Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক 75 বার
আপডেট সময় : Tuesday, April 27, 2021
বিধিনিষেধেও স্বরূপে ঢাকা

7

শপিং মলসহ সব ধরনের বিপণিবিতান খোলার এক দিন পরই বদলে গেছে রাজধানী ঢাকার চিত্র। গতকাল সোমবার বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত সর্বত্র ছিল মানুষের ভিড়। বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও বেড়েছে। এতে নগরীর কোথাও কোথাও যানজট দেখা গেছে। ফলে বিধিনিষেধের মধ্যেও রাজধানী ফিরেছে চিরচেনা রূপে।
এদিকে, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের নানামুখী প্রচার ও বিধিনিষেধের পরও কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এই পরিস্থিতিতে কোভিড সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কঠোর বিধিনিষেধে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষ ঢাকা ছেড়ে গিয়েছিল গ্রামে, তারাই এখন ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গত রবিবার রাজধানীর আশপাশের জেলা চাঁদপুর, শরিয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষ ঢাকায় এসে কাজে যোগ দিয়েছে।

গতকাল সোমবার যশোর, খুলনা ও গোপালগঞ্জ এবং বাগেরহাট জেলার মানুষ ভাড়া গাড়িতে ঢাকায় ফেরার চেষ্টা করে। এ কারণে মহাসড়ক ও শিমুলিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীদের বাড়তি চাপ ছিল বলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কর্তৃপক্ষ সূত্র জানিয়েছে।
শপিং মল খোলার প্রভাব পড়েছে রাজধানীসহ সারা দেশে। আগাম ঈদ কেনাকাটা শেষ করতে অনেকে সকালেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন। লক্ষ্য দ্রুত কেনাকাটা সেরে বাসায় ফিরে ইফতার করা। এ কারণে বিধিনিষেধের মধ্যেও গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ভিড় ছিল তুলনামূলক বেশি। তাই অনেকেই বলছেন, স্বরূপে ফিরেছে রাজধানী ঢাকা। গতকাল সোমবার মৌচাক মার্কেট, ফরচুন শপিং মল, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই ঈদের পোশাক কেনা শুরু করেছেন। বিপণিবিতানগুলোর কোথাও কোথাও ভিড় দেখা গেছে।

মৌচাক মার্কেটের পোশাক ব্যবসায়ী হান্নান বলেন, ‘রাত ৯টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা খুশি। আশা করি, এখন কিছুটা বিক্রি বাড়বে। মার্কেট ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকলে বিক্রিই হতো না। কারণ রোজায় ক্রেতারা মার্কেটে আসবে ৫টার পর।’
মার্কেটটির আরেক ব্যবসায়ী মেহেদী বলেন, ‘গত বছর আমরা অনেক লোকসান গুনেছি। মাত্র ১৫ দিনের মতো মার্কেট খোলা ছিল। তার ওপর ক্রেতা ছিল না। এবার ভালো বিক্রির আশায় নতুন করে বিনিয়োগ করেছি। গত বছরের লোকসান পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া যাবে না। তার পরও আমরা আশা করছি, লোকসান কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা যাবে।’
ফরচুন শপিং মলে কেনাকাটা করতে আসা নীলিমা নামে এক নারী বলেন, ‘ঈদের কেনাকাটা করতেই হবে। পরে এলে মার্কেটে ভিড় বেশি হবে। তাই কিছুটা নিরিবিলি পরিবেশে কেনাকাটা করতে আগেই মার্কেটে চলে আসলাম।’
নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, ‘এখনো গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এ কারণে দূরের মানুষ আসতে পারছে না। যারা কাছের মানুষ তারাই আসছে। তবে গণপরিবহন চালু হলে ক্রেতার সংখ্যা আরো বাড়বে।’
এদিকে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে স্বাভাবিক সময়ের মতোই মানুষকে চলাচল করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রায় প্রতিটি সড়কেই যানজট লক্ষ করা গেছে। রামপুরা, বাড্ডা, পল্টন, বনানী, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট সড়কে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও রিকশার আধিক্য ছিল। অন্য সড়কেও গাড়ির চাপ বেশি থাকায় প্রতিটি সিগন্যালেই যানজটের মুখে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।
এ ছাড়া সড়কে পুলিশের পক্ষ থেকে এত দিন বিভিন্ন চেকপোস্টে জন ও যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও গতকাল তা দেখা যায়নি। তবে ছাড় পাচ্ছেন না মোটরসাইকেল চালকরা। মোটরসাইকেলে একাধিক আরোহী থাকলেই থামানো হচ্ছে, চাওয়া হচ্ছে মুভমেন্ট পাস।
রামপুরা এলাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বরত ট্রাফিক উপপরিদর্শক (টিএসআই) বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ (গতকাল) সড়কে গাড়ি অনেক বেশি। মূলত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অনেক বেসরকারি অফিস খুলে দেওয়ায় সড়কে গাড়ির চাপ বেড়েছে।
এদিকে, এ পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, শপিং মল খোলায় মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। এতে কোভিড নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিধিনিষেধ কাজে আসবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, গত বছর দীর্ঘদিন লকডাউন ছিল দেশে। তবু করোনার সংক্রমণ কমানো যায়নি। ফলে মানুষের অনেক ক্ষতি হলেও লাভ হয়নি।
ডা. বেনজির আহমেদ আরো বলেন, গত এক বছরে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সামান্যও উন্নতি হয়নি, বরং কমেছে। আইসোলেশন, কোয়ারেন্টাইন প্রথম দিকে যতটা মানা হচ্ছিল, এখন তাও মানা হচ্ছে না। পরিস্থিতি যেমন চলছে তাতে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়ার সম্ভাবনা আছে। শপিং মল খুলে দেওয়ায় মানুষ যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছে তা ভয়াবহ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হেলথ অ্যান্ড হোফ কেয়ার হসপিটালের চেয়ারম্যান ও জনস্বাস্ব্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে, যা আগের চেয়ে ভয়াবহ। করোনা নিয়ন্ত্রণে সামগ্রিক কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে সংক্রমণ, মৃত্যু বাড়ছে।
এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, মানুষ মাস্ক পরতে চায় না। তাদের মাস্ক পরতে উৎসাহিত করতে হবে। লাঠির ভয় দেখিয়ে মানুষকে মাস্ক পরাতে বাধ্য করা যায় না। জনসম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো লকডাউন সফল হয় না। আবার লকডাউন শেষ হওয়ার আগেই শপিং মল খুলে দেওয়াই করোনার কথাটি মানুষ ভুলতে বসেছে।
এদিকে, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। রবিবারের চেয়ে গতকাল সোমবার সকাল থেকেই মানুষের চাপ বেড়েছে এই নৌরুটে। মূলত ২৫ এপ্রিল থেকে মার্কেট খুলে দেওয়ায় অনেকেই ছুটছেন ঢাকার উদ্দেশে।
আসাদুর রহমান নামে ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, ‘ঢাকায় দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করি। রবিবার মার্কেট খুলেছে, তাই কাজে যাচ্ছি। বাস বন্ধ থাকায় তিন থেকে চার গুণ বাড়তি ভাড়া দিয়ে ঘাটে আসতে হয়েছে।’
বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ব্যাবস্থাপক মো. সালাহউদ্দনি প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, গণপরিবহন চালু না থাকলেও ছোট ও মালবাহী ট্রাক পার করার জন্য সাতটি ফেরি চালু আছে। দোকানপাট খোলার পর ফেরিতে ঢাকাগামী যাত্রীদের চাপ বেড়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares