Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

মুন্সীগঞ্জে যাতায়াতে কতোটা নিরাপদ গণপরিবহন?

এম এম রহমান 426 বার
আপডেট সময় : Sunday, June 7, 2020

5

গণপরিবহনে যাতায়াত করেন অজান্তেই সংক্রমিত হচ্ছেন না তো প্রানঘাতি করোনা ভাইরাসে ? কে জানে – এর আগের যাত্রীর শরীরে করোনা ছিলো কি না। মুন্সীগঞ্জে দীর্ঘ আড়াই মাস অঘোষিত লক ডাউন চললেও সাধারন মানুষের মধ্যে সচেতনতাবোধ এবং বেপরোয়া চলাফেরায় আজও কোন পরিবর্তন আসেনি। শহরের রাস্তায় সিএনজি, অটো রিক্সা মিশুকসহ অন্য সব পরিবহনই চলছে। বেশি চলছে ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা ও মিশুক। ঘর থেকে বের হওয়া মানুষের যাতায়াতের অবলম্বন এখন সিএনজি আর অটোরিক্সাসহ নানা ধরনের গণপরিবহন। কিন্তু করোনা রোধে এসব যানবাহনে নেই জীবানুনাশক কোন ব্যবস্থা। ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা সিএনজিসহ হালকা যানবাহনে মানা হচ্ছেনা শাররীক দূরত্ব। একত্রে গাদাগাদি ও জটলা তৈরী করে এসব পরিবহনে উঠছে যাত্রীরা। অনেক যাত্রী ও পথচারিদের নেই কোন প্রয়োজনীয় মাস্ক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম। অন্যদিকে নদীপথে লঞ্চঘাট এলাকা এবং শহরের ব্যাংক পাড়াগুলোতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় । সেখানেও মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সারাদিন অসংখ্য মানুষ একই সিএনজি এবং ইজি বাইক, মিশুক ব্যবহার করে। এখন প্রশ্ন উঠেছে কতোটা ঝুঁকিমুক্ত এসব বাহন? যাত্রীরা বলছেন, সংক্রমনের ঝুঁকি জেনেও এসব বাহনে চড়তে বাধ্য তারা। চিকিৎসকরা বলছেন, দিনদিন যেভাবে শহরের রাস্তায় মানুষ সিএনজি এবং অটোরিক্সায় চলাচল করছে তাতে করোনা সংক্রমন আরো বাড়তে পারে।

একাধিক যাত্রী জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়েই তারা অটো মিশুকে যাতায়াত করে। তবে এসব গণপরিবহনে যাত্রী উঠানোর আগে জীবানুনাশক স্প্রে করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী বহন করলে করোনা সংক্রমন রোধ করা সম্ভাব হবে। যাত্রীদের সুরক্ষায় করোনা সংক্রমন রোধে এখনই পরিবহনগুলোতে জীবানুনাশক রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে সক্রিয় হওয়ার তাগিদ তাদের।

ব্যাটারি চালিত একাধিক মিশুক ও ইজি বাইক চালক জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে মিশুকে ১ জন এবং অটো এবং সিএনজিতে ২/৩ জনের অধিক যাত্রী নেয়া যাবেনা। তবে যাত্রীরা আগের পরিমান ভাড়া দিচ্ছে এতে করে তারা বেশী ভাড়ার লোভে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে। কোন কোন মিশুক/সিএনজিতে জীবানুনাশক স্প্রে থাকলেও অধিকাংশ গণপরিবহনে নেই কোন স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোন ব্যবস্থা।

জেলা সিভিল সার্জন ডা: আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমানে যে অবস্থা আমরা এখন করোনা সংক্রমনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদেরকে অবশ্যই কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যেকোন পরিবহনে যাত্রী কিংবা চালক সকলকেই মাস্ক পড়তে হবে। প্রতিটা গণপরিবহনে জীবানুনাশক স্প্রে এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। একটা গাড়ীতে সারাদিন অনেক যাত্রী উঠা নামা করে। যাত্রীদের পরিহিত কাপড়ের মাধ্যমে জীবানু ওখানে লেগে থাকতে পারে। অর্থাৎ যে যাত্রী যেখানে বসবে সেই জায়গাটা স্প্রে করতে হবে। যাত্রী নেমে গেলে ওই জায়গাটাও স্প্রে করতে হবে। পাশাপাশি জায়গাটা ভালো করে মুছে দিতে হবে। এটা না করলে মহামারি এই করোনা সংক্রমন বেড়ে যাওয়ার বিরাট ঝুঁকি থেকেই থাকে।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহাম্মেদ বলেন, গণপরিবহন চলাচলে

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে গনপরিবহনগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে। সে লক্ষে গত কয়েকদিন ধরে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের কাছে অভিযোগ আছে যে, প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে অনেকেই বেশী সংখ্যক যাত্রী বহন করে থাকে।আমরা এ বিষয়টির উপর দৃষ্টি রেখেছি। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার কার্যক্রম চলমান আছে । কেউ যদি সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যাত্রী বহন করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares