Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

মুন্সীগঞ্জে ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, পুরোদমে চলছে কারেন্টজাল উৎপাদন

রির্পোটারের নাম 63 বার
আপডেট সময় : Thursday, April 9, 2020

5

ডেস্ক রির্পোট, ডেইলি মুন্সীগঞ্জঃ চলতি করোনা ভাইরাস মহামারিতে মুন্সীগঞ্জে জেলা লকডাউন ঘোষণা না করা হলেও জেলার গ্রামে গ্রামে রাস্তাগুলো ব্যারিকেড দিয়ে জরুরি যানবাহন চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করে একটি গোষ্ঠী ফায়দা নিচ্ছে। অপরাধ প্রবণতা বাড়ার শঙ্কা করছেন অনেকেই। এরই মধ্যে মুন্সীগঞ্জ শহর লাগোয়া কারেন্টজাল উৎপাদন ও বিপপন এলাকা হিসেবে পঞ্চসার ইউনিয়নে মনোফিলামেন্ট তৈরির নামে ব্যবসায়ীরা কারেন্টজাল উৎপাদন শুরু করেছেন পুরোদমে। এলাকার প্রতিটি রাস্তায় কারেন্টজাল ব্যবসায়ীরা গাছ ও বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে জরুরি প্রয়োজনে এবং পুলিশের গাড়ি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তারা কারেন্টজাল তৈরি করছেন পুরোদমে। কেননা সামনে বর্ষা মৌসুম। এই সময়ে কারেন্টজাল ব্যবসা জমজমাট থাকে।

শুধু তাই নয়, তারা ব্যারিকেড সৃষ্টি করে এলাকায় চা, সিগারেট ও পানের দোকানগুলোতে দলবেঁধে আড্ডা এবং তাস খেলার নামে জুয়ার আসর বসিয়েছেন। করোনাও তাদের দমাতে পারছে না। এই ঘটনায় মানুষের সমস্যা ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যেদের অপরাধ রোধ ও তাদের দায়িত্ব পালনে বাঁধার সম্মুখিন হচ্ছেন। মাদক ব্যবসায়ীরাও নির্বিঘ্নে মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। সেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তিরা বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দিতে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছেন।

এই বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) গাজী মো. সালাহউদ্দিন তাঁর ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, সম্মানিত মুন্সীগঞ্জ সদর থানাবাসী লকডাউন মানে পাড়া-মহল্লার ঢোকা বা বাহির হওয়ার রাস্তায় বাঁশ দিয়ে আটকে রেখে ভেতরে সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে আড্ডা দেওয়া বা চা-কফি পান করা নয়। লকডাউন মানে ঘরে তালাবদ্ধ থাকা। অনেক এলাকায় রাস্তায় স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে, যা মোটেই ভালো হয়নি। রাস্তা দিয়ে অনেক জরুরী বিভাগের গাড়ি, নিত্যকার প্রয়োজনীয় খাবারের গাড়ি, পুলিশ, টেলিযোগাযোগ তথা তথ্যপ্রযুক্তি, সংবাদপত্র, এম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, কুরিয়ার সার্ভিস, ব্যাংকের গাড়ি চলতে হয়।

গভীর রাতে পুলিশের টহল গাড়ি অলিগলিতে যেতে হয়। অনেক গরীব মানুষ দুধ, সবজি, মাছ প্রতিদিন বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। অনেক প্রসূতি মায়েদের দ্রুত হাসপাতাল বা ক্লিনিক নিতে হয়। আমাদের ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতার সাথে কাজ করতে হবে। আমাদের দীর্ঘ দিন ধরে লক ডাউন থাকতে হতে পারে, কিন্তু জীবন জীবিকার জন্য আমার/আপনার সবার চলতে হবে। আমার/আপনার সবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। খুব জরুরী কাজ না থাকলে ঘরের বাইরে বের হবেন না।

রাস্তা বন্ধ করার চেয়ে রাস্তায় মানুষের বাহির হওয়া বন্ধ করার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অপ্রয়োজনে গাড়ি ও মানুষের চলাচল বন্ধ করুন। প্রতিদিনের ন্যায় পুলিশের চেকপোস্ট অব্যাহত থাকবে। তুচ্ছ কারণে ঘরের বাইরে বের হবেন না। প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া গাড়ি ও মোটর সাইকেল আটকানো অব্যাহত থাকবে। অনেকে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। যে কোন তথ্যের জন্য যে কেউ আমার ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ করতে পারবেন। মুন্সীগঞ্জ সদর থানাবাসীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচাজ মো. আনিচুর রহমান রহমান বলেন, প্রশাসন থেকে লকডাউন ঘোষণা হয়নি। জনগণকে জিম্মি করে এবং তাদের দুভোর্গ সৃষ্টি হয় এমন কোন কাজ করা যাবে না। প্রয়োজন হলে প্রশাসনই করবে-স্থানীয়দের এতো উৎসাহিত হতে হবে না। তারা ঘরে ঘরে থাকুক।

যারা রাস্তায় স্থায়ীভাবে ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করেছেন তাদের এগুলো স্ব-উদ্যোগে সরিয়ে নেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, এই করোনায় ভাইরাসেও পঞ্চসারের চরমুক্তারপুরে ৫ সিমেন্ট ফ্যাক্টরিসহ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ না হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বায়ু ও নদী দূষণকারী সিমেন্ট ফ্যাক্টরি টেক্সটাইল মিলস, লবন ফ্যাক্টরিসহ কারখানাগুলোতে অন্তত ২০ হাজারের উপরে শ্রমিক কাজ করছে দিনরাত। এতে করে শ্রমিকসহ নদী ও আশপাশ এলাকায় করোনায় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী গোলাম মোস্তফা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর ইউনিয়নের ভেতরে ৫ টি সিমেন্ট ফ্যাক্টরিসহ বেশ কিছু কল-কারখানা রয়েছে। হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করছে। এসব শ্রমিকরা করোনা ঝুঁকিতে আছে। করোনার ঝুঁকি এড়াতে এগুলো বন্ধ করে দেয়ার জন্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

সূত্রঃ অবজারভার


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares