Logo
শিরোনাম :
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

এনআইডির নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে কাদের হাতে!

রির্পোটারের নাম 17 বার
আপডেট সময় : Saturday, August 22, 2020
এনআইডির নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে কাদের হাতে!

1

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে কি থাকছে জাতীয় ভোটার পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কর্তৃত্ব? নাকি অন্য কোনো মহল বা সংস্থার অধীনে চলে যাচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে আলোচনা-সমালোচনায় মুখর। প্রশ্ন উঠেছে, নতুন করে কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান হতে চাচ্ছেন জাতীয় ভোটার পরিচয়পত্রের নিয়ন্ত্রক!

এ ইস্যুতে তুমুল আলোচনা চলছে নির্বাচন কমিশনের সদর কার্যালয়সহ মাঠ অফিসে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, ছবিসহ ভোটার তালিকাকে বিতর্কমুক্ত নির্ভুল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করা ইসির সাফল্য। এ সাফল্যে বিদেশেও সরকার সুনাম কুড়িয়েছে। হয়েছে প্রশংসিত। এখন কর্তৃত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার পায়তারায় আমরা রীতিমতো হতভম্ব। এনআইডির কর্তৃত্ব অন্যের তত্ত্বাবধানে চলে যাক তা মানতে সবাই নারাজ এ ইস্যুতে ভেদাভেদ ভুলে তারা একাট্টা।

এর আগে দেশের ভোটার হওয়া সব নাগরিকের তথ্য-ভান্ডারের তথ্য হুবহু (মিরর) কপি নিয়ে যায় রাষ্ট্রের একটি বিভাগ। তখন এ বিষয় নিয়েও ব্যাপক হইচই ও শোরগোল ছিল। ইসির সে দফায় আটকানোর সব চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছিল। এবার এনআইডির পুরো কর্তৃত্ব ইসির কাছ থেকে হাতছাড়া হওয়ার নতুন প্রক্রিয়া শুরুর শঙ্কায় ফের তোলপাড় শুরু হয়েছে। নাগরিক তথ্য সংরক্ষিত রাখার যে অঙ্গীকার ছিল ইসির তা অটুট থাকবে কিনা তা নিয়েও উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা।

স্পর্শকাতর এ বিষয়ে ফোন করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি ইসি সচিবালয়ের মুখপাত্র ও সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর এবং এনআইডির ডিজি ব্রি. জে. মো. সাইদুল ইসলামের। তবে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ভোটার জাতীয় পরিচয়পত্র যা বাই প্রোডাক্ট হিসেবে রাষ্ট্রের একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব আমাদের দিয়েছিল সরকার। এখন যদি তারা মনে করেন সেটা তাদের সুবিধাজনক কোনো কর্তৃপক্ষের অধীনে নিয়ে যাবেন তা নিতে পারেন। এতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নেই। তবে বছর বছর ভোটার তালিকা প্রণয়ন করার যে এখতিয়ার রয়েছে কমিশনের তা মোটেও ব্যত্যয় ঘটবে না।

২০০৮ সালের পর এখন পর্যন্ত এই তথ্য-ভান্ডার নির্ভুল ও আস্থার জায়গায় আনতে ৫০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। নতুনভাবে অন্যের অধীনে নেওয়া হলে সরকারের ব্যয়ের বোঝা বাড়বে। সম্প্রতি ৪৭ কোটি টাকা ব্যয় করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে এনআইডির মূল সার্ভার নির্বাচন ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। তিলে তিলে গড়ে তোলা কাজটি অন্যের অধীনে হস্তগত হওয়া নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে পুরো কমিশনজুড়ে।

এর আগে ছবিসহ ভোটার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়ন, সংরক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করার জন্য নিরা নামক একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এই কর্তৃপক্ষ নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ সার্বিক কার্যক্রম সুচারুভাবে করায় ব্যর্থ হলেও দায়িত্বটি নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ ছিল। বর্তমান অন্য কর্তৃপক্ষের অধীনে নেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর আগের সিদ্ধান্তের স্ববিরোধী হবেÑ এমন মন্তব্য করেছেন ইসির সে সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

এরই মধ্যে ইসির সদর কার্যালয়, ইটিআই এবং মাঠ অফিসের কর্মকর্তারা একট্টা হয়েছে। ইসির অধীনে না থাকলে নির্বাচনে কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সরকারের প্রতি এখানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হতে পারে কিনা এবং সর্বোপরি একক (নির্বাচন আয়োজনকারী) সংস্থার কাছে না থাকলে ভোটার স্থানান্তরসহ অন্যান্য কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে তা খতিয়ে দেখতে নিজেরাই এনআইডির পদস্থ কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটা টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি প্রতিবেদন তৈরি করে কমিশনে উপস্থাপন করবে। এমনকি নির্বাচন কমিশনের যে অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে সেখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে তা প্রতিহত করার যৌক্তিক উপায় বের করার পরামর্শ এসেছে সদস্যদের উদ্দেশ্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের নাগরিকের তথ্য নির্বাচন কমিশন ছবিসহ ভোটার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়ন করার মাধ্যমে একটি তথ্যসমৃদ্ধ নির্ভুল তথ্য-ভান্ডার গড়ে তুলেছে। অন্য কোনো সংস্থা স্বাধীনতার এত বছরেও তা করে দেখাতে পারেনি যা কমিশন মাত্র একযুগ সময়ের ব্যবধানে করে দেখিয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বিভাগ খানা জরিপ করে জনসংখ্যা নির্ণয় করলেও তা নির্ভুল ঘোষণা দিতে পারেনি আজও। এমনকি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন জন্মনিবন্ধন অধিদফতর নাগরিকের জন্ম সনদ দিলেও তা একটা ভিত্তির ওপরে এখনো প্রতিষ্ঠা পায়নি। এসব ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কমিশনের ছবিসহ জাতীয় ভোটার পরিচয়পত্র।

অপর এক কর্মকর্তা বলেন, দুই সংস্থায় কার্যক্রম চললে নির্বাচন করা ইসির জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে; যা সরকারের জন্য বিব্রতকর হতে পারে। এনআইডির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, সবকিছুই আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তাই এর বেশি কিছু বলা সমীচীন হবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares