Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

স্বাস্থ্যবিধি মানায় সচেতনতা জরুরি

সম্পাদকীয়
আপডেট সময় : Tuesday, November 10, 2020
স্বাস্থ্যবিধি মানায় সচেতনতা জরুরি

5

দেশে লকডাউনের শুরুতে করোনা নিয়ে মানুষ ব্যাপক সচেতন ছিল। কিন্তু দিন যতই গড়াচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে ততটাই উদাসীনতা বেড়েছে। অথচ একজনের উদাসনীতা যে অন্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে বিষয়টি অনেকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসে কর্মরত ও আগত সেবাগ্রহীতারা ছাড়াও সব জায়গায় মাস্ক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা করে এর আগে পরিপত্র জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মসজিদে সব মুসল্লির মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি ওয়াক্ত নামাজের আগে মসজিদের মাইকে প্রচার চালানোসহ এ বিষয়ে মসজিদের ফটকে ব্যানার প্রদর্শন মসজিদ কমিটিকে নিশ্চিত করতে হবে।

আসছে শীতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। সেই অনুযায়ী সরকারও নিচ্ছে নানা প্রস্তুতি, রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনাও। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সরকার প্রস্তুতি নিলেই চলবে না, প্রয়োজন জনসচেতনতা। মানুষ যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলছে তাতে মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কা সামলানো কঠিন হতে পারে। গত ২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভার বৈঠকেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী করোনা মহামারির দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন। এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের বিদেশফেরত বা আগতদের সবার করোনা টেস্ট এবং কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যে বাড়ছে চলতি মাসের পরিসংখ্যানে তা স্পষ্ট। ১ নভেম্বরে রোগী শনাক্ত হয় ১,৫৬৮ জন, ২ নভেম্বর ১,৭৩৬ জন, ৩ নভেম্বর ১,৬৫৯ জন, ৪ নভেম্বর ১,৫১৭ জন এবং ৫ নভেম্বর ১,৮৪২ জন। ৫ নভেম্বরের শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল গত ৫৬ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর ৬ নভেম্বর শনাক্ত হন ১,৪৬৯ জন এবং ৭ নভেম্বর ১,২৮৯ জন। এখন পর্যন্ত শনাক্ত হলেন ৪ লাখ ১৮ হাজার ৭৬৪ জন। আর করোনায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৬ হাজার ৪৯ জন। তাই আর অবহেলা নয়, বরং মানুষকে আরো সচেতন ও দায়িত্ববান হতে হবে। সামনের দুই মাসে করোনার পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। কারণ শীতে ঠান্ডাজনিত রোগ বেড়ে যায়, এর সঙ্গে করোনার প্রাদুর্ভাব সব জায়গাতেই বাড়তে পারে। আর এ সময়ে বৃদ্ধরা অনেক বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন। তাই তাদের প্রতি সবাইকে যত্নবান হতে হবে।

মনে রাখতে হবে, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।’ করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে কথাটি আরো বেশি প্রযোজ্য। তাই বাঁচতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কেবল আইন মানার জন্য নয়, নিজের জীবনের ঝুঁকি এড়ানোর জন্যও তা প্রয়োজন। ছোঁয়াচে এ রোগের কোনো প্রতিষেধক নেই। কবে ভ্যাকসিন আসবে, তারও নেই কোনো নিশ্চয়তা। এজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। আমরা চাই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ এই সংকট কাটিয়ে উঠুক।


এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares