Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

ঈদ শেষে শিমুলিয়া ঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক 211 বার
আপডেট সময় : Friday, May 29, 2020

1

ঈদের ছুটি শেষ, লকডাউনও আর বাড়ছে না; দক্ষিণাঞ্চল থেকে রাজধানীমুখী হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে। কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌরুটে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ছিল ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল। ফেরিতে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি উপক্ষো করে গাদাগাদি করে মানুষ ফেরিতে করে পদ্মা নদী পাড়ি দিচ্ছে। এ রুটে ৪টি রোরো, ৪টি কে-টাইপ ও ২টি মিডিয়ামসহ ১০টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যান পারপার করা হচ্ছে। তবে পদ্মায় স্রোত থাকায় ৬টি টানা ফেরি চলতে পারছিল না।

এদিকে, বিশিষ্ট নিরাপত্তা বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম ফজলে আকবর বলেন, প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত বাড়লেও জনসচেতনতা বাড়েনি। এ প্রবণতা বিপদ ডেকে আনছে। ফেরিঘাটে মানুষের ঢল, মুখে কারো মাস্ক নেই। এ জনসমাগম ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এভাবে ঢাকামুখী মানুষের ঢল ঠেকাতে না পারলে ঢাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের কুটসটাউন ইউনিভার্সিটি, পেনসিলভানিয়ার ক্রিমিন্যাল জাস্টিস বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজুল ইসলাম খোন্দকার বলছেন, সবাই ছুটে আসছে ঢাকায়। নিজ এলাকায় কাজ নেই, চলো ঢাকায় যাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য কোচিং করতে হবে, চলো ঢাকায় যাই। বাজার করতে হবে, চলো ঢাকায় যাই। রিকশা চালাতে হবে বা বুয়ার কাজ করতে হবে, তাও চলো ঢাকায় যাই। আর একবার ঢাকায় এলে এখান থেকে আর কেউ ফিরে যেতে চায় না। আমি এ রকম অনেককে জানি, যারা ঢাকায় সরকারি চাকরি করেন এবং তাদের যখন ঢাকার বাইরে বদলি করা হয় তখন তারা তদবির শুরু করেন যেন সেই বদলি রদ করা যায়। আর বাইরে থেকে বদলি হয়ে ঢাকায় আসার জন্য তদবির তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

অনেককেই বলতে শুনি বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকায়, মৃত্যু হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে কাছের সঙ্গী। ঢাকা নিয়ে সবার অভিযোগের অন্ত নেই, কিন্তু কেউ ঢাকা ছেড়ে যেতে রাজি নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের পরিকল্পনাবিদরা এবং যারা রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন তাদের কেউই ঢাকা ছেড়ে যেতে রাজি বলে মনে হয় না। যদি হতেন, তাহলে সমুদ্র গবেষণা কেন্দ্র ঢাকায় হতো না।

বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের এজিএস মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে কাঁঠালবাড়ী থেকে হাজার হাজার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে শিমুলিয়ায় আসেন। তবে চলাচলে স্বাস্থ্যবিধি মানেননি তারা। বুধবার পদ্মায় যে ২ নম্বর সংকেত ছিল সেটা বৃহস্পতিবার সকালে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। পদ্মায় বুধবারের মতো রাত না থাকলেও কিছুটা উত্তাল; সঙ্গে বাতাস ছিল। তাই সব ফেরি চলতে পারছিল না। যে ১০টি ফেরি চলছিল সেগুলো খুব সাবধানে চলছিল। রাতের কারণে ফেরিগুলোর যাওয়া-আসায় সময় লাগছে বেশি। আমরা চেষ্টা করছি নির্বিঘ্নে পারাপার করাতে। এছাড়া ‘কর্ণফুলী’ নামে একটি ছোট ফেরি স্ট্যান্ডবাই রাখা আছে। জরুরি প্রয়োজনে এটি ব্যবহার করা হবে।

অন্যদিকে শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, যাত্রীরা ঘাটে নেমে গণপরিবহন না পেয়ে পড়ছেন বিপাকে। তাদের অনেককেই ছোট গাড়ি, অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল এমনকি পিককাপে বা ট্রাকে করেও গন্তব্যে রওনা দিতে দেখা গেছে। এতে যাত্রীদের কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনতে চ্ছে। কেউ কেউ আবার ঘাটে কোনো যানবাহন না পেয়ে হেঁটেই রওনা হয়েছেন গন্তব্যে।

মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ সিরাজুল কবির বলেন, আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তায় কাজ করছি কিন্তু যাত্রীরা শুনছেন না। কারো ধৈর্য নেই। ঘাটে এসে হুড়াহুড়ি করে তারা ঝুঁকি বিভিন্ন যানে চড়ে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। তবে নৌপথে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares