Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

আজ থেকে রাজধানীতে জোনভিত্তিক লকডাউন

রির্পোটারের নাম 68 বার
আপডেট সময় : Sunday, June 7, 2020

3

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ছুটি না বাড়িয়ে এলাকাভিত্তিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তিনটি জোনে ভাগ করে এলাকাভিত্তিক ম্যাপ প্রস্তুত হয়েছে। আজ রোববার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

জোন ভাগ করে এলাকাভিত্তিক লকডাউন করার কথা জানালেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। আজ থেকেই রাজধানীতে জোন ভাগের কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি। জানা গেছে, পুরান ঢাকার ওয়ারি ও ধানমন্ডির রাজাবাজার এলাকা দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হবে লকডাউন।

দেশে গেল দুই সপ্তাহে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফেরার চেষ্টাকে ম্লান করে দিচ্ছে কোভিড সংক্রমণের মাত্রা। এ পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবারও দফায় দফায় বৈঠক করেছে স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও আইসিটি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতর। বৈঠক শেষে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, আর পুরো দেশে ছুটি ঘোষণার চিন্তা নেই সরকারের। ঝুঁকি বিবেচনায় রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করার দিকেই এগোচ্ছেন তারা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইইডিসিআর, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নিয়ে রোববার (আজ) থেকেই রাজধানীতে জোন ভাগের কাজ শুরু হবে।

অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, রাজধানীর একাধিক জায়গা রোববার ভাগ করার একটি প্রচেষ্টা হাতে নেওয়া হয়েছে। রেড জোনগুলোতে সব কিছুই বন্ধ করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, কোনো এলাকায় প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ জন হলে সেই জায়গা রেড জোন হিসেবে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। দুই-একদিনের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কাজটি শুরু হবে। এটি সফল হলে পরের সপ্তাহ থেকে সামগ্রিক পরিকল্পনা করে মাঠে নেমে পড়বেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দেশজুড়ে তা বাস্তবায়ন করতে একটু সময় লাগবে, কারণ এক্ষেত্রে রোগীর সংখ্যা কোথায় বেশি তা বের করতে হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেড জোন পুরোপুরি কঠোর লকডাউনের আওতায় থাকবে। এ জোনের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামসহ যেসব জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি সেখানে এলাকাভিত্তিক লকডাউন করা হবে। আর ইয়োলো ও গ্রিন জোনে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে তালিকাভুক্ত করা হবে। মূলত সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিদিন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর চিহ্নিত করে করোনা মানচিত্র আপডেট করা হবে। আক্রান্তের ঘনত্ব অনুযায়ী এই মানচিত্র হবে তিন ধরনের—রেড, ইয়েলো ও গ্রিন। প্রাথমিকভাবে কোন এলাকাগুলোকে রেড জোনে রাখা হতে পারে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামের যেসব এলাকাগুলোতে সংক্রমণ বেশি সেগুলো রেড জোনে থাকবে। এছাড়াও অন্যান্য যেসব জেলায় সংক্রমণ বেশি সেগুলোও রেড জোনে রাখা হবে।

জোন ভাগ হবে যেভাবে : কোনো এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি লাখে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন করোনা আক্রান্ত হলেই রেড জোন ঘোষণা করা হবে। রোগীর সংখ্যা এর কম থাকলে তা ইয়োলো জোন হিসেবে বিবেচিত হবে। দীর্ঘমেয়াদে ইয়োলো জোনকেও লকডাউনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে কিছুটা শিথিল অবস্থা থাকবে। প্রয়োজনে কাগজ দেখিয়ে ইয়েলো জোন এলাকা থেকে বের হওয়া যাবে।

জোন ভাগের ক্ষেত্রে করোনা আক্রান্তদের ফোন নম্বরের অবস্থান বিশেষ কাজে আসবে। সেই নম্বরের অবস্থান নির্ধারণ করে কোন এলাকায় কত রোগী তা সুনির্দিষ্টভাবে জানার কাজ করছে আইসিটি বিভাগ। তবে তা এখনো শেষ হয়নি। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে এ সপ্তাহেই উদ্যোগটি কার্যকর করা যাবে বলে আশাবাদী স্বাস্থ্যবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান মনে করেন, একটি ওয়ার্ড বা প্রয়োজনে তারও ছোট এলাকা লকডাউন হতে পারে।

জোনগুলোতে কোন পদ্ধতিতে কাজ করা হবে জানতে চাইলে অধিদফতরের এই কর্মকর্তার উত্তর, ‘রেড-ইয়োলো-গ্রিন জোন নাকি অন্য কোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে সেই সম্পর্কিত নির্দেশনা পাইনি। ম্যাপ নির্ধারণের কাজ শেষে সেটি জানা যাবে।’

গত ১ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজটি প্রক্রিয়াধীন। আইসিটি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞরা মিলে প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর সেটি পেলে এলাকা ধরে জোন ভাগের কাজ শুরু করবে। লকডাউন ঘোষণার কাজ সংশ্লিষ্ট এই তিন মন্ত্রণালয়ের যে কেউ ঘোষণা করতে পারে। সারা দেশে এটি প্রয়োগ করা হলে স্থানীয় প্রশাসনও লকডাউনের ঘোষণা দিতে পারবে।

জীবনযাপন হবে যেভাবে : সাধারণ ছুটির সময় দেখা গেছে, ঘর থেকে বের হতে বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করা হলেও কেনাকাটার জন্য বাইরে এসেছে মানুষ। ঘর থেকে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে শপিং করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তা মেনে চলেননি অনেকে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কোনো এলাকায় কঠোর লকডাউন ঘোষণা করলে সেখানকার দৈনন্দিন জীবনযাপন কীভাবে হবে।

লকডাউন থাকা এলাকার জনসাধারণের প্রবেশ ও বহির্গমন বন্ধ থাকবে। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য লকডাউন এলাকার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হবে। ভ্যানে করে এলাকার ভেতরেই সেগুলো কেনাবেচা হবে। নিম্ন-আয়ের মানুষদের জন্য সরকারি সহায়তা থাকবে।

করোনা আক্রান্তের ক্ষেত্রে কী হবে : লকডাউন এলাকার কেউ করোনা আক্রান্ত হলে বাসায় আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হবে। সরকারিভাবে তাদের মনিটরিং চলবে। আত্মীয়স্বজনের গতিবিধি খেয়াল রেখে তাদের পরামর্শ দেবেন সংশ্লিষ্টরা। রোগীর শারীরিক অবস্থা বেশি নাজুক হলে তাকে এলাকার বাইরে আনা হবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত : প্রতিদিন মৃত্যুসংখ্যা গড়ে ৩০ জনের কাছাকাছি থাকায় নতুন এই পদ্ধতি চলতি সপ্তাহেই শুরু হতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রথমে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এটি করা হলেও পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares