Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

উন্নয়নযাত্রায় মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা

অনলাইন ডেস্ক 293 বার
আপডেট সময় : Saturday, September 12, 2020
উন্নয়নযাত্রায় মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা

7

উন্নয়নযাত্রায় নাগরিক সুবিধায় এগিয়ে চলেছে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা। এক সময় ব্যাপক সমস্যা কবলিত পৌরসভা ছিলো মুন্সীগঞ্জ। স্বাধীনতা পরবর্তী চেয়ারম্যান ও মেয়র আসে, মেয়র যায়, কিন্তু প্রথম শ্রেণীর এই পৌরবাসীর ভাগ্যের তেমন উন্নয়ন হয়নি। নাগরিক সুবিধা আদায়ে নানা দাবি উঠে, ছোট খাটো উন্নয়ন কিছু হয়, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো মাটিচাপাই থাকে। এরই মধ্যে ২০১৬ সালে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহচর, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের বড় ছেলে হাজী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব। পৌরসভার নাগরিকদের সেবায় নিরবে-নিভৃতে শুরু করে নানা কর্মযঞ্চ। আধুনিক পৌরসভা গঠনে নিরলসভাবে কাজ করেন। সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন এই মেয়র।

১৯৭২ সালে স্থাপিত হয় মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা। এরপর ১৯৯০ সালে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। এই পৌরসভার স্বনামধন্য চেয়ারম্যান ছিলেন বর্তমান মেয়রের দুই চাচা প্রয়াত খালেকুজ্জামান খোকা ও বর্তমান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছ-উজ্জামান আনিছ। তাদের সময় স্বচ্ছভাবে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হলেও যুগের পরিবর্তনে নাগরিকদের চাহিদাও বেড়েছে। বিএনপি সমর্থিত মেয়রকে পরাজিত করে ২০১৬ সালে ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন হাজী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নাগরিকদের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন। নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শহরের প্রধান সড়কে এলইডি বাতি স্থাপন, বঙ্গবন্ধুর নামে প্রধান সড়কের নামকরণসহ পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক বঙ্গবন্ধু পরিবার ও মুন্সীগঞ্জের কৃতি সন্তানদের নামে নামকরণ করেন।

পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে আল্লাহ ও হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নামে এবং মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন চত্বর আল্লাহর ৯৯ নামে স্থাপনা করা হয়েছে। শহরের অলিগলিগুলো এখন আর অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে না। প্রতিটি গ্রামের রাস্তা আলোকিত করা হয়েছে বাতির ব্যবস্থা করে। পৌরসভা কার্যালয়ের মূল চত্বরও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে।

এই মেয়রের কর্মযঞ্চ এখানেই শেষ নয়। তিনি শহরের অলিগলির রাস্তা থেকে শুরু করে বড় বাজেটের বেশ কয়েকটি রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণ করেছেন। ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকায় পৌরসভায় প্রতিদিন ৫০ হাজার মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সম্মত পানি নিশ্চিত করার জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট-এর নির্মাণ কাজ চলছে।

মানবিক কর্মকাণ্ডেও মেয়র হাজী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব, বিপ্লব ঘটিয়ে যাচ্ছে। বিবেকমান মানুষ হিসেবে পৌরবাসীর সেবা করছেন বলে স্থানীয়দের অভিমত। করোনা ভাইরাসে পৌরসভার ৮ হাজার পরিবারের মাঝে উন্নতমানের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। সরকারি অর্থের সাথে নিজের অর্থও ব্যয় করে নাগরিকদের সেবা করছেন তিনি।

করোনা ভাইরাসে মুসল্লিদের নিরাপদে নামাজ আদায় করার জন্য পৌরসভার মসজিদে মসজিদে জীবানুনাশক টানেল দিয়ে স্থাপন করে তিনি প্রশংসিত।

এদিকে, সর্বশেষ নারীদের জন্য নারী সেবায় সম্পূর্ণ আধুনিক ও ধর্মীয় কার্যাদি সম্পন্ন করার জন্য ‘অঙ্গনা’ নামে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করে তা ১০ সেপ্টেম্বর (আজ) নারীদের ব্যবহারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হয়েছে। নারী সমাজ ঘর থেকে বের হয়ে চলার পথে নামাজ আদায় করা, অযুখানা, ড্রেস পাল্টানোসহ অনেক গুরুত্বপুর্ণ কাজগুলো করতে পারবেন। শৌচাগারও রয়েছে এখানে।

ওদিকে, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বিচ্ছিন্ন একটি গ্রামের নাম চরকিশোরগঞ্জ। এই গ্রামের ১০ হাজার জনগোষ্ঠীর সরাসরি যোগাযোগে বড় বাঁধা কালিদাস নদী। গ্রামের উত্তরে ধলেশ্বরী নদী। কিন্তু মাঝপথে কালিদাস নদী চরকিশোরগঞ্জ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। গ্রামবাসীর-এ নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘ বছরের। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েও গ্রামের মানুষের দাবি কেউ পূরণ করেননি। বিগত নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মেয়র প্রার্থীরা শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন। কিন্তু কেউ বাস্তবায়ন করেননি। বর্তমান মেয়রের আমলে এই এলাকার রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও সড়ক বাতিসহ চরকিশোরগঞ্জ গ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু গ্রামের মানুষের সেতুর দাবির বাস্তবায়ন হয়নি।

কালিদাস সাগর নদীতে গ্রামের মানুষ আগে নৌকায় পারাপার হয়ে শহরে আসা-যাওয়া করতে হতো। ২০১৮ সালে মুন্সীগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন। কিন্ত সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি সেতু জরুরি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী এবং এই গ্রামের কাউন্সিলর সুলতান বেপারী। তারা জানান, শিশুপার্ক হওয়ার পর চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ হলে নাগরিকদের বড় চাহিদাগুলোর পরিসমাপ্তি হবে।

এদিকে, আল্লাহ ও হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নামে স্থাপনা,আল্লাহর ৯৯ অপর আরেকটি স্থাপনা নির্মাণ, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, ডিসি পার্ক, পতাকায় একাত্তর ভাস্কর্য ও মোঘল আমলে নির্মিত ইদ্রাকপুর কেল্লাটি সৌন্দর্য বর্ধন করে মুন্সীগঞ্জকে একটি আধুনিকমানের পৌরসভায় রূপান্তরিত করেছে।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব জানান, শুধু মাত্র নারী সমাজের কথা বিবেচনা করে মুন্সীগঞ্জে প্রথমবারের মত ও আধুনিকমানে অঙ্গনাকে রূপ দেওয়া হয়েছে। এই অঙ্গনায় আছে মহিলাদের জন্য অযুখানা ও নামাজের স্থান, ড্রেসিং রুম, সাজ-সজ্জা কক্ষ ও শৌচাগার। শহরস্থ জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন সড়কে পুলিশ সুপারের বাসভবনের পাশে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এবং এর জমি দিয়েছে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা। এই কাজে সহায়তা করার জন্য তৎকালীন জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানার কাছে তিনি কৃতজ্ঞ বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, মুন্সীগঞ্জ পৌরবাসীর সবচেয়ে বড় দাবি একটি শিশু পার্কের। বিনোদনের জন্য এই পার্কের চাহিদা দীর্ঘ বছরের। দেড় একর জমির ওপর বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠপুত্র “শেখ রাসেল পৌর শিশুপার্ক”-নামে একটি আধুনিকমানের শিশু পার্ক নির্মাণ কাজে শুরু হচ্ছে। জাতির জনকের কনিষ্ঠপুত্রের নামের মর্যাদা যাতে রাখতে পারি সেদিকে আমরা যতœশীল। আশা করি এই নামের অমর্যাদা হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares