Logo
শিরোনাম :
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

ইজ্জতের মূল্য ৮০ হাজার টাকায়

তুষার আহাম্মেদ 322 বার
আপডেট সময় : Saturday, September 12, 2020
শ্রীনগরে ৮০ হাজার টাকায় ইজ্জতের মূল্য গ্রাম্য সালিশে

5

শ্রীনগরে একটি ধর্ষণ মামলার বাদী বিবাদীর অনুপুস্থিতিতে সালিশ করে ধর্ষককে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে এক ইউপি চেয়ারম্যান। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাড়ৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম তালুকদারের বাড়িতে আয়োজিত সালিশে এই রায় দেওয়া হয়।

সালিশ অযোগ্য অপরাধের বিষয়ে কিভাবে সালিশের আয়োজন করলেন এই প্রশ্নের জবাবে সেলিম তালুকদার বলেন স্থানীয় সালিশদারদের দাবীর মুখে এটি করতে হয়েছে। সালিশে মামলাটির বাদী গৃহবধু ও ধর্ষক আক্তার মোড়ল উপস্থিত ছিলেন না। এ সময় গৃহবধুর পক্ষে

তার স্বামী ও শশুড় এবং ধর্ষক আক্তারের পক্ষে চেয়ারম্যান নিজে দায়িত্ব নেন। সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে মর্মে ইউপি চেয়ারম্যান ধর্ষিতার শশুরের কাছ থেকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন।

পরে সাংবাদিকদের ফোন পেয়ে চেয়ারম্যান রাতেই ধর্ষিতার শশুাকে ডেকে নিয়ে স্ট্যাম্প ফেরত দেয় এবং এই ব্যাপারে মুখ খুলতে নিষেধ করে।

সালিশে উপস্থিত আড়িয়ল বিল আন্দোলনের এক নেতা নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুই পক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসারে চেয়ারম্যান সালিশ বসায়। প্রথমে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও ধর্ষিতার স্বামীর দাবীর প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান পরে আরো ১০ হাজার টাকা বারিয়ে দেয়।

আরেকটি সূত্র জানায়, সালিশে ধর্ষক আক্তার মোড়লকে অনুপুস্থিত দেখে ধর্ষিতার স্বামী ও শশুড় সালিশে থেকে চলে আসে। পরে ধর্ষণ মামলার স্বাক্ষী তাসু দেওয়ান ন্যায্য বিচারের আশ্বাস দিয়ে তাদেরকে সালিশে ফিরিয়ে আনে।

শ্রীনগর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ মোঃ হেদায়াতুল ইসলাম ভূঞা বলেন, সালিশের বিষয়টি তার জানা নেই। তাছাড়া সালিশে তারা যাই করুকনা কেন তা মামলায় প্রভাব ফেলবেনা।

এর আগে একাধিকবার সম্ভ্রম হারানোর পর ওই এলাকার দরিদ্র এক গৃহবধু গত ৪ জুলাই শ্রীনগর থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রায় এক মাস পর ২৭ জুলাই সোমবার ধর্ষক আক্তার মোড়লের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা গ্রহণ করে।

ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ জানায়, তাদের এলাকার মৃত জব্বার মাদবরের ছেলে আক্তার মোড়ল (৪২) প্রায়ই তাদের বাড়িতে আসত। জুন মাসের মাঝা মাঝি কোন এক রাতে ওই গৃহবধু প্রকৃতির ডাকে সারা দিয়ে ঘর থেকে বের হলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আক্তার মোড়ল তাকে ধর্ষণ করে।

এই ঘটনা প্রচার করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত ৩ জুলাই রাতে ওই নারী ধর্ষিত হলে সে উপায় না দেখে বিষয়টি তার স্বামীকে জানায়। পরে পরিবারের পরামর্শে সে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করে।

ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য পুলিশ যাওয়ার কারণে আক্তার মোড়ল ওই গৃহবধূর বাড়ি-ঘরে হামলা চালায়।

এছাড়াও আক্তার মোড়লের বিরুদ্ধে একাধিক ধর্ষন, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী ঘটনার অভিযোগ রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares