Logo
ব্রেকিং নিউজ :
Wellcome to our website...

সময়মতো চিকিৎসায় কমে মৃত্যুঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক 74 বার
আপডেট সময় : Monday, July 19, 2021
সময়মতো চিকিৎসায় কমে মৃত্যুঝুঁকি
সময়মতো চিকিৎসায় কমে মৃত্যুঝুঁকি

5

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করতে হবে। নিতে হবে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ। আক্রান্ত রোগী এবং তার স্বজনদের বুঝতে হবে চিকিৎসকের যথাযথ পরামর্শে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বিষয়ে প্রতিদিনের সংবাদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. অসীম কুমার নাথ এসব তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, একজন রোগীর ফুসফুস যদি ৭০ শতাংশ বা তার ওপরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে যতই অক্সিজেন দেওয়া হোক না কেন, তাকে বাঁচানো কঠিন।

অসীম কুমার নাথ বলেন, শুধু রাজধানীর হাসপাতালগুলোর কথা বলছি না, সারা দেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র একই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারাই হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ারে (আইসিইউ) ভর্তি হচ্ছেন তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ রোগীই মারা যাচ্ছেন। অর্থাৎ এই পর্যায়ের রোগীরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিয়েও মারা যাচ্ছেন। কারণ একটিই তাদের ফুসফুস আক্রান্তের পরিমাণ অনেক বেশি। এ অবস্থায় অক্সিজেন দিয়েও কাভার করা যাবে না। আক্রান্ত রোগীকে অক্সিজেন দিলেও তো সেটা তার কাজে লাগবে না। কারণ শরীরে সরবরাহ করা অক্সিজেন তো ওই রোগীর ফুসফুসের রক্তের সঙ্গে মিশতে হবে। একই সঙ্গে ফুসফুসই যদি ৭০ শতাংশ কাজ না করে তাহলে হাজার হাজার লিটার অক্সিজেন দিয়েও কাজে আসবে না।

তাহলে করণীয় কী এ বিষয়ে এই চিকিৎসক বলেন, করোনার ক্ষেত্রে দুই জায়গায় বেশি নজর দিতে হবে। প্রথমটি হলো করোনায় আক্রান্ত হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য প্রত্যেকের মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব এবং টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। আর দ্বিতীয় পদক্ষেপটি হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত হলেও বেশি অসুস্থ হওয়ার আগেই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে হবে। এটা করলে আক্রান্তের ফুসফুসের ক্ষতি বেশি হবে না।

বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে অধ্যাপক অসীম কুমার বলেন, এরই মধ্যে রয়েছে টিকাদান, শতভাগ মাস্ক পরা এবং প্রাথমিক (আরলি) অবস্থায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। কেউ কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে বা সামান্য শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বাসায় অল্প অল্প করে সিলিন্ডারের অক্সিজেন নিতে থাকেন। তবে এতে তার উপযুক্ত চিকিৎসা হয় না। অনেক প্রতিষ্ঠান সিলিন্ডার বিক্রি করছে; সক্ষম ব্যক্তিরা এটা কিনে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এটাও একটি বড় সমস্যা।

এই চিকিৎসক আরও বলেন, প্রত্যেক এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার বা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান বা ইউপি মেম্বারকে এলাকার দায়িত্ব নিতে হবে। যারাই ঘর থেকে বাইরে বের হবেন তাদের সবাইকে মাস্ক পরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো কোভিড রোগী পাওয়া গেলে সে এলাকায় লাল চিহ্ন এঁকে দিতে হবে। পাশাপাশি এই আক্রান্ত পরিবারের যাবতীয় প্রয়োজনগুলো মেটাবেন ওই কাউন্সিলর বা মেম্বার। খাদ্য ও ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই সরবরাহ করতে হবে। এই কর্মসূচি টানা এক মাস চালিয়ে যেতে পারলে করোনার ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে (কন্ট্রোল) আসবে।

মুগদা হাসপাতালের এই পরিচালক বলেন, করোনার বিস্তার এখন সব জায়গায় হচ্ছে। ফলে চাপ এসে পড়েছে হাসপাতালের ওপরে। ওই সময়ে সব পর্যায়ের গণমাধ্যমের দৃষ্টি থাকে হাসপাতালগুলোর ওপরে। গণমাধ্যমে খবর ছাপা হয় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসার সুযোগ নেই। এই নেতিবাচক বার্তাটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছালে প্রাথমিক পর্যায়ের আক্রান্ত রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। কারণ আক্রান্ত রোগী ও তার পরিবার মনে করেন হাসপাতালে গিয়ে লাভ কী সেখানে তো কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না।

বগুড়ার শেরপুরের একজন রোগীর উদাহরণ টেনে ডা. অসীম বলেন, দেখেন ওই রোগীকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আনা হলো। প্রথমে মহাখালীর ডিএনসিসি করোনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তির সুযোগ নেই জানার পর রওনা দেয় ঢাকা মেডিকেলের দিকে। তাকে কিন্তু ছোট একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ রাখা আছে। ডিএমসিতে পৌঁছানোর আগেই অক্সিজেন ফুরিয়ে পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হলো। ওই রোগী শেরপুর থেকে যখন রওনা দিয়েছিলেন তখন অক্সিজেন লেবেল ছিল ৪০-৫০ শতাংশ। টানাহ্যাঁচড়ার কারণে রোগীটি মারা যাওয়ায় নেতিবাচক একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়ল। এতে প্রমাণিত হলো হাসপাতালে সক্ষমতা না থাকায় বিনা চিকিৎসায় একজন রোগী মারা গেছেন। তবে আমি চিকিৎসক হিসেবে বলছি, ওই রোগীটির যে ক্রিটিক্যাল অবস্থা তাতে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হলেও মারা যেতেন।

তবে কেউ করোনা আক্রান্ত হলে প্রাথমিক অবস্থায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে বলে জানান এই চিকিৎসক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com
0Shares
0Shares