Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

মুন্সীগঞ্জে কি হটস্পট হচ্ছে?

রির্পোটারের নাম 385 বার
আপডেট সময় : Monday, May 4, 2020

3

মুন্সীগঞ্জের আরও ৭২ জনের নমুনা সোমবার ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় সদর ৩১, শ্রীনগর উপজেলায় ১০, সিরাজদিখান উপজেলায় ৮, লৌহজং উপজেলায় ৩, টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় ৬ এবং গজারিয়া উপজেলায় ১৪ জনের নমুনা রয়েছে। রবিবার দিনভর এই নমুনা সংগ্রহ করে তা মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে সংরক্ষণ করে আজ সোমবার সকালে ঢাকার নিপসম -এ পাঠানো হয়।
এই জেলায় নিয়ে এপর্যন্ত ১ হাজার ২২টি নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হয়। এপর্যন্ত ৭৮৭টি রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬৬ জনের। অন্যান্য জেলার তুলায় যেভাবে মুন্সীগঞ্জে করোনা সংক্রমিত হচ্ছে- তাই অনেকেই প্রশ্ন করছেন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরের পরে মুন্সীগঞ্জ কি করোনার হটস্পট হচ্ছে?

সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নতুন কোন রিপোর্ট আসেনি। সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ সভ্যতার আলোকে জানান, নিপসন বলেছে- ঢাকা থেকেও কিছু নমুনা তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, তাই তাদেরও লোড বেড়ে যাওয়ায় সমস্যা হয়েছে। কারণ সক্ষমতার চেয়ে নমুনা বেশী। এছাড়া মুন্সীগঞ্জেরও নমুনা এখন বেশী যাচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ থেকে ররিবার পাঠানো হয়েছে ১১৮টি নমুনা।

আর আইইডিসিআর এ ২৮ এপ্রিলের বাকী পেডিং রিপোর্টও পাঠায়নি। সিভিল সার্জন জানান, নিপসম বলতে রিপোর্ট কিছু সন্ধ্যার দিকে দেয়ার চেষ্ট করবে।

এদিকে রবিবার মুন্সীগঞ্জে নতুন করে রবিবার সর্বোচ্চ তিন পুলিশ ও স্বাস্থ্য সিভিল সার্জন অফিসের ৭জনসহ আরও ৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ২৩, সিরাজদিখান উপজেলায় ৬ জন, গজারিয়া উপজেলায় ৭ জন, শ্রীনগর উপজেলায় ১১ জন এবং লৌহজং উপজেলায় ২ জন। এই নিয়ে জেলায় শনাক্ত হয়েছে ১৬৬ জন। যার মধ্যে ৭ জন মারা গেছেন।
সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ সভ্যতার আলোকে জানান, ১ মে পাঠানো নমুনার ৬৬ জনেরই রিপোর্ট এসেছে। এছাড়া ৩০ এপ্রিলের পেন্ডিং ১ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এই ৬৭ জনের রিপোর্টে নতুন ৪৫ জনের পজেটিভ এবং পুরনো ৭ জনের মিলে ৫২ জনের পজেটিভ এসেছে। বাকী ১৫ জনের এসেছে নেগেটিভ। ‘নিপসম’ থেকে এই রিপোর্ট আসে।
এদিকে বিকালে আইইডিসিআর থেকে ২৮ এপ্রিলের পাঠানো ৩২ নমুনার মধ্য থেকে ১১ জনের রিপোর্ট পাওয়া যায়। যার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় আরও ৩ জনের পজেটিভ এসেছে। বাকী ৮ জনের নেগেটিভ এসছে। এছাড়া ‘নিপসম’ থেকে ২ মে পাঠানো ১১টির মধ্যে ৯ টি রিপোর্ট এসছে। এই রিপোর্টে ১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং ৮ জনের নেগেটিভ এসেছে। বিকালের রিপোর্টে চার জনের পজেটিভ এসেছে। এরা সকলেই সদর উপজেলার। ৯৫০ পাঠানো ৭৮৭টি রিপোর্ট পাওয়া গেছে। করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৬৬ জনের। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরে ৬৮, টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় ১৩, সিরাজদিখানে ২৯, লৌহজং উপজেলায় ১৫, শ্রীনগর উপজেলায় ২২, গজারিয়া ১৯ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগে ২৯ করোনা-
মুন্সীগঞ্জে রবিবার সিভিল সার্জন অফিসের ৬ জনসহ জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের ১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে দু’জন চিকিৎসক, জেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর, সেকমো, নার্স, ব্রাদার, স্বাস্থ্যকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স চালক, আয়াসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ সভ্যতার আলোকে জানান, এই নিয়ে জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের ২৯ জনের করোনা শনাক্ত হলো। এছাড়া জেলায় রবিবার সর্বোচ্চ সংখ্যক ৪৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। পুরো জেলায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত সংখ্যা ১৬৬। এর মধ্যে মারা গেছেন ৭ জন।

রবিবার শনাক্ত হয়েছে অফিসটির প্রধান সহকারী (বড় বাবু) আব্দুল আওয়াল (৪৮), অফিস সহকারী আজিজ গাজী (৫৬), স্টোরকিপার ওবায়দুর রহমান (৩৫), ইপিআই সুপার আরিফুর রহমান(৪৩), অফিস সহকারী পপি দাস (৩২) ও নৈশ প্রহরী নরুল হক (৫৮)। এর আগের দিন
মুন্সীগঞ্জ জেনালের হাসপাতালে নতুন করেন শনাক্ত হয়েছে সিনিয়র স্টাফ নার্স শিউলী আকার (৪০), মুন্সীগঞ্জ জেনালের হাসপাতালের দুই অ্যাম্বুলেন্স চালক মনির হোসেন (৫২) ও জসিমউদ্দিন (৫২) ।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫ জনের রবিবার করেনা শনাক্ত হয়েছে। এরা হলেন-আয়া সকিনা বেগম (৩৫), পরিচ্ছন্ন কর্মী মি. ববি (৩০), এমএলএসএস মো. হোসেন (৩১), কম্পাউন্ডার কামাল উদ্দিন (৪৫) ও কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মো. সোয়ালাইমান (৪০)। এর আগে হাসপাতালটির দুই চিকিৎসকসহ আরও ৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়। রবিবার করোনা শনাক্ত হয়েছে- শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী আবুল হোসেনের (৩৫)।
সাধারণের স্বার্থে করনোর দুর্যোগে তাদের এই ত্যাগ জাতি মনে রাখবে।

সিভিল সার্জন অফিস ফাঁকা-
মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস এখন এক রকম ফাঁকা। সিভিল সার্জন এবং তার দুই সহকারী ছাড়া আর তেমন কেউ নেই। রবিবার অফিসটির ছয় জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদের রির্পোাট নেগেটিভ এসেছে। এছাড়াও সিভিল সার্জনের পিএস মিজানুর রহমান, ইপিআই’র প্রেমচাঁদ মির্জা এবং পরিখ্যানের দায়িত্বে থাকা আব্দুল কাদেরের নেগেটিভ এসেছে। এই তিন জনই রবিবার সিভিল সার্জনের সাথে অফিসে ছিলেন। সিভিল সার্জনের চালক জেনারেল হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালাচ্ছেন। তাই মনির হোসেন তার গাড়ি চালাতেন। মনির হোসেনের করোনা শনাক্ত হওয়ায় গাড়িও জীবানুনাশক দিয়ে পরিস্কার করা হয়। তাই সিভিল সার্জন রবিবার পায়ে হেটে অফিস থেকে বাসায় গমন করেন।  সিভিল সার্জন সভ্যতার আলোকে বলেন, নমুনাগুলো যে ফরমেটে টাইপ করে ঢাকায় পাঠানোর জন্য রেড করবে সেই সেই লোকেরও অভাব। তারপরও কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে।

গজারিয়ায় ৩ রোগী বাড়ি ফিরেছে-
গজারিয়ায় প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়া তিন জন বাড়ি ফিরেছে। মুন্সীগঞ্জে প্রথম দিন গত ১০ এপ্রিল করোনা শনাক্তের পর গজারিয়ার তিনজন কুর্মিটোলা করোনা হাসপাতালে ভর্তি হন। সুস্থ হওয়ায় তাদের হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন। করোনা জয়ের খুশির আনন্দের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেকমো মো. লিয়াকত ও সহকারী সেবক আব্দুল জলিল এবং লক্ষীপুরা গ্রামের ব্যাসায় ইয়াসিন মিয়া রবিবার বাড়ি ফিরেছেন।
তবে চিকিৎসকগণ তাদের আরও এক সপ্তাহ বাড়িতে রেস্ট নিয়ে আরেকটি পরীক্ষা করতে হবে। সে পরীক্ষায় নেগেটিভ আসলেই তাদের পুরোপুরি সুস্থ ঘোষণা করা হবে। গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শামিমা বলেন, একটি রিপোর্ট নেগেটিভ এসছে। বর্তামানে সুস্থ আছেন। তাই আরেকটি তাদের ছুটি দেয়া হয়। সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেকমোর ও ব্রাদারের সাথে কথা হয়েছে। তারা খুশি। এক সপ্তাহ পরে রিপোর্ট হওয়ার প্রেক্ষিতে তারা কাজে যোগদান করতে পারবেন।

-সভ্যতার আলো


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares