Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

টিফিন না দিয়ে টিফিনের টাকা আদায়ের অভিযোগ

তুষার আহাম্মেদ
আপডেট সময় : Wednesday, November 11, 2020
কে.কে. গভঃ ইনস্টিটিউশন

1

করোনাকালিন সময়ে মুন্সীগঞ্জের কে কে গভ. ইনিস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মুনসুর আহম্মেদ কোন প্রকার বেতন কার্ডে টাকা উল্লেখ না করে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় করছে ৮৮৫ থেকে ১০৮০ টাকা। অথচ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। সেখানে ক্লাশ না করিয়ে ও টিফিন না দিয়ে আদায় করছে বাকি নয় মাসের টাকা। অথচ শিক্ষার্থীরে বেতন কার্ডে কোন টাকার উল্লেখ নেই। দেওয়া হচ্ছে না তাদের কোন ধররে টাকার রশিদ ও প্রমান পত্র। অথচ এভিজেএম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের থেকে বেতন, টিফিন ফি ও অন্যান্য ফি আদায় করেছে ৩২০ টাকা।

জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি কে কে গভ. ইনিস্টিটিউশন। দুই সিফটে রয়েছে প্রায় এক হাজার ছয়শত শিক্ষার্থী। এ শিক্ষার্থীদের বেতন ও নানান দিক নিয়ে রয়েছে নানা দূর্নীতি। ভর্তির সময় শিক্ষার্থীরা ৩ মাসের বেতন পরিক্ষার ফি, টিফিন ও অন্যান্য ফি দিয়ে ভর্তি হয়েছে। করোনাভাইরাসের ফলে মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করে, টিফিন না খেয়ে তাদের দিতে হচ্ছে বাকি নয় মাসের টাকা। অথচ তার কোন রশিদ দিচ্ছে না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যেখানে বেসকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থা চিন্তা করে বেতন ও অন্যান্য ফি অর্ধেক করেছে। সেখানে কে কে গভ. ইনিস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন কার্ডে টাকা উল্লেখ না করে আদায় করছে বাকি নয় মাসের টাকা। এছাড়াও বিদ্যালয়ের সামনের জায়গায় দোকান বরাদ্ধ দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তিনি।

কথা হয় কে কে গভ. ইনিস্টিটিউশনের অধ্যায়নরত দশম শ্রেণীর ব্যবসায় শিক্ষা শাখার এক শিক্ষার্থীর সাথে। সে জানিয়েছেন, আমরা ভর্তির সময় তিন মাসের বেতন, পরিক্ষার ফি ও অন্যান্য ফি দিয়ে ভর্তি হয়েছি। করোনার কারণে মার্চ থেকে বিদ্যালয় বন্ধ। কিন্তু কিছু দিন আগে শ্রেণী শিক্ষকের মাধ্যমে এপ্রির থেকে ডিসেম্বর মাসের মোট ১০৮০ টাকা দিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের বেতন বইয়ে কোন প্রকার টাকা উল্লেখ করেনি। কোন রশিদও দেয়নি।

অনেক অভিভাবক সাংবাদিকদের ব্যাপারটি জানিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সকলেই উদাসীন। এ দুইটি সরকারি বিদ্যালয়ের বিষয়ে এখনই হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এখান থেকে কি শিখছে সেটাও আমাদের দেখার বিষয়। তারা ক্লাস না করিয়ে প্রাইভেটের উপর কেন নির্ভরশীল? শিক্ষার্থীরা যাতে প্রাইভেটের উপর নির্ভরশীল না হয় সে ব্যাপারে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন একাধিক অভিভাবক।

ষষ্ঠ শ্রেণীর শ্রেণী শিক্ষক আজিজুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশক্রমে নয় মাসের বেতন ও টিফিন ফিসহ সর্বমোট জন প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮৮৫টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়মে সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই বেতন ও টিফিন ফি নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কে কে গভ. ইনিস্টিটিউশরে প্রধান শিক্ষক মুনসুর আহম্মেদ জানান, করোনার মধ্যে সরকারি কোন নীতিমালা আমাদের কাছে নেই। তাই আগের নিয়মে সীমিত আকারে টিফিন ফি, বেতন ও অন্যান্য ফি আদায় করছি। নীতিমালা থাকলে সেভাবেই আদায় করতাম। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮৮৫ থেকে ১০৮০ টাকা আদায় করে বেতন কার্ডে কোন টাকা উল্লেখ নেই এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বলেন, কোন শিক্ষার্থীদের বেতন কার্ডে টাকা উল্লেখ না থাকলে আমার কাছে আসলে আমি ঠিক করে দিব।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares