Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

আলুতে নতুন স্বপ্ন মুন্সীগঞ্জের কৃষকদের

হোসনে হাসানুল কবির
আপডেট সময় : Thursday, November 12, 2020
আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক

1

মুন্সীগঞ্জে আগাম আলু রোপণ শুরু হয়েছে। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় চরের উঁচু জমিতে আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। সকাল থেকে আলুর জমি পরিষ্কার, পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে জমি চাষ, সার ছিটানো, আলু রোপণ, জমি খড়কুটো দিয়ে ঢেকে দেওয়া, আলুর জমির চারপাশে ফসল সুরক্ষা বেড়া নির্মাণ এসব কাজে এখন ব্যস্ত তারা। কার্তিক মাসজুড়েই মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা আগাম আলু রোপণ করবে। অগ্রহায়ন ও পৌষ মাসজুড়ে চলবে দ্বিতীয় ধাপে আলু রোপণ। এবার আলুতে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন কৃষক।

এখন থেকে আলুচাষিদের কর্মব্যস্ততা থাকবে পৌষ মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। পাশাপাশি কিষানিদের বেড়েছে ব্যস্ততা। কৃষকরা শ্রমিক নিয়ে যে আলুর বীজ রোপণ করছে সেই আলুর বীজ বাড়িতে বসে কেটে দিচ্ছেন নারীরা। শুধু তাই নয়, আলু কাটা শ্রমিকদের দিতে হয় নগদ টাকা অথবা আলুর বীজ ব্যতীত অবশিষ্ট অংশ। স্থানীয়দের ভাষায় একে কাটা আলু বা গোস্ত বলে। বীজ আলুগুলোর যে স্থানে অঙ্কুর বা চোখ আছে সেটাকে আলাদা করার পর আলুর যে বাকি অংশ থাকে তার দামও বেশ ভালো। খাবার আলু হিসেবেই সেটা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। আস্ত আলুর চেয়ে কেজিতে পাঁচ টাকা কমে বিক্রি হয় গোস্ত আলু।

সরেজমিন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার জাজিরা, সিকদারকান্দি এবং বকচর এলাকার মেঘনার তীরে উঁচু জমিতে কৃষকদের আলু রোপণ করতে দেখা গেছে। কোনো কোনো জমিতে এরই মধ্যে আলু রোপণ শেষ হয়ে গেছে। পরিচর্যার কাজে সেখানে কৃষকরা সময় দিচ্ছে। হাবিজউদ্দিন মাঝি নামে বকচর গ্রামের এক কৃষক তার জমিতে আগাম আলু রোপণ করছেন। ৭০ শতাংশ জমিতে আলু রোপণ করা হয়েছে। আরো ৩১৫ শতাংশ জমিতে এ সপ্তাহেই আলু রোপণের কাজ সম্পন্ন করবেন তিনি।

কৃষক হাবিজউদ্দিন মাঝি জানান, গত বছর আগাম আলুতে তিনি লাভবান হয়েছিলেন। এ বছর তিনি ৪০০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু রোপণ করবেন। এরই মধ্যে ১০০ শতাংশ জমিতে শীলকালীন শাক-সবজি আবাদ সম্পন্ন করেছেন তিনি। আরেক কৃষক সালামও তার নিজস্ব ৩০০ শতাংশ জমিতে আলু রোপণ করেছেন। তিনি আরো জানান, আগামী সাপ্তাহে মেঘনা তীরের শত শত একর জমিতে আলু রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। পাশাপাশি অনেক কৃষক পেঁয়াজের চারা আবাদেও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শাহ আলম জানান, এ বছর ফসলিজমির পানি দ্রুত নেমে গেছে। উঁচু জমিগুলোতে আগাম আলু রোপণ শুরু করেছে কৃষকরা। ১০ দিন পর জেলাজুড়ে আলু রোপণ বেড়ে যাবে। আমরা এ বছর ১ হাজার আলু চাষিকে ১০০ গ্রাম করে পেঁয়াজের বীজ দেব। এটা তারা আলুর জমিতে সহায়ক ফসল হিসেবে রোপণ করবে। এতে কৃষকদের অতিরিক্ত সার ও কিটনাশক ব্যবহার করতে হবে না। ১০০ গ্রাম পেঁয়াজের বীজ থেকে কৃষকরা পাঁচ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। এতে কৃষক আলুতে ক্ষতির সম্মুখীন হলে সেটা পুষিয়ে নিতে পারবে।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares