Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

পরিত্যক্ত অবস্থায় মুন্সীগঞ্জের ৬৯টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির

অনলাইন ডেস্ক 77 বার
আপডেট সময় : Monday, October 5, 2020
২০১৫ সালে ১৯ই ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৬৯টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির যাত্রা শুরু করে ছিলো

5

পড়ার সবচেয়ে প্রাচীন, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে বই। বই জ্ঞানের আধার। পৃথিবীর সকল জ্ঞান বইয়ের পাতায় ঘুমিয়ে থাকে। কোনো পাঠক যখন বইয়ের পাতা খোলে তখন ঘুমন্ত জ্ঞান জেগে ওঠে, কথা বলতে শুরু করে পাঠকের সাথে। জ্ঞানের আলো তখন পাঠককে আলোকিত করে, পাঠকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব চরাচরে।

কবি জসিমউদ্দীন যথার্থই বলেছেন, বই জ্ঞানের প্রতীক, বই আনন্দের প্রতীক। মনীষী লিও টলস্টয় শুধু এতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে মানুষের তিনটি জিনিস প্রয়োজন, বই, বই ও বই। এফ টরুপার বলেছেন, একখানি ভালো বই শ্রেষ্ঠ বন্ধু, আজ এবং আগামীকালের জন্য। সেই জ্ঞানের প্রতীক, মানুষের পরম ভালো বন্ধুকে ২০১৫ সালে মুন্সীগঞ্জবাসীকে উপহার দেন সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল।

২০১৫ সালে ১৯ই ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৬৯টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হয়। জেলার ৬৭টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় একটি করে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের ঘরে ঘরে বই পৌঁছবে বলে আশা ব্যক্ত করেন উদ্যোক্তা সাবেক মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল। কিন্তু এই উদ্যোগে উপকৃত হয়নি ইউনিয়ন পর্যায় বই প্রিয় মানুষ গুলো। কেউ কেউ আজও দেখেনি প্রায় লক্ষ টাকা ব্যয়ী সেই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গুলো। পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে ইউপি ভবনের পাশে কোনোটা ইউপি চেয়ারম্যানের বাসায়। খোঁজখবর রাখেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ।

প্রতিটি ইউনিয়নের নিজস্ব অর্থায়নে এই লাইব্রেরি গুলো প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিটি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ভ্যানটি তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার টাকা। বই কেনা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকার। লাইব্রেরিয়ানের মাসিক বেতন ধরা হয়েছিল ১৫শ টাকা। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে এই লাইব্রেরির যাবতীয় খোঁজ-খবর ও বইয়ের চাহিদা রেজিস্ট্রার তদারাকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো ইউপি সচিবকে। আর এই লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো ইউপি চৌকিদারকে। দায়িত্ব অবহেলা ও নজরদারীর অভাবে আজ মুন্সীগঞ্জের মানুষ পাচ্ছে না কবি জসিমউদ্দীনের মতে জ্ঞানের প্রতীক, এফ টরুপারের মতে মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, আর রবীন্দ্রনাথের মতে আত্মশুদ্ধির শ্রেষ্ঠ উপায় বইকে।

যসলং ইউনিয়নের বাসিন্দা ফারুক মোল্লা বলেন, কিছুদিন আগে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একটি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ভ্যান দেখেছি, কিন্তু তার মধ্যে কোনো বই দেখিনি, আর তার সেবা পাবো দূরের কথা।

সেরাজাবাদ রানা শফিউল্লাহ কলেজে পড়ুয়া ফাহিম ইসলাম জানান, তার ইউনিয়ন কামারখাড়া এখনো সে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রম দেখেননি। সে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সুবিধা না পাওয়া আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

তরুণ লেখক, সাংবাদিক ও সংগঠক শেখ রাসেল ফখরুদ্দীন বলেন, সর্বসাধারণের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি জাতির মেধা মনন ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারণ ও লালন পালন করে পাঠাগার। মুন্সীগঞ্জের ইতিহাস পাঠ করে দেখা যায় শত বছর পূর্বেও হাসাইল বানারীতে একাধিক সমৃদ্ধশালী পাঠাগার ছিল। কিন্তু বর্তমানে জ্ঞান বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার যুগে এসেও সেই হাসাইল বানারীতে একটিও পাঠাগার নেই তা সত্যিই আমাদের ব্যথিত করে।

এরকম ভাবে দিঘীরপাড়, বাংলাবাজারকে শিমুলিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বই পড়ুয়া মানুষ গুলো তাদের প্রতিক্রিয়া জানান। তারা দাবি ও প্রত্যাশা করেন জেলা প্রশাসক ও প্রত্যেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এবং দায়িত্ববান ব্যক্তিগণ খুব শীঘ্রই একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যাতে আবারও বই উৎসব সৃষ্টি হয় সকল ইউনিয়নে। বই পড়ুয়া মানুষ গুলো যাতে বঞ্চিত না হয় ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সেবা থেকে।

অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির দৃষ্টান্ত মূলক ভূমিকা রেখে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায়। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সদস্য হয়েছে সরকারি হরগঙ্গা কলেজে পড়ুয়া আবির ও মেহেদী তারা নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির থেকে বই নিয়ে পড়েন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দ্বীপক কুমার রায় বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিগুলোর সম্পর্কে খোঁজ নিতে হবে। ততকালিন জেলা প্রশাসক ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীগুলো প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন। কিভাবে পরিচালিত হবে, ফ্রিনেন্স উৎসটা কোথায় হতে পরিচালিত হবে এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares