব এলাকার মানুষ দেখেনি গাড়ী চলাচলের কোন রাস্তা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব অবহেলিত গ্রামগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বেশ কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণ করে। তৈরী করেন কাঁচা মাটির সড়ক। দীর্ঘ ৫/৭ বছর ধরে অবহেলিত গ্রামগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এগিয়ে আসেনি কেউ। স্থানীয় গ্রামবাসীরা আশাবাদি সরকার এবং প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা গ্রামগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উদ্যোগী হবেন। পাশপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা গ্রামকে শহরে পরিনতা করবে। দ্রুত সময়ে অবহেলিত গ্রামগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়েছে স্থানীরা গ্রামবাসীরা।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares