Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

মুন্সীগঞ্জের হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার উপস্থিত না থেকে করোনা রোগীর চিকিৎসার প্রস্তুতি নিচ্ছে

রির্পোটারের নাম 579 বার
আপডেট সময় : Thursday, April 9, 2020

1

আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ: করোনা আতঙ্কের মধ্যে ১০০ শয্যার মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনেকেই অনুপস্থিত রয়েছেন। এমনকি হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে সর্দিকাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের রোগীর চিকিৎসায় কর্তব্যরত একমাত্র চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায়নি। সকল সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীকে কর্মস্থলে অবস্থান করার প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশ থাকলেও কেউ সেই আদেশ মানছেন না মুন্সীগঞ্জ সুনামধন্য মানুষের সেবক ডাক্তার মহোদয়গণ। যেখানে প্রতিদিন ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত জটিল ও কঠিন রোগী দেখে সামাল দিতে হিমশিম খেয়ে হাসপাতালের ডাক্তারগণ। সেখানে এখন রোগী শূন্য। ভাবতে অবাক লাগে না? স্থানীয়দের করোনার কারণে সকল রোগ ভালো হয়ে গেছে। এই সুযোগে ডাক্তারগণও লকডাউনের কথা বলে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

মোক্তারপুর থেকে বিথি নামে একজন অসুস্থ শিশু নিয়ে চিকিৎসার জন্য আসছেন। এক ঘন্টা বসে রইছেন হাসপাতালে তারা কেউই চিকিৎসা করছেন না। সিভিল সার্জনের সাথে ঘন্টাব্যাপী মির্টিং শেষে দাঁড়িয়ে দাঁিড়য়ে চিকিৎসা দিয়েছেন। অপর আরো কয়েক রোগীকে রাগ করে চলে যেতে দেখা গেছে।

অধিকাংশ রোগীই অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: সাখাওয়াত হোসেন রোগীর সাথে খারাব আচরণ করেন। কোন কিছুতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে যান। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এ হাসপাতালের কর্মরত ১৮ চিকিৎসকের মধ্যে ১৩ জন চিকিৎসকই অনুপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে হাসপাতাল ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

এদিকে, করোনা আতঙ্কের কারণে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ছিল নেহাতই কম। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা স্বল্পসংখ্যক রোগীও চিকিৎসক না পেয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। গাইনি সংক্রান্ত চিকিৎসাসেবা নিতে মরিয়ম (২৩) নামে ওই রোগী তার দ্বারস্থ হন।
গজারিয়া, সিরাজদিখান, টংগীবাড়ি, লৌহজং, শ্রীনগর ও সদর এখন রোগী শূন্যতে ভোগতেছে। এই সুযোগে ডাক্তারগণও লকডাউন পালন করে যাচ্ছেন। দেখার যেন কেউ নেই। যার যার মতো করে সকলে চলছে।

জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২২টি। এরমধ্যে ১৮ জন চিকিৎসক দিয়ে এ হাসপাতালের কার্যক্রম চলে আসছে। সরেজমিন হাসপাতালের ইউনানী বিভাগের মেডিকেল অফিসার মো. বিদ্যুত ও তাজুল ইসলাম ও গাইনী বিভাগের ডাক্তারকে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

এছাড়া মেডিকেল অফিসার মৃদুল দাস, গাইনি বিভাগের চিকিৎসক উম্মে কুলসুম সম্পা, জরুরি বিভাগে কর্মরত ডা. শৈবাল বসাক ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাখাওয়াত হোসেনকে হাসপাতালে পাওয়া যায়।

তবে হাসপাতালের বাকি ১৩ জন চিকিৎসকই ছিলেন হাসপাতালে অনুপস্থিত। শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. সালাহউদ্দিনকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তার কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। সর্দিকাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারটি খোলা থাকলেও সেখানে কর্তব্যরত একমাত্র চিকিৎসক ডা. কনককে তার কক্ষে দেখা যায়নি। অর্থোপেডিকস চিকিৎসক ডা. উত্তর কুমার সাহার কক্ষেও তালা ঝুলতে দেখা গেছে। এমনকি হাসপাতালের অন্তত ১৩ চিকিৎসককে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার ঢাকায় থাকেন। বিভিন্ন স্থান লকডাউন থাকায় যানবাহনের অভাবে ডাক্তাররা কর্মস্থলে আসতে পারেননি। হাসপাতালে কতজন ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন জিজ্ঞেস করতেই তিনি ক্ষেপে যান। তিনি রাগ করে বলেন সকল ডাক্তারই উপস্থিত ছিল। অথচ নীচে ৩জন উপরে একজন ছাড়া কোন ডাক্তারই উপস্থিত ছিল না বুধবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার সময়।

সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কম। করোনার আতঙ্কের কারণে অনেক রোগী হাসপাতালের আসেন না। এ কারণে যে ক’জন চিকিৎসক হাসপাতালে আসছেন তাদের দিয়েই রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আর বিভিন্ন অঞ্চল লকডাউন থাকায় যানবাহনের অভাবে অনেক চিকিৎসক কর্মস্থলে আসতে পারছেন না। সরকারি নিয়মানুযায়ী কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলে কোন ডাক্তারই কর্মস্থলে আবাসনের জায়গা নেই বলে কেউ থাকছেন না। কর্মস্থলে না থাকায় লকডাউনের কারনে আর হাসপাতালেও আসতে হয় না ঐ সকল ডাক্তারদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares