Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

বিস্তৃত হচ্ছে করজাল

অনলাইন ডেস্ক 74 বার
আপডেট সময় : Monday, November 30, 2020

3

আয়করের আওতা বাড়ানো এবং নতুন করদাতা খুঁজে বের করার কাজ চলছে কয়েক বছর ধরেই। সরকারের রাজস্ব ভাণ্ডারে আয়করের অংশ বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগও। তবে এতে কোনোভাবে নাগরিকরা যেন বিব্রত না হন সেদিক বিবেচনায় নিয়েই করদাতা বাড়াতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে এসেছে সাফল্যও। জেলা, উপজেলা ছাড়িয়ে গ্রামেও যাচ্ছে কর বিভাগ। দেশজুড়ে তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন করদাতা। এতে বিস্তৃত হচ্ছে করের জাল। ফলে কয়েক বছরে করদাতা শনাক্তকরণ সংখ্যা (ই-টিআইএন) বেড়েছে। এখন টিআইএনধারী ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৯৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, করোনা সংকটের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলার আবহে কর অফিসে আয়কর বিবরণী জমা নেওয়া হচ্ছে। এনবিআরের প্রচারের ফলে রিটার্ন জমাদানে ব্যাপক সাড়াও পড়েছে। এবার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে টিআইএনধারী ছিল ৪৫ লাখের মতো। এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩৭ লাখ। রিটার্ন জমাও বাড়ছে। ২০১৫-১৬ করবর্ষে জমা পড়েছিল ১০ লাখের মতো। এর আগেও কয়েক বছর ধরে তা ১০ লাখের আশপাশেই ছিল। তবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রিটার্ন জমা দিয়েছেন প্রায় ২২ লাখ করদাতা। আয়কর বিভাগ আশা করছে এবার রিটার্ন জমা ২৫ লাখের মতো হতে পারে। আজ সোমবার চলতি করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা শেষ হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে কেউ আয়কর বিবরণী জমা দিতে ব্যর্থ হলে সময় বাড়ানোর আবেদন করতে পারবেন।

এ বিষয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, করের আওতা বাড়ানো ও নতুন করদাতা খুঁজে বের করার কাজ চলছে। তবে সেটি কোনোভাবেই নাগরিকদের বিব্রত করে নয়। এনবিআর চায়, নাগরিকরা স্বেচ্ছায় কর দেবেন। নাগরিকদের সেই পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মুমেন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, করোনাভাইরাস সংকটের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলার আবহে এবার কর অফিসে আয়কর বিবরণী জমা নেওয়া হচ্ছে। প্রচার-প্রচারণার ফলে রিটার্ন জমায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এবার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।

এদিকে, করদাতা বাড়াতে জেলা, উপজেলা ছাড়িয়ে গ্রামেও যাচ্ছে কর বিভাগ। এসব এলাকার অনেকে করের আওতার বাইরে রয়েছেন বলে মনে করছে এনবিআর। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদ অফিস থেকে ই-টিআইএন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে ই-টিআইএন দেওয়ার মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। রাজস্ব বিভাগের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে রাজস্ব আদায়ের তিন খাতের মধ্যে (আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক) চালকের আসনে বসবে আয়কর।

জানা যায়, যাদের করযোগ্য আয় রয়েছে, তাদের আয়কর বিবরণী জমা দিতে হবে। যেমন কোনো করদাতার আয় যদি বছরে তিন লাখ টাকার বেশি হয়, নারী (৬৫ বছর বা এর বেশি) হয় এবং বছরে আয় সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি হয় এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার আয় যদি বছরে চার লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি হয় তাদের আয়কর বিবরণী জমা দিতে হবে। যাদের ১২ ডিজিটের টিআইএন আছে; তাদের আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া আয় বছরের পূর্ববর্তী তিন বছরের যেকোনো বছর কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে, যদি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডারের কর্মচারী হন, যদি কোনো ফার্মের অংশীদার হন, অথবা সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষ, করপোরেশন, সত্তা বা ইউনিটে বা প্রচলিত কোনো আইন, আদেশ বা দলিলের মাধ্যমে গঠিত কর্তৃপক্ষ, করপোরেশন, সত্তা বা ইউনিটের কর্মচারী হয়ে ১৬ হাজার টাকা বা এর বেশি মূল বেতন পান, যদি কোনো ব্যবসা বা পেশায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে বেতনভোগী কর্মী হন, আয়কর অব্যাহতি পাওয়া বা হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য হয়ে থাকে, যদি কোনো বণিক বা শিল্পবিষয়ক চেম্বার বা ব্যবসায়িক সংঘ বা সংস্থার সদস্য হন, যদি মোটরগাড়ির মালিক হন (মোটরগাড়ি বলতে জিপ বা মাইক্রোবাসকেও বোঝায়), যদি কোনো সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন, যদি মূল্য সংযোজন কর আইনের অধীন নিবন্ধিত কোনো ক্লাবের সদস্য পদ থাকে, যদি চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি অথবা সার্ভেয়ার হিসেবে বা সমজাতীয় পেশাজীবী হিসেবে কোনো স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার নিবন্ধিত হন, যদি আয়কর পেশাজীবী হিসেবে এনবিআরের নিবন্ধিত হন, যদি কোনো পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের কোনো পদে বা সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হন, যদি কোনো সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কোনো স্থানীয় সরকারের টেন্ডারে অংশ নেন, যদি কোনো কোম্পানির বা কোনো গ্রুপ অব কোম্পানিজের পরিচালনা পর্ষদে থাকেন, যদি মোটরযান, স্পেস বা স্থান, বাসস্থান অথবা সম্পদ সরবরাহের মাধ্যমে শেয়ারড ইকোনমিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন এবং যদি লাইসেন্সধারী অস্ত্রের মালিক হন, তাহলে তার আয়কর বিবরণী জমা দিতে হবে। এসব বাধ্যবাধকতা আসায় অনেকেই আয়করের আওতায় আসছেন। চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশকেই ই-টিআইএন নেওয়ার মাধ্যমে আয়করের খাতায় নাম লেখাতে হচ্ছে। ফলে করদাতার সংখ্যা বাড়ছে।

সাম্প্রতিককালে আয়কর মেলা আয়োজন, আয়কর বিভাগের বড় সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়া আয়কর মেলা দিনে দিনে করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। ওই বছর ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রথম কর মেলা হয়। এরপর বিভাগীয় শহর এবং জেলা-উপজেলায়ও আয়োজন করা হয় কর মেলার। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে এ বছর করমেলা না করার সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর। তবে এতে সেবার মানে হেরফের না করতে আগেই মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। যার সুফল মিলতে শুরু করেছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ের কর অফিসে মেলার মতোই সুযোগ-সুবিধা দেওয়ায় ভোগান্তি ছাড়া বিবরণী জমা দিতে পারছেন করদাতারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares