Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

শীতকালে করোনা পরিস্থিতি হতে পারে ভয়াবহ

অনলাইন ডেস্ক 27 বার
আপডেট সময় : Wednesday, August 19, 2020

3

দেশে করোনাভাইরাস শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আসার লক্ষণ দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। উপরন্তু তারা বলছেন, শীতকালে দ্বিতীয় ধাপে মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই এখন পরিকল্পনা করা উচিত যাতে শীতকালে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সামান্য কমে এলেও এতে সন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই। করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তা, মানুষের চলাচলের ওপর হস্তক্ষেপ না করা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে সামনের শীতে ভাইরাসটি দ্বিতীয় ধাপে ও ভয়াবহ আঘাত হানতে পারে। মারাত্মক এ ভাইরাস থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে সরকারকে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে সচেষ্ট থাকার পাশাপাশি করোনার কার্যকর টিকা আনার ব্যাপারে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, দেশ থেকে আপনা আপনি করোনার চলে যাওয়া নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর করা মন্তব্যের কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে বলে আমার মনে হচ্ছে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোন প্রসঙ্গে এবং কীভাবে তা বলেছেন আমি জানি না। আমি এও জানি না তিনি কোনো বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়েছেন কিনা। মানুষ এখন করোনা নিয়ে খুব কমই ভাবে এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই সর্বত্র চলাফেরা করছে। আমার ধারণা, ভাইরাসটির নির্মূলের বিষয়ে তিনি এজন্য এতটা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন।

ডা. আবদুল্লাহ বলেন, মন্ত্রী হয়তো হার্ড ইউমিনিটির বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন। তবে তার জন্য জনগণের একটি বড় অংশকে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে হবে যা খুব সহজ কোনো বিষয় নয়। যেহেতু আমাদের পরীক্ষা করার সক্ষমতা খুবই কম। এখন পর্যন্ত ঠিক কী পরিমাণে লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সে সম্পর্কেও আমাদের কাছে সঠিক তথ্য নেই। আমি মনে করি না যে ভাইরাসটি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে আমরা হার্ড ইউমিনিটির কথা ভাবতে পারি।

ডা. আবদুল্লাহ আরো বলেন, হার্ড ইউমিনিটির কথা চিন্তা না করে আমাদের দেশের জনসংখ্যার আকার এবং ঘনত্ব বিবেচনা করে ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে কার্যকর টিকা নিয়ে আসার বিষয়ে আরো মনোযোগী হওয়া উচিত।

আশঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদুল আজহার আগে বিপুলসংখ্যক লোক দেশের বিভিন্ন করোনার হটস্পট ছেড়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। এতে করে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। আমাদের করোনা পরিস্থিতি এবং সংক্রমণের প্রবণতা কঠিনভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা কার্যকর টিকা পাচ্ছি এবং তা আমাদের সাশ্রয়ী ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আসছে, তত দিন পর্যন্ত আমাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম উল্লেখ করে ডা. আবদুল্লাহ বলেন, এতে আত্মতৃপ্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। কেউ বলতে পারছে না ভাইরাসটি আসলে কবে নির্মূল হবে। অন্য অনেক ভাইরাসের মতো করোনাও দীর্ঘদিন ধরে থাকতে পারে। শীতে যা আরো তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বলেন, মন্ত্রী এক ‘বিভ্রান্তিকর’ মন্তব্য করেছেন যা মানুষকে সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি না মানার বিষয়ে উৎসাহিত করতে পারে।

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি না কোনো টিকা ছাড়াই কোভিড-১৯ মহামারি বিদায় নিতে পারে। আমাদের এটা মানতে হবে যে করোনা একটি মহামারি। একটি অন্যান্য মৌসুমি ভাইরাসের মতো না।

এ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, একটি নির্দিষ্ট দেশে বা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া পানিবাহিত রোগ হেপাটাইটিস-ই এর মতো সাধারণ মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসতেই অনেক সময় লেগেছে। আর করোনার মতো ভয়ানক মহামারি যা ইতোমধ্যে বিশ্বের সবকটি মহাদেশের প্রায় ২০০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তা থেকে আপনা আপনি আমরা কীভাবে মুক্তি পাওয়ার কথা ভাবতে পারি?

বেনজির বলেন, চীনই একমাত্র দেশ যারা এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শতভাগ সফল বলে মনে হচ্ছে। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১৫০টি দেশ ৪০ থেকে ৯০ ভাগ সাফল্য দেখিয়েছে। তবে সংক্রমণ হার কমাতে ব্যর্থ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। তিনি বলেন, যেসব দেশ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে সাফল্য দেখিয়েছে তারা সামাজিক দূরত্ব, কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং, আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন এবং লকডাউনের মতো প্রতিরোধ ব্যবস্থা কঠোরভাবে মেনে চলেছে। এর মধ্যে আমরা কোনো নিয়মই সঠিকভাবে মানতে পারিনি। করোনা নির্মূলে টিকা কেনার প্রচেষ্টার পাশাপাশি আমাদের এখন এ স্বাস্থ্যবিধিগুলো কঠোরভাবে পুনরায় মেনে চলতে হবে। অন্যথায়, কোনো কিছুই আমাদের দীর্ঘ সংক্রমণ চক্র থেকে বাঁচাতে পারবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক মুজাহেরুল হক বলেন, যেসব দেশে এখনো করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যু উভয়ই খুব বেশি তার মধ্যে দেশও রয়েছে। তাই আমাদের এটা মনে করার উচিত হবে না যে ভাইরাসটি কোনো টিকা এবং সঠিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এমনি এমনি দেশ থেকে নির্মূল হয়ে যাবে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের সঠিক কৌশল এবং পরিকল্পনা দরকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares