Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরের ভাসমান সবজির হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক 1122 বার
আপডেট সময় : Sunday, January 3, 2021

5

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে একাধিক পাইকারী সবজি বিক্রির হাট। প্রতিদিন এসব হাটের টাটকা সবজি স্থানীয় পাইকার আর কৃষকরা সরাসরি রাজধানী ঢাকার পাইকারী আড়ৎগুলোতে নিয়ে যাচ্ছে। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে মুন্সীগঞ্জ সারাদেশের শীর্ষে। এজন্য এই জেলার উৎপাদিত সবজির ব্যাপক চাহিদা সারাদেশ ব্যাপী। মুন্সীগঞ্জের বিষমুক্ত টাটকা সবজি অন্যান্য জেলার সবজির চেয়ে বেশী দামে রাজধানীর পাইকারী হাটগুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদিত শীতকালীন সবজি স্থানীয় পাইকার এবং কৃষকরা ট্রাকে করে ঢাকার কাওরান বাজার,শ্যামবাজার, যাত্রাবাড়ী এবং জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন কৃষি মার্কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী, রামপাল, মাহাকালি ,চরকেওয়ার ইউনিয়নের চরমশুরাসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে একাধিক ভাসমান সবজির হাট। এসব হাটে কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা জমি থেকে সবজি এনে ডোপে ভরে ট্রাকে করে ঢাকা নিয়ে যাচ্ছে। পাইকারদের কাছে বিক্রির চেয়ে হাটে নিয়ে বিক্রি করলে কৃষকরা বেশী লাভবান হচ্ছে। এজন্য শতকরা ৬০ জন কৃষক নিজেরাই সবজি প্যাকেট করে ঢাকার পাইকারী সবজির হাটে সরাসরি সবজি নিয়ে চলে যাচ্ছে। এসব অস্থায়ী ভাসমান হাটে কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা তাদের সবজিগুলোকে বড় বড় ডোপের মধ্যে ভরে সাঁজিয়ে রেখেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে সবজি প্যাকেটিং। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার আগেই এসব সবজি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয় তাদের। ভোর রাতে কাওরানবাজার, যাত্রাবাড়ী সবজি আড়ৎ, শ্যামবাজারে তোলা হয় এই সবজি। সেখানে বিক্রি শেষে আবার তারা সকালে চলে আসে। এভাবেই তারা প্রতিদিন এভাবে জেলার সবজি নিয়ে রাজধানীতে বিক্রি করছেন। বজ্রযোগিনী এবং মহাকালি, রামপাল এবং চরকেওয়ারের প্রায় ৩০ জন পাইকার এবং প্রায় শতাধিক বড় কৃষক নিয়মিত পাইকারী আড়ৎগুলোতে নিয়ে সবজি বিক্রি করছেন। তবে স্থানীয় ছোট ছোট কৃষকরা জেলার পাইকারী হাটে এসব সবজি তুলছেন। যেখানেই তারা সবজি তুলছেন দামও পাচ্ছে ভালো।

সবজি কেনা পাইকার ওসমান আলী জানান, প্রায় ২০ বছর ধরেই এভাবে এসব হাট থেকে সবজি কিনে ঢাকার কাওরান বাজার, শ্যামবাজার এবং যাত্রাবাড়ী আড়ৎ এ সবজি বিক্রি করে আসছি। ঢাকাসহ ঢাকার বাইরে মুন্সীগঞ্জ জেলার সব ধরনের সবজির চাহিদা বেশী। বিষমুক্ত সবজি হওয়াতে বেশী দামেই কিনছে মানুষ। আমরাও জেলার কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কিনে নিয়ে পাইকারী আড়ৎগুলোতে বিক্রি করে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছি। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ দিয়ে লাভ হচ্ছে ভালোই। তিনি আরো বলেন, কৃষকরাও আজকাল বেশী পরিমান সবজি ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে কৃষকরা আরো বেশী লাভবান হচ্ছে।

কৃষক আমিনুল জানান, সদরের বড় বড় কৃষকরা এখন স্থানীয় পাইকারদের কাছে সবজি কমই বিক্রি করছেন। কারন পাইকারদের কাছে যে সবজিটা বিক্রি করা হয় সেই সবজিটা পরিবহন খরচ দিয়ে ঢাকার সবজি আড়ৎগুলোতে নিয়ে গেলে সব খরচ বাদ দিয়ে সবজিতে কেজি প্রতি ৫ টাকা আয় থাকে। এছাড়াও অন্যান্য সবজি বিক্রি করেও বেশী আয় করা যায়। এজন্য এলাকার অধিকাংশ কৃষকও আমার মত সরাসরি সবজি নিয়ে ঢাকায় পাইকারী আড়ৎগুলোতে ছুটে যাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদন করছে। এবছর আবহাওয়া ভালো থাকার কারনে ফলনও ভালো হয়েছে। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে মুন্সীগঞ্জে উৎপাদিত সবজির চাহিদা এবং দাম দুটোই বেশী। স্থানীয় পাইকাররা কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কিনে নিয়ে ঢাকার সব পাইকারী আড়ৎগুলোতে বিক্রি করে। পাশাপাশি জেলার কৃষকরাও এখন সবজি নিয়ে সরাসরি শ্যামবাজার, কাওরান বাজার এবং যাত্রাবাড়ী আড়ৎ এ যাচ্ছে। এ করে কৃষকরা সবজি বিক্রি করে বেশী আয় করতে পারছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares