Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

আজ মহান মে দিবস

জাতীয় ডেস্ক 95 বার
আপডেট সময় : Friday, May 1, 2020

1

মহান মে দিবস আজ। মাঠেঘাটে, কলকারখানায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে রক্তঝরা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস সৃষ্টির দিন। দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ১৮৮৬ সালের এ দিন বুকের রক্ত ঝরিয়েছিলেন শ্রমিকরা। ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে সেদিন শ্রমিকেরা জীবন দিয়েছিলেন। সেই আত্মদানের পথ ধরে পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস।

এ বছর এমন এক সময় মে দিবস পালিত হবে, যখন সারা বিশ্ব করোনা মহামারিতে পর্যুদস্ত। করোনা মোকাবিলায় লকডাউনের ফলে সবাই ঘরবন্দি। বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমিক কাজে যেতে পারছে না। চাকরিচ্যুত হয়েছেন অনেকে। ফলে অনেকের পরিবার দুই বেলা দুই মুঠো অন্ন জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে।

বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে মানুষের জীবনের আশঙ্কার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, করোনার প্রভাবে বাংলাদেশেও বিপুল সংখ্যক কর্মজীবী মানুষ কর্মচ্যুত হবেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাবে, করোনার কারণে বাংলাদেশে চাকরি হারানোর তালিকায় যুক্ত হতে পারেন অন্তত দেড় কোটি মানুষ।

এদিকে দেশ যখন করোনায় দুঃসহ দিন পালন করছে, ঠিক সে মুহূর্তে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি খুলে দিয়েছে বিজিএমই। চাকরি হারানোর ভয়ে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে করোনা উপেক্ষা করে দেশের সবচেয়ে করোনা ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি শিল্প এলাকাÑ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে লক্ষ লক্ষ পোশাক শ্রমিক কাজে ফিরেছেন। ফলে করোনা ঝুঁকি আরো প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারখানা খোলার পর নারায়ণগঞ্জ ও দেশে একদিনে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্ত হয়।

এমন পরিস্থিতিতেও বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে অনেক মালিকের বিরুদ্ধে। দেশের বেশ কিছু যায়গায় বেতন পরিশোধের দাবিতে সড়কে বিক্ষোপ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) সতর্ক করে বলেছে, শ্রমিকদের কাজে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা না দিলে ভাইরাসের দ্বিতীয় দফা ঢেউ আসতে পারে। অতএব, বিষয়টি পরিষ্কার যে, বরাবরের মতো এখনো বঞ্চিত শ্রমিকরা। তারা তাদের ন্যায্য অধিকার না পেলে ভুগবে দেশ।

মে দিবস পালন তখনই সার্থক হবে, যখন দেশের শ্রমজীবী মানুষ ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মস্থলের নিশ্চয়তা পাবেন। মালিকদের উপলব্ধি করতে হবে, শ্রমিকদের ঠকিয়ে শিল্পের মুনাফা আদায় বা অর্থনীতির বিকাশ নিশ্চিত করা যাবে না।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, করোনার কারণে কারখানায় উপস্থিত হতে না পারলে চাকরিচ্যুত না করার নিশ্চয়তা দেওয়া হোক, কারখানায় সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতসহ বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হোক এটাই আসন্ন মে দিবসে প্রত্যেক শ্রমিকের প্রত্যাশা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares